ঐতিহাসিক টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

সিপ্লাস ডেস্ক
  • Update Time : শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯, ০১:২২ pm
  • ১৬৪ বার পড়া হয়েছে

একাদশে আল আমিন, নাঈম

বাংলাদেশের একাদশে পরিবর্তন দুটি। অনুমিতভাবেই তিন পেসার নিয়ে খেলছে বাংলাদেশ। বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের জায়গায় একাদশে এসেছেন আল আমিন হোসেন। ২০১৪ সালের অক্টোবরের পর আবার টেস্ট খেলার সুযোগ পেলেন এই পেসার।

আরেকটি পরিবর্তন স্পিন বিভাগে। দলের একমাত্র স্পিনার হিসেবে এই টেস্টে খেলছেন দরুণ অফ স্পিনার নাঈম হাসান। বাদ পড়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

বাংলাদেশ একাদশ: ইমরুল কায়েস, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, মোহাম্মদ মিঠুন, লিটন দাস, নাঈম হাসান, আবু জায়েদ চৌধুরি, ইবাদত হোসেন, আল আমিন হোসেন।

বিশেষ মুদ্রা, টসে হাসি বাংলাদেশের

ভারতে প্রথম দিন-রাতের টেস্টের টস হলো বিশেষভাবে তৈরি এক মুদ্রায়। সাধারণ মুদ্রার বেশ বড় আকারের রূপার মুদ্রা এটি। সেই টসে জিতলেন মুমিনুল হক। বাংলাদেশ অধিনায়ক জানালেন, ব্যাটিং করবে বাংলাদেশ।

মুমিনুলের মতে, ঘাসের ছোঁয়া থাকলেও উইকেট বেশ শুষ্ক এবং খানিকটা শক্তও। ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো হওয়ার কথা। শুরুতে যদিও চ্যোলেঞ্জ থাকবে। তবে হাসিমুখে মুমিনুল বললেন, “সাহসী সিদ্ধান্ত, সাহসিকতার সঙ্গেই খেলতে হবে।”

টস জিতলে ভারতও আগে ব্যাটিং করত, জানালেন বিরাট কোহলি। তার ধারণা, প্রথম দুই সেশনে স্পিনারদের বড় ভূমিকা থাকবে। সেদিকেই তাকিয়ে ভারত অধিনায়ক।

উইকেটে সবুজের ছোঁয়া

ইডেনের উইকেটে ৫ মিলিমিটার পর্যন্ত ঘাস রেখে দিয়েছেন কিউরেটর সুজন মুখার্জি। গত ৪-৫ বছর ধরেই অবশ্য এই মাঠে সব টেস্টে উইকেটে একটু ঘাস নেখে দেওয়া হয়। টিভির পিচ রিপোর্টে কলকাতার সন্তান, সাবেক ক্রিকেটার দীপ দাসগুপ্ত জানালেন, “উইকেটে কিছুটা ঘাস থাকলেও তা খুব বেশি নয়। বরং বিশ্বের নানা প্রান্তে অন্যান্য দিন-রাতের টেস্টের উইকেটে ঘাস আরও বেশি রাখা হয়। শুরুতে কিছুটা শুষ্কও থাকবে উইকেট।”

টিভির বিশ্লেষণে ভিভিএস লক্ষ্ণণ বললেন, উইকেটে আরও ঘাস আশা করেছিলেন তিনি। টস জিতলে ব্যাটিং নেওয়ার পক্ষেই মত তার।

২২ গজের চ্যালেঞ্জ

এই ম্যাচকে ঘিরে নানা আয়োজনের ভিড়ে ২২ গজের লড়াই অনেকটা আড়ালেই চলে গেছে। তবে আদতে লড়াই জমবে কতটা, সেই শঙ্কাও আছে। প্রথম টেস্টে স্রেফ উড়ে গেছে বাংলাদেশ। দুই দলের শক্তির পার্থক্যও ফুটে উঠেছে প্রবলভাবে। দ্বিতীয় টেস্টে গোলাপী বলে আরও কঠিন পরীক্ষা। বাংলাদেশের জন্য আশার জায়গা তাই খুব কম।

টেস্টের প্রথম চার দিনের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সৌরভ গাঙ্গুলি। তবে ম্যাচ আদৌ চতুর্থ দিনে গড়াবে কিনা, সেটি নিয়ে সংশয়ের কারণ আছে যথেষ্টই।

নানা আয়োজন

ভারতের মাটিতে প্রথম দিবা-রাত্রির টেস্ট স্মরণীয় করে রাখতে আয়োজন করা হচ্ছে নানা কিছু। মূলত ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল ও বিসিসিআইয়ের সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলির উদ্যোগেই এই টেস্টকে ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ।

২০০০ সালে বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টে খেলা সব ক্রিকেটারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাদেরকে দেওয়া হবে বিশেষ সম্মাননা।

ম্যাচে উপস্থিত থাকছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ম্যাচ শুরুর ঘণ্টাও বাজাবেন তারা। উপস্থিত থাকবেন দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড প্রধান, ভারতীয় কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকারসহ আরও অনেকে।

ম্যাচের টস করা হবে বিশেষভাবে তৈরি এক মুদ্রা দিয়ে।

ম্যাচে লাঞ্চ ও চা বিরতিতে টিভিতে বিশ্লেষণ করবেন টেন্ডুলকার, রাহুল দাবিড়, অনিল কুম্বলে, কপিল দেবসহ ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটাররা। দিনশেষে থাকবে রুনা লায়না, জিৎ গাঙ্গুলির পারফরম্যান্স।

ইতিহাসের উপলক্ষ্য

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের শুরুটায় জড়িয়ে আছে ভারত। ১৯ বছর আগে বাংলাদেশ নিজেদের অভিষেক টেস্টের প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছিল ভারতকে। এবার ভারতের একটি নতুন শুরুতে জুড়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের নাম। ভারতের মাটিতে প্রথম দিন-রাতের টেস্টে খেলছে বাংলাদেশ।

ভারত প্রথম টেস্ট খেলেছিল ১৯৩৩ সালে, মুম্বাইয়ের জিমখানা গ্রাউন্ডে। দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচটি তারা খেলেছিল ১৯৩৪ সালে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে। সেই ইডেন এবার স্বাক্ষী হচ্ছে ভারতের প্রথম দিবা-রাত্রির টেস্ট ম্যাচের। বাংলাদেশেরও এটি কৃত্রিম আলোয় প্রথম টেস্ট।

নবীন দুই টেস্ট দল, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড ছাড়া এতদিন কেবল ভারত ও বাংলাদেশই খেলেনি দিন-রাতের টেস্ট। এবার ঘুচে যাচ্ছে সেই বন্ধাত্ব।

ভারতের এটি ৫৪০তম টেস্ট, বাংলাদেশের ১১৭তম।

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 cplusbd.net