সহকর্মীর জন্য অপেক্ষায় এ্যানি বড়ুয়ার মৃত্যু

খোরশেদুল আলম শামীম
  • Update Time : রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯, ০৩:২০ pm
  • ৬০৩৪ বার পড়া হয়েছে

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় কর্তব্য পালনের জন্য বের হয়েছিলেন পটিয়ার মেহেরআটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা এ্যানি বড়ুয়া (৩৮)। পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড রোডে সহকর্মীর জন্য তিনি অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় গ্যাসলাইনের বিস্ফোরণ ঘটনায় তিনি দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারান।

রোববার (১৭ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের পাথরঘাটা এলাকার ব্রিকফিল্ড রোডে গ্যাসলাইনের বিস্ফোরণে এ ভবনধসের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহত সাতজনের মধ্যে এ্যানি বড়ুয়া একজন।

আজ রোববার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতাল গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগের কাছেই লাশ ঘরে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে সাতটি মরদেহ। ঘরটির সামনেই নির্বাক হয়ে হাত-পা ছেড়ে বসে আছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকৌশলী পলাশ বড়ুয়া। ভেতরে পড়ে আছে জীবনসঙ্গিনী এ্যানি বড়ুয়ার নিথর দেহ।

প্রকৌশলী পলাশ বড়ুয়া বলেন, সকালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার দায়িত্ব পালনের জন্য বাসা থেকে বের হয় এ্যানি। পায়ে হেঁটে অল্প কিছুদূর যেতেই বিস্ফোরণে ধসে পড়া দেয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু হয় তার।

এদিকে চট্টগ্রামের পাথরঘাটায় বিস্ফোরণে নিহতের স্বজনদের আহাজারি আর আহতদের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিবেশ। প্রিয়জনের নিথর মরদেহ দেখে লাশ ঘরের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন অনেকে। কেউ দরজা ঘরে ঢুকে দেখছেন নিহতদের সারিতে স্বজনদের কেউ আছে কীনা। অন্যদিকে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চলছে আহতদের গণনবিদারি আর্তনাদ।

সকাল ১১টার দিকে হাসপাতালে হতাহতদের দেখতে যান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির। এ সময় তিনি বলেন, পাথরঘাটায় বিস্ফোরণের ঘটনায় মোট ১৭ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। এদের মধ্যে সাত জন মারা গেছে। বাকি ১০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এদের মধ্যে অন্তত চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার বিজয় বসাক বলেন, পাথরঘাটা ব্রিক ফিল্ড রোডের কুঞ্জমনি ভবনের নিচতলার একটি বাসায় সকাল নয়টার দিকে অর্পিতা নামে এক নারী আগুন জ্বালানোর জন্য দিয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় ভবনটির দু’টি দেয়াল ধসে পড়ে। হতাহতদের বেশির ভাগই দেয়াল চাপা কিংবা ইটের আঘাতের শিকার।

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 cplusbd.net