নিউজটি শেয়ার করুন

পতেঙ্গার সেই সৌন্দর্য হারিয়ে গেছে দোভাষ শাসনের জাঁতাকলে (১ম পর্ব)

সিপ্লাস প্রতিবেদক: উপরের ছবিটিতে মিটমিট করে আলো জ্বলছে। দর্শক এটি কোনো গ্রাম-গঞ্জের বিল-ঝিলের ছবি নয়। এটি দেশের দ্বিতীয় সমুদ্র সৈকত চট্টগ্রামের পতেঙ্গার শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার ছবি। ছবিটিতে মিটমিট করে জ্বলতে থাকা আলোগুলো হকারীদের জ্বালানো আলো। কিন্তু জ্বলছেনা ওপরে থাকা সিডিএ’র একটি লাইটও। আর এতে করে সিডিএ’র দায়িত্বহীনতার শিকার হচ্ছেন ঘুরতে আসা হাজার হাজার দর্শনার্থী।

প্রায় ৫ মাস পর গত ২২ আগস্ট থেকে চট্টগ্রামের বিনোদন কেন্দ্রগুলো শর্তসাপেক্ষে উন্মুক্ত করে দেয় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। করোনার ভয় এবং লকডাউনের কড়াকড়িতে দীর্ঘদিন ঘরবন্ধি থাকার পর- চট্টগ্রামের বিনোদনপ্রিয় মানুষ ইদানিংকালে ছুটির দিনে ঘুরে বেড়াচ্ছে শহরের বিভিন্ন বিনোদন স্পটগুলোতে। যার মধ্যে অন্যতম চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত। এখানে ছুটির দিনে, রাত অবধি দর্শনার্থীদের আনাগোনাতে মুখর থাকে সৈকত পাড়। কিন্তু রাত হলেই মুখরিত মানুষগুলোর শব্দ শোনা যায়, কিন্তু কেউই কারোর চেহেরা দেখার সুযোগ থাকেনা। জ্বি দর্শক পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের এটিই বর্তমান চিত্র।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, সাগরপাড়জুড়ে থাকা সিডিএ’র একটি স্ট্রিট লাইটও জ্বলছেনা।এতে করে দর্শনার্থীদের মাঝে নেতিবাচক বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন ছালামের আমলে যা হয়েছিলো তার সবটুকুই এখন ম্লান হতে বসেছে।

ছুটির দিনে যান্ত্রিক শহরের বাইরে সমুদ্র সৈকতে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসে আলী আকবর জানান, আমরা নগরবাসী কোথায় গিয়ে শান্তিতে সময় কাটাতে পারবো বলতে পারেন? আমার বাচ্চাটা আমার পাশে চুপটি করে বসে ছিলো দীর্ঘ ১০ মিনিট। অথচ লাইট না থাকাতে তাকে কি না আমরা সবাই দ্বিগ্বিদিক খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম। কারণ ভেবেছি অন্ধকারে সে কোথাও হারিয়ে গিয়েছে।

সমুদ্রবিলাসী নগরীর মুরাদপুর থেকে ঘুরতে আসা ব্যবসায়ী মাসুদ বলেন, সিডিএ’র মত জায়গায় দোভাষের মত চেয়ারম্যান বেশ বেমানান। এ যাবতকালে সিডিএতে সালাম সাহেব যতদিন ছিলেন, নগরবাসী তাঁর কাজে সন্তুষ্ঠ ছিলেন। কিন্তু যোগ্য চেয়ারে দোভাষের মত অথর্ব মানুষ বসাতে আজকের এই দৃশ্যও আমাদের দেখতে হলো। সৈকতের নিরাপত্তায় থাকা পুলিশ সদস্যদের আগ বাড়িয়ে অভিযোগ জানালাম, পুলিশও কিছু জানেননা বলে উপেক্ষা করে।

এসময় প্রতিবেদকের সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে ‘লাইট নেই কিছু নেই’ বলে গালমন্দ করেন তিনি।

২০১৯ সালের (মার্চ ৮) এর ছবি

এ বিষয়ে সিডিএ’র চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এখন কোনো কিছু নয়। অফিসে গিয়ে কথা বলেন।

প্রতিবেদক এবার বলেন, স্যার পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে সিডিএ’র দায়িত্বহীনতা নিয়ে মানুষ প্রশ্ন তুলছে তা নিয়ে কথা বলতে চাইছি- প্রতিবাক্যে তিনি রাগান্বিত সুরে বলেন, কিছু নিয়ে কথা বলতে পারবো না। অফিসে আলাপ করেন বলে ফোন রেখে দেন।

প্রসঙ্গত: সিডিএ’র পরিকল্পনা অনুযায়ী পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত হবে বিশ্বমানের আধুনিক সুযোগ-সুবিধার পর্যটন কেন্দ্র। থাকবে পর্যটকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থাও।কিন্তু আজকের চিত্র দেখে অনেকেই প্রকাশ্যে সিডিএ’র চেয়ারম্যান দোভাষকে গালি দিয়ে চলেছেন এবং করছেন ব্যাপক সমালোচনাও। এমতাবস্থায় রাতের বেলায় লাইট ছাড়া কোনো অঘটন ঘটলে দায় কি দোভাষ নিবে কিনাও হুংকার তোলেন অনেকে।

২০১৯ সালের (৮ মার্চ)-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনটি মিথ্যা প্রমাণিত হতে চলেছে।

সিডিএ’র চলমান প্রকল্পের গাফিলতি ও দুর্নীতি নিয়ে চলমান অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রথম/১ম পর্ব। (চলবে)