রাঙ্গুনিয়ায় শোক সভায় তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ- রাজনীতি হচ্ছে একটা ব্রত

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি
  • Update Time : বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯, ০৮:২১ pm
  • ২৮৮ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি বলেছেন, রাজনীতি কোনো পেশা নয়। রাজনীতি হচ্ছে একটা ব্রত।

রাজনীতি মানুষের কল্যাণে কাজ করার একটা মাধ্যম। দল পর পর তিনবার রাষ্ট্র ক্ষমতায়। তাই অনেক নেতার মধ্যে আলস্য চলে এসেছে। অনেকে মনে করছে দিন সবসময় এরকম যাবে। দল একসময় রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল না। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আমরা দীর্ঘ ২১ বছর রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলাম না। দল কিন্তু শক্তিশালী ছিল। অনেকে মনে করতো আওয়ামী লীগ আর ক্ষমতায় আসবে না। তাদের সেই দম্ভকে পরাভূত করে, তাদের সেই চিন্তাকে ভুলুন্ঠিত করে আওয়ামী লীগ ক্ষময়তায় এসেছে। ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন দল ক্ষমতায় এসেছে। এই তারিখে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের জন্ম যেন বাংলাদেশের হারানো স্বাধীনতাকে ফিরিয়ে আনার জন্য ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল।

বুধবার (১৩ নভেম্বর) বিকালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় শিলক বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে শিলক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের সহ ইউনিয়নের প্রয়াত অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এখন অনেক দূর এগিয়েছে। মানুষের দিন বদল হয়েছে, দেশ বদলে গেছে। কবির সেই কুঁড়েঘর এখন আর বাস্তবে পাওয়া যায় না। দেশে এখন কোনো কুঁড়ে ঘর নেই, মাটির রাস্তা নেই, মানুষের খাওয়া পরার অভাব নেই। এত উন্নয়ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সম্ভব হয়েছে। কিন্তু উন্নয়নই সব কথা নয়। মানুষের সমর্থন পেতে হলে আওয়ামী লীগের নেতাদের বিনয়ী হতে হবে।

সততাকে লালন করতে হবে। প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা যাদের আমরা স্মরণ করি তারা এরকম সৎ ও বিনয়ী ছিলেন বলে তাদের আমরা স্মরণ করি।

শিলক ইউনিয়ন আ.লীগের আয়োজনে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া শিলক বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন শিলক ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি নুর নবী সওদাগর।

ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আহমেদ মাস্টার এর সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম উত্তরজেলা আ.লীগের উপদেষ্ঠা সাদেকুন নূর সিকদার, সাংষ্কৃতিক সম্পাদক স্বজন কুমার তালুকদার, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও পৌর মেয়র মো. শাহজাহান সিকদার, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ আলী শাহ, সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম তালুকদার, উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার, পৌরসভা আ.লীগ সভাপতি মাষ্টার আসলাম খাঁন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এম এ মান্নান চৌধুরী, প্রয়াত আবু তাহেরের বড় সন্তান মো. শাকিল, আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদুল হাসান বাদশা প্রমূখ।

প্রধান অতিথি হাছান মাহমুদ আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু মানুষের চোখ দেখলেইসে কি বলতে চাই তা বুঝতে পারতেন। ঠিক তেমনি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা মানুষের চোখ দেখলে বুঝতে পারেন মানুষ কি চাই। অনেক মানুষের ভিড়ে অনেক কর্মী দাড়িয়ে আছে, একজন কর্মী ভিড় টেলে সামনে আসতে পারছেন না, তিনি তাকেও খেয়াল রাখেন। যখন তিনি বিরোধী দলীয় নেত্রী, তখন তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংগঠনিক কাজে যেতেন, তখন দেখা যেতো একজন ভিক্ষুক হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, তখন তিনি তাকে সন্তষ্ট করেই তারপর গন্তব্যে যেতেন। আমরা নেত্রীর কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করি। অনেকে আমাকেও ঘিরে রাখেন। আমিও চেষ্টা করি সে ঘেরার ভেতর যারা ঢুকতে পারে না তাদের কথা শুনার। আমি জানি এদের খুব বেশি চাওয়া পাওয়া নেই, এরা কথা বলতে পারলেই খুশি। খুব সামান্য তাদের চাওয়া।

আ.লীগ নেতা আবু তাহের তেমনি একজন নেতা ছিলেন। যিনি মানুষের সাথে থাকতেন সবসময়। মানুষের যেকোন কাজে সবার আগে ছুটে যেতেন। ২০০৮ সালে আমার নির্বাচনের সময় আমি তার মোটর সাইকেলের পেছনে বসে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়েছিলাম। তিনি তাঁর কর্মে আজীবন মানুষের মাঝে বেঁচে থাকবেন।

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 cplusbd.net