বাদলের লাশ দাফনের আগেই শুরু উপ নির্বাচনের সমীকরণ

খোরশেদুল আলম শামীম
  • Update Time : শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ০২:৩৪ pm
  • ৭৪৭৬ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম-৮ (চাঁন্দগাও-বোয়ালখালী) আসন থেকে পরপর তিনবার নির্বাচিত মহাজোটের (জাসদ-বাদল) সাংসদ মঈন উদ্দিন খান বাদলের মৃত্যুর পর এখনো দাফন সম্পন্ন হয়নি। অথচ এমন শোকের মধ্যেও চট্টগ্রাম জুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে এই আসনের উপ নির্বাচন নিয়ে।

এ আসনে কারা মনোনয়ন প্রত্যাশী, কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি, কার চেয়ে কে বেশি যোগ্য ইত্যাদি সমীকরণ নিয়ে অঙ্ক কষা শুরু করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলও এ আসনকে কেন্দ্র করে তাদের ভূমিকা ও করণীয় নিয়ে তা ভাবতে শুরু করেছে।

গত ৭ নভেম্বর ভোর ৫টায় ভারতের বেঙ্গালুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বীর  মুক্তিযোদ্ধা মঈন উদ্দিন খান বাদল। তাঁর মরদেহ ভারতের বেঙ্গালুর থেকে শুক্রবার রাতে ঢাকা এসে পৌঁছেছে। আজ শনিবার রাতে বোয়ালখালীস্থ সারোয়াতলী গ্রামে শেষ নামাজে জানাযার পর পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তাতে নির্বাচিত হবার পর ১১ মাসের মাথায় বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদের প্রয়াণের পরপরই এ আসনে উপ নির্বাচন নিয়ে আলোচনার বিষয়টি বাস্তবিক অর্থে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সর্বমহলে নানানভাবেই তা আলোচিত হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত আওয়ালী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাকে এই আসন থেকে উপ নির্বাচনে মনোনয়ন দিচ্ছেন সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এ আসনের  উপ নির্বাচনে প্রার্থী নিয়ে উচ্চারিত হচ্ছে প্রয়াত সাংসদের সহধর্মিনী সেলিনা খানের নাম। আওয়ামী লীগের শীর্ষ মহলে তাঁর  ভালোই যোগাযোগ বিশ্লেষকদের ধারনা শেষ পর্যন্ত স্বামীর আসনে উপ নির্বাচনে তিনিই মনোনয়ন পেতে পারেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগেও মঈনুদ্দিন খান বাদলের অসুস্থতার কারণে এ আসনে সেলিনা খানের নাম আলোচনায় ছিল।

পাশাপাশি যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোছলেম উদ্দিন আহমদ। দীর্ঘদিন ধরে দলের কান্ডারি হিসেবে তাঁর মনোনয়ের বিষয়টিও প্রাধান্য পাচ্ছে।

নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও সাবেক প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির নামও এ আসনে বিশেষভাবে আলোচিত। কিন্তু বয়সের কারণে তিনি অনেকটা অসুস্থ। যে কারণে তাঁর ‍পুত্র মুজিবুর রহমানকে অনেকে এ আসনে ভাবছেন।  চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সাবেক চেয়ারম্যান ও নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালামের নাম একাদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আলোচিত হয়েছে। এ আসনের উপ নির্বাচনে তাঁর নামটিও আলোচনায় স্থান পাচ্ছে। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এম রেজাউল করিমের নামও এ আসনের প্রার্থী হিসেবে বেশ আলোচিত। কুয়েতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত এসএম আবুল কালামের ছোট ভাই ব্যবসায়ী নেতা এস এম আবু তৈয়ব। পরিচ্ছন্ন মানুষ হিসেবে একাদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসনে তাঁর নাম বেশ আলোচিত ছিল। এবারও মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে অনেকে তাঁর নাম উচ্চারণ করছেন। জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতা জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু একসময় মঈনুদ্দিন খান বাদলের রাজনৈতিক আদর্শের ছিলেন। বাদল ছিলেন জাসদের। এ আসনের উপ নির্বাচনে  আওয়ামী লীগের বাইরে অন্য দল বিবেচনায় আনা হলে সে ক্ষেত্রে জিয়া উদ্দিন বাবলুর ছোট ভাই হাসান মাহমুদ চৌধুরীকেও ভাবা হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।  এ ছাড়া চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আবদুল কাদের সুজনও মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানা গেছে।

 

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 cplusbd.net