নিউজটি শেয়ার করুন

লালখানবাজারে ইস্পাহানি গ্রুপের পাহাড় ধস, এলাকাবাসী আতঙ্কে

লালখানবাজারে ইস্পাহানি গ্রুপের পাহাড় ধস

সিপ্লাস প্রতিবেদক: টানা ৪ দিনের ভারী বর্ষণে শহরের বহু জায়গায় হাঁটু পরিমাণ, আবার কোথাও কোথাও বুক সমান পানিতে একাকার পুরো বন্দর নগরী চট্টগ্রাম। সাথে বাড়তি আতঙ্কের নাম এখন পাহাড় ধস।

শুক্রবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ১৪ নং লালখানবাজার ওয়ার্ডের গরীব উল্লাহ শাহ্ হাউজিং সোসাইটির ৭ নং রোডে রিটার্নিং ওয়াল বেঁকে ধসে পড়েছে ইস্পাহানি গ্রুপের মালিকানাধীন পাহাড়ের একাংশ। শেকড় উপড়ে পাহাড়ের গাছগুলো আঁচড়ে পড়েছে লোকালয়ে।

এর আগে একই ওয়ার্ডে বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) বাইতুল আমান হাউজিং সোসাইটিতে বিকাল ৩ টার কিছু সময়ের পর ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি পাহাড় ধস হয়।

স্থানীয়রা জানান, সকাল ৯ টার দিকে হঠাৎ করে ইস্পাহানি গ্রুপের মালিকানাধীন একটি পাহাড়ের একাংশ ভেঙে পড়ে।এখানে তাদের প্রচুর পাহাড় রয়েছে। তবে তাদের পাহাড়গুলোর গা-ঘেঁষে রিটার্নিং ওয়াল দেয়া আছে। কোনো সময় এমন হয়নি। তবে এবার ধসে পড়েছে। আমরা স্থানীয় ও জেলা প্রশাসনের নির্দেশে গাছগুলো সরিয়ে নিচ্ছি।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাসনাত মো. বেলাল সিপ্লাসকে বলেন, আমার ওয়ার্ডে যে পরিমাণ পাহাড় রয়েছে অন্যান্য ওয়ার্ডে তেমন পাহাড় নেই। তবে পাহাড় ধস ঠেকাতে হলে পরিবেশ আইনের যথাযথ এবং কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। ইতিমধ্যে বাইতুল আমান হাউজিংয়ে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের আমরা সরিয়ে নিয়েছি।

এদিকে আজ পাহাড় ধসের এলাকা পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এম. রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি সিপ্লাসটিভিকে বলেন, সরকারি হোক কিংবা ব্যক্তি মালিকানাধীন, কোনো পাহাড়ই কাটা যাবেনা। আমরা ইতিমধ্যে একটি প্রকল্প নকশা সংশ্লিষ্ঠ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। যাতে করে রিটার্নিং ওয়াল দিয়ে ভারি বৃষ্টিপাতের সময় পাহাড় ধস ঠেকানো যায়।

‘তবে কিছু দুষ্টু প্রকৃতির লোক প্রতিনিয়ত পাহাড়গুলো দখল করছে। স্থানীয়দের আহ্বান জানাবো, তারা এদের বিরুদ্ধে যাতে সোচ্চার থাকে’।

প্রসঙ্গত: চট্টগ্রামের বালি মাটির আধিক্যের পাহাড়গুলো দিনে ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে ধসের আশঙ্কা দেখা দেয়। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আগে থেকে কেটে ফেলায় ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড় টানা বৃষ্টিতে ধসে পড়ে।

উল্লেখ্য, এর আগে গেলো জুন মাসের (১৪ জুন) বর্ষায় পাহাড় ধসের শংকায় চট্টগ্রামের বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোডের অবৈধ বসতি ও স্থাপনা উচ্ছেদে যৌথভাবে অভিযান শুরু করেছিল প্রশাসন।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments