নিউজটি শেয়ার করুন

রাঙ্গুনিয়ায় ১০৬৪ জনের মধ্যে কোয়ারেন্টিনে ২০

প্রবাস থেকে ১০৬৪ জন রাঙ্গুনিয়া প্রবাসী দেশে এসেছেন, কিন্তু তাঁদের মধ্যে মাত্র ২০ জন বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। তাঁদের অনেকেই কোয়ারেন্টিনের নীতি মেনে চলছেন না। তারা আত্নীয়-স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছেন, হাঁটে-বাজারে ঘুরছেন, পাবলিক প্লেসে অবস্থান করছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয়দের অভিযোগে এই তথ্য জানা গেছে।

রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ১ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ১০৬৪ জন রাঙ্গুনিয়া প্রবাসী দেশে ফিরেছেন। তবে প্রবাস ফেরত ১০৬৪ জনের মধ্যে অল্প সংখ্যক প্রবাসী শুধুমাত্র রাঙ্গুনিয়ায় আছেন, বাকীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকছেন। যারা আছেন তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মনিটরিং করা হচ্ছে, নির্ধারিত ফরমে তারা হোম কোয়ারেন্টিনে থাকবেন সেই ব্যাপারে অঙ্গীকার নেওয়া হচ্ছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি বিদেশ থেকে অনেকেই দেশে ফেরেন, কিন্তু তাঁদের কেউ বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে না থেকে এলাকায় ঘোরাফেরা করছেন। তবে তাঁদের অধিকাংশের দাবি করেছেন, তাঁরা কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নন।

পোমরা এলাকার ইলিয়াছ উদ্দিন বলেন, ‘বিদেশ থেকে ফেরা অনেকে বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে না থেকে পরিবার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে মেলামেশা করেছেন। এতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা সবাই করোনাভাইরাসের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি। একার পক্ষে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়, সবার সমন্বয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজিব পালিত জানান, এ পর্যন্ত মোট ২০ জনকে বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত মাঠ কর্মীদের মাধ্যমেও আমরা ৭৫ জনের একটি প্রবাসীদের তালিকা পেয়েছি, যাদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্য বলা হচ্ছে। তবে তাদের মধ্যে শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ এরকম কাউকে পাওয়া যায়নি।
উপজেলায় ১ হাজারের বেশি প্রবাসী ফেরত আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে বিমানবন্দরের একটি তালিকা আমরা পেয়েছি, যেখানে ২/১ জন ইতালি ফেরত সহ অধিকাংশই এসেছেন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে। প্রবাসীরা হোম কোয়ারেন্টিনে না থাকলে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা যেখানেই খবর পাচ্ছি, সঙ্গে সঙ্গে প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বাধ্য করছি। হোম কোয়ারেন্টিন নীতি মানছেন না এরকম খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছি। ইতিমধ্যে রাঙ্গুনিয়ায় প্রবাস ফের‍ত তিন জনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে সামাজিক , সাংষ্কৃতিক, রাজনৈতিক , ধর্মীয় অনুষ্ঠান, জমায়েত সভা-সমাবেশ না করতে মাইকিং করা হচ্ছে। আদেশ অমান্য করে কোচিং সেন্টার খোলা রাখার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। করোনার অজুহাতে বাজারে দ্রব্যমূল্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। এছাড়া করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গ্রাম পুলিশের সদস্যদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। তাঁরা বিদেশফেরতদের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে তথ্য দেবেন। সেই তথ্য নিয়ে প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো ও থাকা মনিটরিং করা হয়।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান চৌধুরী বলেন, যাঁরা বিদেশ থেকে ফিরছেন, তাঁদের নিজের পরিবার–পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও দেশের স্বার্থে স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা উচিত। বিষয়টি আমাদের সবাইকে বোঝাতে হবে, সচেতন করতে হবে। দেশের বাইরে থেকে যারা আসছেন, তাদের পরিবারের কাছে গিয়ে আমাদের হোম কোয়ারেন্টিন বিষয়টি নিয়ে বোঝাতে হবে। এরই মধ্যে উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূলেও হোম কোয়ারেন্টিন পর্যবেক্ষণে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে ঝুঁকি এড়াতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জনগণের সচেতনতা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং সমাজের প্রতিনিধিরা যদি একসঙ্গে কাজ করে এবং এই সম্পর্কে সচেতন করা যায়। তাহলেই এই ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।