নিউজটি শেয়ার করুন

হেলে পড়া ভবন: মানা হয়নি সিডিএ’র নিয়ম, জেনেও চুপ ছিলো মালিকপক্ষ

সিপ্লাস প্রতিবেদক: নগরের এনায়েত বাজার গোয়ালপাড়া এলাকায় শনিবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পাঁচতলা ভবন হেলে পড়ে।

রোববার (১১ এপ্রিল) হেলে পড়া ভবনটি পরিদর্শনে গিয়ে সিডিএ’র প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহীনুল ইসলাম খান বলেন নকশা বহির্ভূতভাবে এবং নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে এ ভবনটি নির্মাণ হয়েছে।

১ শতাংশের কম জায়গায় সিডিএ কোন ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয় না। কিন্তু এই ভবনটা দশমিক ৭৫ শতাংশ জায়গার উপর নির্মিত। এই ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে কোন প্রকৌশলী সহায়তা নেওয়া হয়নি। তাছাড়া যেহেতু অনুমোদন দেওয়া হতো না এই এলাকায় সেই সুযোগ নিয়েই এই ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই বিল্ডিংটির মালিক আগেই ভবনটির হেলে পড়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে সেখানে একটি পিলার নির্মাণ করে ঠেস দেয়ার লক্ষ্যে গর্ত করার পরই মূল ফাউন্ডেশন নড়ে গেছে এবং বিল্ডিংটি হেলে পরেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনটির অপসারণ ও ভেঙে ফেলতে সিডিএ থেকে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে সিডিএ’র অথরাইজড অফিসার-২ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেয়া হয়েছে।

কারণ চট্টগ্রাম মিউনিস্যাপাল অর্ডিনেন্স ১৯৮২-এর ১০৯ ধারা অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণের এখতিয়ার সিটি কর্পোরেশনের। তবে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন কেন আগে থেকে সিডিএ দেখাশোনা করেনা? এমন প্রশ্নের জবাবে নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা বললেন প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ।

অন্যদিকে বিল্ডিং মালিক কার্তিকের মেয়ে দাবি করছেন তাঁরা নিজেদের গোয়াল ঘর নির্মাণ করতে গিয়ে ভবনটি হেলে পড়লে স্ব-উদ্যোগে নিজেরাই বিল্ডিংটি ভেঙে ফেলছেন।

সকালে হেলে পড়া ভবন পরিদর্শন করেন সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরি এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অদক্ষ লোকবল দিয়ে ভাঙার চেষ্টা করা হলে আরও ঝুঁকি বাড়বে। তাই ভবন অপসারণের বিষয়ে কারিগরি সহযোগিতা নেওয়া জরুরি। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে সেদিকটাও খেয়াল রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, চউক শুধু ভবনের অনুমোদন দিলে হবে না। নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ হচ্ছে কি-না তা সঠিকভাবে তদারকি করা প্রয়োজন।