নিউজটি শেয়ার করুন

হিজড়া জনগোষ্ঠীর মাঝে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ত্রাণ বিতরণ

সিপ্লাস প্রতিবেদক: কোভিড—১৯ জনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে লকডাউন চলাকালীন সময়ে নগরীর হিজড়া ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মাঝে প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত ৩’শ প্যাকেট উপহার সামগ্রী (ত্রাণ) বিতরণ করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

১৮ এপ্রিল, রোববার সকাল ১১টায় এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেশিয়াম হলে ৩’শ হিজড়ার মাঝে এসব উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মমিনুর রহমান।

প্রতি প্যাকেট উপহার সামগ্রীর মধ্যে ছিল-৭ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ২ কেজি আলু, ১ কেজি চিনি ও ১টি সাবান।

উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সুমনী আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস.এম জাকারিয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ নাজমুল আহসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ কামাল, সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ শহীদুল ইসলাম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হাসান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলী আহসান, স্টাফ অফিসার টু ডিসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক, এনডিসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান, জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা সজীব চক্রবর্তী ও নবজাগরণ হিজড়া শ্রমজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি ফাল্গুনী হিজড়া প্রমুখ।

এসময় ত্রাণ বিতরণ কাজে সহযোগিতা করেন স্বেচ্ছাসেবক টিম সিপিপি, বেটার ফিউচার বাংলাদেশ, পুর্বাশার আলো, রেড ক্রিসেন্ট, তৃণমুল নাট্যদল, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন ও নির্বাণ ক্লাব ।

ত্রাণ বিতরণকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেন, করোনাকালে যেসব শ্রমজীবি মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে বা কষ্টে আছে তাদের প্রত্যেকের হাতে ত্রাণ পৌঁছে দিতে জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন। সমাজের অবহেলিত তৃতীয় লিঙ্গের হিজড়া গোষ্ঠী যারা মানুষের কাছে হাত পাতে, যাদেরকে অবহেলার চোখে দেখি তাদেরকেও ত্রাণের আওতায় আনতে চাই। নরসুন্দর, মুচি, জেলে, প্রতিবন্ধি, বেদে সম্প্রদায় ও পরিবহন শ্রমিকসহ যারা অতি কষ্টে দিনযাপন করছে তাদের প্রত্যেককে পর্যায়ক্রমে ত্রাণের আওতায় আনা হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে ২০ হাজার প্যাকেট ত্রাণ সামগ্রী মজুদ আছে। নগরীতে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৩’শ প্যাকেট ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। মহানগরীর বাইরে উপজেলা পর্যায়ে এ পর্যন্ত ৫ শতাধিক অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি কিছু অস্বচ্ছল পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা সবাই কাজে ফিরে যাবো। লকডাউনে একেবারে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের সহায়তায় সরকারের পাশাপাশি সমাজের ধনাঢ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।