নিউজটি শেয়ার করুন

সোনার দর আরেক দফা কমল

সিপ্লাস ডেস্ক: মহামারীর মধ্যে কয়েক দফা বেড়ে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি হওয়ার পর সোনার দাম সপ্তাহের ব্যবধানে আরেক দফা কমেছে।

এবার ভরিতে কমানো হয়েছে এক হাজার ১৬৬ টাকা; গত ২৫ নভেম্বর কমানো হয়েছিল আড়াই হাজার টাকা।

যুক্তরাষ্ট্রের ভোটের পর আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমায় দেশেও কমানো হয়েছে বলে গহনা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

দুই দফায় সাড়ে ৩ হাজার টাকা কমার পরও দেশে সবচেয়ে ভালো মানের সোনার ভরি এখনও ৭২ হাজার টাকার উপরে রয়েছে, যা বছরের শুরুতে ছিল ৫৮ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) মঙ্গলবার রাতে এক ঘোষণায় সব ধরনের সোনার দাম ভরিতে এক হাজার ১৬৬ টাকা কমানোর ঘোষণা দেয়।

বুধবার থেকে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সবচেয়ে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনা ৭২ হাজার ৬৬৭ টাকায় বিক্রি হবে।

২১ ক্যারেটের সোনা বিক্রি হবে ৬৯ হাজার ৫১৭ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের বিক্রি হবে ৬০ হাজার ৭৬৯ টাকায়।

আর সনাতন পদ্ধতির সোনা বিক্রি হবে ৫০ হাজার ৪৪৭ টাকায়।

করোনাভাইরাস মহামারীর শুরু থেকেই সোনার দাম বাড়ছিল। কয়েক দফা বেড়ে মাঝে কিছু কমলেও গত অগাস্ট মাসে দেশের বাজারে সোনার ভরি ৭৭ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যায়, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

তারপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন গিয়ে অনিশ্চয়তায় সোনার বাজারে স্থিরতা আসছিল না।

বাজুসের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা বলেন, যে কোনো অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মন্দার সময় মূলত স্বর্ণের চাহিদা বেড়ে যায়। আর এ কারণেই চলতি বছরে করোনাভাইরাস মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকেই বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ কেনার দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন। এতে দাম রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

“গত অগাস্টে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৭২ ডলার ৫০ সেন্ট পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল। মূলত এ সময়ে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতে স্বর্ণের মজুদ শুরু হয়। এসব দেশের বিনিয়োগকারীরা মহামারীর মধ্যেও রেকর্ড পরিমাণ দাম পেতে মজুদে জোর দিতে থাকে। সব মিলিয়ে চলতি বছর স্বর্ণের দাম ২১ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।”

তিনি বলেন, “বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সোনার বাজার অস্থির হয়ে উঠেছিল। জো বাইডেন জয়ী হওয়ায় সর্বত্র একটা স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরে এসেছে। এর প্রভাবেই কমে আসছে দাম। আমরাও সেই দামের সঙ্গে সমন্বয় করে কমাচ্ছি।”

যুক্তরাষ্ট্রে ভোটের পর সোনার দাম কমে গত ২৪ নভেম্বর আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১৮০৪ ডলারে নেমে আসে, যা জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন। মঙ্গলবার সেই দাম ১৮০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে আরও কমলে স্থানীয় বাজারেও সোনার দাম আরও কমানো হবে বলে জানান আগারওয়ালা।

দেশে সোনার দাম কমলেও রুপার দামে কোনো হেরফের হয়নি। আগের দামেই বিক্রি হবে রুপার গহনা।

গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে সোনার মতো হলমার্ক চিহ্নযুক্ত (কেডিএম) রুপা বিক্রি করার ঘোষণা দিয়েছে বাজুস।

প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট রুপা এক হাজার ৫১৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২১ ক্যারেটের রুপার অলংকার বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৪৩৫ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের ভরি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২২৫ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির রুপার গহনা বিক্রি হচ্ছে ৯৩৩ টাকায়।