নিউজটি শেয়ার করুন

সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ বন্ধ করতে বেলা সহ পাঁচ সংগঠনের লিগ্যাল নোটিশ

হাসপাতাল নয় ঘোষণা করতে হবে জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক স্থান

সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ বন্ধ করতে বেলা সহ পাঁচ সংগঠনের লিগ্যাল নোটিশ
সিপ্লাস প্রতিবেদক: নগরীর সিআরবিতে গাছপালা কেটে ও পরিবেশ নষ্ট করে হাসপাতাল নির্মাণ বন্ধ করে “বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা, জাতীয় ঐতিহ্য স্মারক বৃক্ষ এবং কুঞ্জ বন ও জীববৈচিত্র সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক স্থান ঘোষণা এবং শতবর্ষী গাছ গুলিকে স্মারক বৃক্ষ হিসেবে ঘোষণা” করার দাবি জানিয়ে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলা সহ ৫টি সংগঠন।
নোটিশটি রেলপথ মন্ত্রণালয় সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এর মহাপরিচালক, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রধান বনসংরক্ষক, বাংলাদেশ, রেলওয়ে জেনারেল ম্যানেজার পূর্বাঞ্চল, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনার, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ ও কোম্পানি লিঃ বরাবরে পাঠানো হয়েছে।
লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমেদ কবীর।
লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি পত্র-পত্রিকায় সংবাদে দেখা যায় বাংলাদেশ রেলওয়ে ও বেসরকারি সংস্থা ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ এন্ড কোম্পানি লিমিটেড যৌথভাবে ৬ একর জায়গার উপর ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ১০০ আসন বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ করতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। যদিও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনাতেই সিআরবি এলাকাকে উন্মুক্ত স্থান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং চট্টগ্রাম নগরীর সকল পাহাড়-টিলা কে বিশেষ নিয়ন্ত্রণ অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করে সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত রক্ষিত অঞ্চল হিসেবে গণ্য করেছে। চট্টগ্রামের ফুসফুস খ্যাত অপরূপ নৈসর্গিক অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্যকলা ইতিহাসসমৃদ্ধ সিআরবি এলাকায় স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি হাসপাতাল থাকা সত্বেও একটি বেসরকারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মিত হলে পাহাড়-টিলা এবং অসংখ্য গাছপালা কাটা পড়বে। জীববৈচিত্র তাদের বাসস্থান হারাবে। জনসাধারণের যাতায়াত বৃদ্ধি পাবে। লোক সমাগম হবে। যাতে করে সিআরবি অঞ্চল তার শত বছরের বৈশিষ্ট্য হারাবে এবং নির্জন এলাকাটি কোলাহল যুক্ত একটি ব্যস্ত এলাকায় পরিণতি হবে। তাতে করেই এ অঞ্চলের গাছ ও জীববৈচিত্র্য নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
লিগ্যাল নোটিশ আরও বলা হয়, গাছপালা ও টিলার সমন্বয়ে মোট ২১০ একর এলাকায় রয়েছে সেন্ট্রাল ব্রিটিশ আমলের রেলওয়ে বিল্ডিং, অসংখ্য দৃষ্টিনন্দন বাংলো, সিরিজ গর্জন সহ নানা শতবর্ষী গাছ। সমুদ্র তীরবর্তী নদীবেষ্টিত চট্টগ্রাম নগরী তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য দেশি বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করে আসছে। নগর জীবনের ব্যস্ততার মাঝে একদণ্ড শান্তি খোঁজার জন্য নাগরিকদের সিআরবি এলাকায় সমবেত হন মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নির্মল বায়ু নির্জনতা উপভোগ ইত্যাদি কারণে। সেখানে শিরিষতলা নামে একটি প্রশস্ত মাঠ রয়েছে।যেখানে প্রতি বছর পহেলা বৈশাখ ও পহেলা ফাল্গুন ইত্যাদি উৎসব আয়োজন হয়ে থাকে।
লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর সাথে যুক্ত অন্যান্য সংগঠনগুলো হলো বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), এসোসিয়েসন ফর ল্যান্ড রিফফরম অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট, নিজেরা করি ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)।