নিউজটি শেয়ার করুন

সোমবার থেকে চট্টগ্রামে বসছে দুই শতাধিক গরুর হাট

সোমবার থেকে চট্টগ্রামে বসছে দুই শতাধিক গরুর হাট

সিপ্লাস প্রতিবেদক: করোনা সংক্রমণ ও কঠোর লকডাউনের মধ্যেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সোমবার (১২ জুলাই) থেকে চট্টগ্রাম মহানগরী এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দুই শতাধিক কোরবানীর পশুর হাটে শুরু হবে বেচাবিক্রি।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর কোরবানি উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার ১৫ উপজেলায় ৬৩টি স্থায়ী এবং ১৪৬টি অস্থায়ী পশুর হাট বসেছিল।

চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবার পশুর হাটের সংখ্যা ৬টি। এর মধ্যে ৩টি স্থায়ী ও ৩টি অস্থায়ী। বিগত সময়ে চট্টগ্রাম মহানগরীতে অস্থায়ী হাটের সংখ্যা ছিল ৭টি।

অস্থায়ী পশুর হাট কমে যাওয়ায় এবার চট্টগ্রাম মহানগর ও বিভিন্ন উপজেলায় মোট পশুর হাটের সংখ্যা দুই শতাধিক বলে জানা গেছে।

তবে করোনা ভাইরাসের ক্রমবর্ধমাণ সংক্রমণের মাঝে অনলাইন অথবা পাড়ায় পাড়ায় কোরবানির পশুর হাটকে অধিকতর নিরাপদ মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সচেতন জনগোষ্ঠী। তারা বলছেন, এতে লকডাউন ভেঙে ক্রেতাকে যেমন দূরে পশুর হাটে যেতে হবে না, তেমনি অধিক জনসমাগম বা লোকজনের ভিড় এড়ানোও সম্ভব হবে।

প্রতিবছর নগরীতে অন্তত সাতটি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর জন্য অনুমতি দিলেও প্রশাসন এবার দিয়েছে মাত্র তিনটি। অথচ স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জেলা করোনা প্রতিরোধ সমন্বয় কমিটির বৈঠকে করোনার প্রকোপ বিবেচনায় আরো বেশি স্থানে পশু বেচাকেনার অনুমতি দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল।

সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি জানান, কোরবানির পশুর হাট বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছিলাম আমরা। হাট যতো বেশি হবে মানুষের ভিড় ততো কম হওয়ার কথা। এছাড়া, অনলাইনে কোরবানির পশু বেচাকেনার উদ্যোগ নিলে খুবই ইতিবাচক হতো। এতে শারীরিক সংস্পর্শ এড়ানো যেতো।

চট্টগ্রাম সিটি করপোশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, সিটি করপোরেশন অনুমোদিত বড় তিনটি পশুর হাট বসে চট্টগ্রাম মহানগরীতে। এগুলো হলো সাগরিকা গরুর বাজার, বিবির হাট গরুর বাজার এবং পোস্তার পাড় ছাগলের বাজার। এছাড়া কোরবানি উপলক্ষ্যে আরও ৩টি অস্থায়ী গরুর হাটের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এসব বাজারে ১২ জুলাই থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত হাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বাকলিয়া, বহদ্দারহাট ও চকবাজারে তিনটি সীমিত গরুর হাটে গিয়ে দেখা গেছে, ইতিমধ্যে কিছু কিছু বেচাবিক্রি শুরু হয়েছে। এসব স্থানে রাখা গরুর মালিকরা বলেছেন, দিনে কয়েক জন করে ক্রেতা আসেন। দরদামে বনিবনা হলে গরু নিয়ে যাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ দাম পরিশোধ করে দিয়ে গরু তাদের তাঁবুতে রেখে দিচ্ছেন।

তারা বলেন, সচেতন মানুষ এখন ভিড় এড়িয়ে চলতে চান। তাই আগেভাগে আমাদের মতো কম গরুর তাঁবুতে আসছেন। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পাড়ার হাটে পশুর বেচাবিক্রি বেশি বলে মনে হচ্ছে। তবে এসব কোরবানিদাতাদের বড় গরুর দিকে ঝোঁক কম।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রেয়াজুল হক জানান, লকডাউন এবং করোনা সংক্রমণের কারণে অনলাইনে এবং বিভিন্ন খামার থেকেই কোরবানির পশু কিনতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। হাট ছাড়াই খামার থেকে বিপুল পরিমাণ গরু বিক্রি হচ্ছে। এতে কোরবানির প্রায় ৬০% ই হাটের বাইরে বিক্রি হয়ে যাবে। ৪০% মতো হাটে বিক্রি হবার সম্ভাবনা আছে। এতে হাটে লোক সমাগম কম হবে। এছাড়া হাটে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোরবানির হাট পরিচালনার জন্য হাটের ইজারাদারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।