নিউজটি শেয়ার করুন

রোহিঙ্গা সঙ্কট: এ বছর ৯৪ কোটি ডলার তুলতে চায় জাতিসংঘ

সিপ্লাস ডেস্ক: বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে থাকা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন করে জোরালো সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা এই শরণার্থীদের জন্য ৯৪ কোটি ৩০ লাখ ডলারের একটি নতুন যৌথ সহায়তা পরিকল্পনা (জেআরপি) নিচ্ছে তারা।

ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র অ্যানড্রেজ মাহেকিক শুক্রবার জেনিভায় এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন এই পরিকল্পনার কথা জানান।

মঙ্গলবার দাতাদের বৈঠকে নতুন এই পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘের ১৩৪টি সংস্থা এবং এনজিও অংশীদাররা মিলে প্রায় ১৪ লাখ রোহিঙ্গার মৌলিক চাহিদা পূরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আগামী এক বছরের জন্য সেই খরচ যোগানোর পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে ২০২১ সালের এই জেআরপিতে।

এই পরিকল্পনায় কক্সবাজার জেলায় আট লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীর পাশাপাশি তাদের আশ্রয়দাতা চার লাখ ৭২ হাজার বাংলাদেশি নাগরিকের জন্যও সহায়তার কথা বলা হয়েছে।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানে ব্যাপক দমন-পীড়নের মধ্যে রোহিঙ্গারা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে শুরু করে।

তখন থেকে জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি) নামে রোহিঙ্গাদের জন্য তহবিল সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার কাজটি করে আসছে জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন স্ট্র্যাটেজিক এক্সিকিউটিভ গ্রুপ।

জেনিভার সংবাদ সম্মেলনে ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বলেন, “রোহিঙ্গা সঙ্কট চতুর্থ বছরে; এমন পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশের বিস্তৃত ও টেকসই আন্তর্জাতিক সহায়তা দরকার। এই সঙ্কটের কথা যাতে আমরা ভুলে না যাই, তা নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশাপাশি তাদের যারা বছরের পর বছর ধরে আশ্রয় দিয়ে আসছে, সেই বাংলাদেশিদের পাশেও বিশ্বকে দাঁড়াতে হবে। আর জটিল এই সঙ্কটকে আরও জটিল করে তুলেছে কোভিড-১৯ মহামারী, যা শরণার্থী এবং আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়- উভয়কে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

ইউএনএইচসিআর বলছে, দাতাদের সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশ ‘কার্যকরভাবে’ রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে এবং এর আশপাশের এলাকায় কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে। তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণের গতিবিধি নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার উপায় নেই।

বিবৃতিতে বলা হয়, একটি সমন্বিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ অনেক জীবন রক্ষা করেছে, যদিও সব ধরনের মানবিক সহায়তা ও নিরাপত্তা সেবা অব্যাহত রাখার কাজটি সহজ নয়।

রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের চাহিদা পূরণের জন্য ২০২০ সালের জেআরপিতে ১০০ কোটি ডলারের বেশি তহবিল চেয়েছিল জাতিসংঘ। শেষ পর্যন্ত এই আবেদনের মাত্র ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশ পূরণ হয়েছে।

ইউএনএইচসিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে একটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য ‘অবশ্যই মনোযোগ ধরে রাখতে’ হবে, যাতে পরিস্থিতি অনুকূল হলে কাজ শুরু করা যায়।

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান ঘিরে চলমান সঙ্কট ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জটিলতার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

রয়টার্স লিখেছে, বাংলাদেশ সরকার, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা-আইওএম এবং ইউএনএইচসিআরের যৌথ আয়োজনে ২০২১ সালের জেআরপির ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘সবচেয়ে জরুরি চাহিদাগুলোর’ দিকে আলোকপাত করা হবে।