নিউজটি শেয়ার করুন

লোহাগাড়ায় সাঈদীপুত্র ও রকি’র গোপন বৈঠকেই বৌদ্ধ বিহার ভাংচুরের সিদ্ধান্ত : লোহাগাড়া সম্মিলিত নাগরিক সমাজের দাবী

লোহাগাড়া প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা বিবিবিলাস্থ বৌদ্ধ বিহার ভাংচুরের ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত সাজানো নাটক। গত ১ এপ্রিল মধ্যরাতে স্থানীয় রকি বড়ুয়ার বাড়ীতে ঢাকা থেকে এসে রাতভর গোপন বৈঠক করেন যুদ্ধাপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াতের শীর্ষ নেতা মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী’র পুত্র মাসুদ সাঈদী ও মাওলানা তারেক মনোয়ারসহ জামায়াতের অন্তত ১০/১২ জন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা।

আর এ বৈঠকের সিদ্ধান্ত মতেই গত ৩ মে বিবিবিলার বৌদ্ধ বিহারটি ভাঙচুর করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে উল্টো স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবী করেছেন লোহাগাড়া সম্মিলিত সচেতন নাগরিক সমাজ।

রবিবার (১০ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় সংগঠনটির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবী করেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দরা।

এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চরম্বা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসহাব উদ্দিন। লিখিত বক্তব্যে আসহাব উদ্দিন জানান, জনৈক কৃষক মহিউদ্দিনের পুকুরে অবৈধভাবে জোরপূর্বক স্থানীয় রকি বড়ুয়া ও তার ক্যাডার বাহিনী কর্তৃক মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। ওইদিন মহিউদ্দিন পুকুরে মাছ ধরতে বাঁধা দিলে রকি বড়ুয়ার নেতৃত্বে তার ওপর হামলা করা হয়। এ ঘটনায় রকি বড়ুয়াসহ ১২ জনকে আসামী করে থানায় মামলা করেন। রকি বড়ুয়া নিজেকে বাঁচাতে তার বাড়ীর নিকটে বৌদ্ধ বিহার ভাঙার সাজানো ঘটনা ঘটায়। ভোর রাতে বৌদ্ধ বিহারটি ভাংচুর করে। পরে রকি বড়ুয়ার বাবা জয়সেন বড়ুয়া বাদী হয়ে চরম্বা আওয়ামী লীগ নেতা মো. জামাল উদ্দিন এবং মাওলানা হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ৪ মে বৌদ্ধ বিহার ভাংচুরের মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে বৌদ্ধ বিহার ভাংচুরের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে ভন্ড, প্রতারক ও সন্ত্রাসী রকি বড়ুয়া ও তার বাহিনীকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ও বাংলাদেশ বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা বিজয কুমার বড়ুয়া, লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও লোহাগাড়া শহর পরিচালনা কমিটির আহবায়ক সালাহ উদ্দিন হিরু, উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নিবাস দাশ সাগর, সাধারণ সম্পাদক মাস্টার গোপাল বড়ুয়া, চরম্বা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার শফিকুর রহমান, বড়হাতিযা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রিটন বড়ুয়া রোনা, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক রিদওয়ানুল হক সুজন, সাতকানিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আবু ছালেহ, সাতকানিয়া-লোহাগাড়া বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক তুষার বড়ুয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক টিপু বড়ুয়া, চরম্বা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হকসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।