সুদীপ্ত হত্যার দুই বছর ; সন্তান হত্যার বিচার চেয়ে পুরো পরিবার জীবন নিয়ে শংকিত

সিপ্লাস প্রতিবেদক
  • Update Time : শনিবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৯, ০৬:০৯ am
  • ৬৯৭ বার পড়া হয়েছে

আগামীকাল ৬ই অক্টোবর চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ নেতা সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যার দুই বছর পূর্ণ হবে৷ ২০১৭ সালের ৬ই অক্টোবর একদল সন্ত্রাসী নগরীর সদরঘাট থানাধিন দক্ষিন নালাপাড়ার নিজ বাসার সামনে নির্মম ভাবে পিটিয়ে সুদীপ্তকে হত্যা করে৷ সুদীপ্ত হত্যাকান্ডের পর হত্যায় সরাসরি জড়িত একাধিক জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ হত্যার নেপথ্যে কারা জড়িত সেটি অনুসন্ধানের জন্যে সুদীপ্তের বাবা মেঘনাথ বিশ্বাসের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে বর্তমানে মামলাটি পিবিআই তদন্তে আছে৷

সংসারের বড় ছেলের অকাল মৃত্যুতে সারা জীবনের সঞ্চিত সকল স্বপ্ন ভেঙ্গে যায় শিক্ষক বাবার। সন্তান হত্যার বিচার চাওয়ার পাশাপাশি অন্য সন্তান ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে দীর্ঘদিনের ভাড়াবাসাটিও ছেড়ে চলে যায় সুদীপ্তের বাবা-মা৷ আজ ৫ই অক্টোবর সুদীপ্তের বাবা মেঘনাথ বিশ্বাস তার ফেসবুকে এক আবেগঘন স্টাটাস পোস্ট করেছেন। সেই স্টাটাসে সন্তানের নানান স্মৃতিচারণের পাশাপাশি তিনি লিখেছেন আশংকা ও আবেদনের কথা৷ সিপ্লাসের সম্মানিত পাঠকদের জন্যে সেই স্টাটাসটি হুবহু প্রকাশ করা হলো।

আজ ৫ ই অক্টোবর ২০১৭ সালের এই দিন শেষবারের মতো ছেলেটা আমাকে বাবা বলে ডেকেছিল। লক্ষী পূজা ছিল। সকালে আমি বেরুচ্ছিলাম, এই সময় খুব সংকোচের সাথে বাবা ডেকে ছেলেটা আমার কাছে ২০টা টাকা চাইল। প্রায়ই চাইত। আমি ঝাঁঝিয়ে উঠলাম। আর কত দেবো তোকে? পকেটে ভাংতি ৩০ টা টাকা ছিল, তাই দিলাম। ছেলেটার মুখে সেই আমার শেষ বাবা ডাক শুনা। রাগ করি আর যাই করি, তার জন্য আমার হৃদয় উজাড় করা ভালবাসা ছিল। ছেলেটা ও সেটা বুঝত, তারপর ৬ ই অক্টোবর আমার ছেলেকে হারানো মানে আমার সুখ-শান্তি, আশা-ভরসা, সর্বস্য হারানোর দিন। শুধুমাত্র প্রতিবাদের কারণে লাল খানবাজারের এক দানবাকৃতি খুনী চেহারার বড় ভাইয়ের নিদের্শে একদল তারই পালিত হায়না লোহার রড, হকিস্টিক, চাপাতিসহ অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। মানুষ মানুষকে এভাবে মারতে পারে। শরীরে এমন কোন জায়গা নাই যেখানে তাকে নির্মম অমানুষিকভাবে আঘাত করা হয়নি। ডান হাতটা ভাঙ্গা ছিল। সে কারণে একটু ও প্রতিরোধ করতে পারেনি। তার আর্তচিৎকারে বাতাস ভারী হয়েছিল কিন্তু কেউ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। এখন কেউ এগিয়ে আসে না। মানুষকে এখন বড় ভয়। মানুষ কোন ভাবেই এখন মানুষ থাকছে না-থাকতে পারছে না। প্রতিনিয়ত চোখের সামনে পিটিয়ে মানুষ মারছে। কেউ তাকে বাঁচাবার চেষ্টা করছে না। যেভাবে হোক মানুষ মরুক। অন্যরা তা দেখবে। প্রতিরোধ -প্রতিবাদ কিছুই করবে না। বড় জোড় তাদের ছবি দরকার- ভিডিও দরকার। নির্বিকার ছবি তুলবে, ভিডিও করবে। যন্ত্রনাদগ্ধ ছেলেটা অনবরত বাঁচার আশায় আকুতি জানিয়ে চিৎকার কান্নাকাটি করেছিল। কেউ আসবে- তাকে বাঁচাবে। অবিশ্বাস্যভাবে কেউ এগিয়ে আসেনি। একটা কথা ও বলেনি। নরপশুরা তাকে মেরে চলে গেল। এদেশে এখনো একবারে ভাল মানুষ নাই বলবো না। আছে, তবে সংখ্যায় কম। সংঘবদ্ধ নয়- ছড়ানো ছিটানো। খারাপ মানুষগুলো সংঘবদ্ধ, একজন হাক্কাহুয়া ডাক দিলে অন্যরা কেয়াহুয়া, কেয়াহুয়া বলে ছুটে আসে। একটা দেশের অধিকাংশ মানুষ যখন এরকম হয় দেশটা তখন বসবাসের যোগ্য থাকে না।

আমার ছেলেটা মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ছিল। সুস্থ ধারার রাজনীতি করতো সে। জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং চট্টলবীর মরহুম এ.বি.এম মহিউদ্দীন চৌধুরীর একনিষ্ঠ ভক্ত ছিল সে। কোন টেন্ডারবাজী, চাঁদাবাজীর সাথে কখনো জড়িত ছিল না। আমার সেই ছেলেটাকে প্রকাশ্য দিবালোকে বরগুণার সেই রিফাত শরীফ হত্যার মতো একই কায়দায় অভিন্ন পন্থায় পিটিয়ে মারা হলো। হত্যার ভিডিও করা হলো। নির্দেশদাতা শুধু খুনিদের পাঠাঁলেন না, নির্দেশ দিলেন, ‘‘পিটানোর ভিডিও করবি। ঐ ভিডিও আমি দেখবো, তারপর নিশ্চিন্তে ঘুমাতে যাবো। কী বিভৎস! আপনাদের কাছে আমার জিজ্ঞাসা একটা মানুষ কতটা নির্মম, বিবেকহীন, বিকৃত রুচির হলে এই কথা বলতে পারে এবং এমন ভাবনা ভাবতে পারে? এরা আবার জনপ্রতিনিধি-জনদরদী সাজে। দলবল নিয়ে হাঁটা চলা করে। একজনের সন্তানকে মেরে ফেলাটা আনন্দের অনুসংঙ্গ হয়। কি অদ্ভুত। মারার ভিডিও, অডিও ট্যাপ, ১৬৪ ধারার জবানবন্দী, মিটিং মিছিল, সংবাদপত্রে নাম আসাসহ সব তথ্য প্রমান থাকা সত্বে ও দুই বছরে এখনো চার্জসীট দেওয়া হলো না। রাজনৈতিক পরিচয় না থাকলে ও সে তো মানুষ।বিচার পাওয়ার অধিকার তো তার আছে।
মাননীয় মমতাময়ী মা প্রধানমন্ত্রীকে যখন রোহিঙ্গা শিশুকে মাননীয় মমতাময়ী মা প্রধানমন্ত্রীকে যখন রোহিঙ্গা শিশুকে কোলে নিয়ে চোখের জল ফেলতে দেখি আমি তখন ফুঁপিয়ে কাঁদি, খেলা দেখতে গিয়ে নিজ দেশের জয়ের আনন্দে তিনি যখন শিশুর মতো হাততালি দেন, আমার ভিতরটা খুশিতে নেচে উঠে। আবার যখন কোন সম্মেলনে দাঁড়িয়ে সবার সাথে জাতীয় সঙ্গীত বা গানে কন্ঠ মেলান, আমি ও সাথে সাথে মন্ত্রমুগ্ধের মতো কন্ঠ মিলাই। ভিতরে কী এক অদ্ভুত অনুভুতির জন্ম নেয়।সব সময় ভাবি তিনি আমাদের খুবই কাছের একজন। ছেলেটাকে হত্যার পর ন্যায় বিচারের প্রত্যাশায় আকুলতা জানিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটা আবেদনপত্র দিয়েছিলাম। ভীষন ব্যস্ততার মধ্যে প্রতিদিনে হাজারো চিঠির ভীড়ে আমার আবেদন মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নজরে আসবে সে রকম সৌভাগ্য নিয়ে আমার জন্ম হয়নি। মাননীয় যোগাযোগ মন্ত্রী জনাব ওবায়দুল কাদের সাহেব বিচারের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু চার্জসীট এখনো দেওয়া হয় নি। কখন দেওয়া হবে বা আদৌ দেওয়া হবে কি না জানিনা। দেওয়া হলে ও ন্যায় বিচার পাবো সে ভরসা কোথায়? বর্তমানে যে পরিস্থিতি মাকড়শার জালে বড় পোকা পরলে জাল ছিড়ে বেরিয়ে যায়। আর ছোট পোকা জালে আটকা পরে মরে যায়। সুতরাং ন্যায় বিচার দেখে মরতে পারবো সেই আশায় গুড়ে বালি। ইতিমধ্যে আমার ২৭/২৮ বছর ধরে গভীর মমতা, ভালবাসা ও আশা-ভরসার প্রতীক ছেলেকে হত্যা করে আমাদের বুক খালি করা এবং শুনেছি আরো কারো কারো বুক খালি করা সেই নির্দেশ দাতা অসীম ক্ষমতার অধিকারী, সৃষ্টিকর্তার অপূর্ব সৃষ্টি লালখান বাজারের সেই মহান নেতা বেহেশতে যাওয়ার আশায় মতের অমিল হলে খুন করা যার স্বভাব, যিনি কথায় কথায় গুলি চালান সেই বীরপুরুষ দুই মাস ও জেল না খেটে বহাল তবিয়তে আবার নিজ সাম্রাজ্যে ফিরে এসেছেন।তার ও আগে অন্যান্য খুনি আসামীরা ও সবাই জামিন নিয়ে বেরিয়ে এসেছে।এখন আমি আমার পরিবার নিয়ে খুবই ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি।

২০১৩ সালে অবসর গ্রহণের পরে ভরসা ছিল ছেলে চাকরী করবে আমার আর কষ্ট থাকবে না।পিটিয়ে মারার ছয় মাস আগে সে একটা চাকরীতে যোগদান করেছিল।তারপর তাকে মেরে ফেলা হলো।ইতিমধ্যে টাকা পয়সা যা ছিল তা ও নিঃশেষ হয়ে গিয়েছে।আমি এখন গলাব্যথা এবং প্রচণ্ড মাথা ব্যথা নিয়ে সারাদিন টিউশনি করে সংসার চালাই।যে লোকটা আমার ছেলেকে মারার ভিডিও দেখে ঘুমোতে যাবে বলে,তার পক্ষে যে কোন বিভৎস-পাশবিক কাজ বারবার করা কোন ব্যাপারই না। কোথায় লালখান বাজার আর কোথায় নালাপাড়া।লোকটার নির্দেশে নালাপাড়া এসে আমার ছেলেকে টেনে হিঁচড়ে বাইরে এনে দিবালোকে পিটিয়ে মেরে ফেলতে পারে তাদের পক্ষে সবই সম্ভব।এবং তখন আমার পরিবারকে মানুষের কাছে হাত পাতা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না।সকালে আমৃত্যু পুত্রশোক ধারণ করে ধুকে-ধুকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়া আমার স্ত্রী নেতার বেরিয়ে আসার কথটা শুনে হতাশায় দুঃখে বেদনায় কাঁদছিল। বললাম, কাঁদছ কেন? এক এক দেশে এক এক বাও, যে দেশে যে রীতি সেটাই তো হবে। লোকটা ক্ষমতাবান। ক্ষমতার বলয় এমনযে, সেখানে বিচারের বানী পৌছতে পারে না। বিচারের বানী নিভৃতে কাঁদে। নেতা বের হবেন- এটা আগেই জানতাম। দুঃখ পাওয়ার কিছু নাই। শুধু যন্ত্রণা হয় যখন ফেসবুকে হঠাৎ ভিডিওতে ধারণকৃত আমার ছেলেকে মির্মম পিঠানো অবস্থায় মা মা আর্তনাদ আর কান্না আমার কানে অবিরাম অনুরনিত হয়ে আমাকে নিঃশেষ করে দিতে থাকে। মেডিকেলে ছেলের বেঁচে থাকার আকুতি। ডান হাত ভাঙ্গা। তেথলানো বাম হাতটা দিয়ে মাকে ধরতে গিয়ে কোন ভাবে তুলতে না পারা, মাঝে মাঝে বুকফাটা আর্তনাদ। পানি পানি বলে চিৎকার।শেষে হাল ছেড়ে দেওয়া অবস্থায় আমার চোখের সামনে নিদারুন মৃত্যু যন্ত্রণায় করুণ চোখে তাকিয়ে থাকতে থাকতে চোখের জল ছেড়ে দেওয়া। তারপর একটু একটু করে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়া। নেতা, মানুষের মৃত্যু যন্ত্রনায় আপনার খুব আনন্দ-না? আপনার একটা অডিও ট্যাপ ‘‘গ্রেফতারের সেই ভয়ঙ্কর রাত’’ নাম দিয়ে ফেস বুকে ছেড়েছেন। ঘৃণায় সেটা শুনার মানসিকতা আমার নাই। চেহারা দেখার মানসিকতা ও আমার নাই। কিন্তু বলেন তো, আমাদের বুক উজাড় করা ভালবাসা দিয়ে যাকে লালন-পালন করে আমরা বড় করলাম, যাকে কেন্দ্র করে আমাদের আকাশ ছোয়া স্বপ্ন, বাঁচা-মরা আবর্তিত হচ্ছিল শুধু প্রতিবাদের কারণে তাকে আপনার পালিত লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেললেন। যদি ও আপনি মানুষের মধ্যে নাই। একটু ভাবুনতো, পিঠানোর সময় ছেলেটার গগন বিদারী আর্তনাদ, মেডিকেলে সারা শরীরে রক্তক্ষরণ হওয়া অবস্থায় যন্ত্রণায় কাতরানো, মাঝে মাঝে বাবারে, মরে যাচ্ছি, বাঁচাও বলে প্রচন্ড জোড়ে চিৎকার। চোখে মুখে বেঁছে থাকার সেকি আকুলতা। ছেলের গায়ের রক্তে আমার শার্ট ভিজে উঠা। তখন শেষবারের মতো চোখের পানি ছেড়ে দেওয়া। হাত দিয়ে বারবার কিছু একটা ধরতে চেষ্ঠা করা এবং তারপর নিঃশেষ হয়ে যাওয়া। একবার ভাবুনতো, প্রচন্ড যন্ত্রণায় মৃত্যু পথযাত্রী ছেলে এবং পাশে শোকে দুঃখে অর্ধমৃত বাবা-মার যন্ত্রণায় কাছে আপনার গ্রেফতারের ভয়ঙ্কর রাতের কষ্ট যেটা আপনি বলেছেন সেটা কতটুকু। পুত্রহারা বাবা-মার এফফোটা চোখের জলের কাছে আপনার ভয়ঙ্কররাতের কষ্টের কী দাম থাকে। আপনার খারাপ লাগবে না। কেননা মানুষ নামধারী কেউ যখন খুন-খারাবীসহ নানা খারাপ কাজ করতে থাকে- করতেই থাকে তখন তার আত্মার চারিদিকে একটা পুরু দেওয়ালের সৃষ্টি হয়। সেখানে পুত্রের আর্তনাদ, পিতা-মাতার মর্মান্তিক মর্মবেদনা পৌছাতে পারে না। সে দেহে ইহকাল-পরকাল থাকে না। সৃষ্টিকর্তার বিচারের ভয় থাকে না। এই ধরণের মানুষ যা ইচ্ছা তাই করতে পারে।যথাযথ বিচার না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। পিতা হিসাবে নিজের ছেলেকে অসহ্য যন্ত্রণায় ধীরে-ধীরে মৃত্যুকে বরণ করাটা দেখেছি। তার ছেয়ে ভীতিকর যন্ত্রণাদায়ক আর কি হতে পারে?কান্নার ও একটা সীমা আছে।সেই সীমা অতিক্রম করার পরে মানুষের বুক ফাটে কিন্তু মানুষ আর কাঁদতে পারে না।আমাদের অবস্থাটা এখন তেমনই। ছেলের জন্মের ও আগে একবার আমার খুব কঠিন অসুখ হয়েছিল। আমি তখন পশ্চিম মাদারবাড়ী বালক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছি। পশ্চিম মাদারবাড়ীর একটা আলো বাতাসহীন টিন দিয়ে ঘেরা ভাড়া বাসায় জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে নিঃসাড় পরে ছিলাম। চোখ খোলার মতো শক্তি ছিল না। মাথার পাশে আমার স্ত্রী মাথায় হাত বুলাচ্ছিল এবং কাঁদছিল।
হঠাৎ কানের কাছে আমার কাকীমার কন্ঠ শুনলাম। তিনি বলছেন, ‘‘কাকু, কিছুই হবে না। আপনি ভাল হয়ে যাবেন। আমি আছি না?’’ মৃত্যু আসলে কাকীমা ধরে রাখবেন এমনতো না। কিন্তু ঐ সময়ের ঐ কথাটা আমার ভিতরে সঞ্জিবনী সুধার মতো কাজ করলো। মনের জোড় বেড়ে গেল। এটা যে কেমন আমি ঠিক বলে বোঝাতে পারবো না। যাদের ছায়ায় আমার বেড়ে উঠা- বেঁচে থাকা সেই কাকা কাকীমা এখন আর নাই। থাকলে আমি এত অসহায়ত্ব বোধ করতাম না। আমরা অসহায় মানুষেরা খুব করুন সময়ে স্রষ্টার উপর নির্ভর করি। স্রষ্টার কৃপায় এমন ও হতে পারে খুব জনদরদী, বিবেকবান, সাহসী, প্রতিবাদী, কেউ একজন পাশে এসে দাঁড়াবেন। বলবেন, আমি আছি আপনার পাশে। এইরকম হতে ও তো পারে। নেতা বের হওয়ার পর আমি এখন ভীষণ নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি। জানিনা কি হয়। প্রিন্ট মিডিয়া এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্মানিত সাংবাদিকেরা তাঁদের লেখনীর মাধ্যমে সোচ্চার না হলে ছেলে হত্যার মামলাতো অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যেত। ঊনাদের প্রতি এই অসহায় সারাজীবন শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত এক বয়োবৃদ্ধ পুত্রহারা পিতার কৃতজ্ঞতার শেষ নাই এবং আমি আশাবাদী সাংবাদিক ভাইদের সাহায্য সহযোগীতায় একদিন আমি ছেলে হত্যার ন্যায্য বিচার পাবো এবং পাশাপাশি ন্যায্য বিচার প্রাপ্তিতে এদেশের বিবেকবান জনমানুষ ও আমার পাশে থাকবেন। সবাইকে ধন্যবাদ। সবাই ভাল থাকবেন।

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 cplusbd.net