নিউজটি শেয়ার করুন

রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি-জামায়াতের ২১৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দুই মামলা

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: রাঙ্গুনিয়ার কোদালায় বিএনপি নেতা মো. ইউনুছ মনি’র নেতৃত্বে বের হওয়া মিছিল থেকে হামলায় আ.লীগ ও যুবলীগের তিন নেতা গুরুতর আহত ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা রুজু করা হয়েছে থানায়।

মামলা দুটিতে বিএনপি-জামায়াতের কর্মী ও হেফাজত সমর্থক ৬৪জন এজাহার নামীয় এবং অজ্ঞাতনামা ১৫০জনসহ মোট ২১৪জনকে আসামী করা হয়েছে।

দুটি মামলাতেই উপজেলা বিএনপি নেতা ইউনুছ মনি’কে প্রধান আসামী করা হয়েছে।

হেফাজত ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের একটি রিসোর্টে নারীসহ অবরুদ্ধের প্রতিবাদে গত শনিবার রাতে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিলটি বের করে তারা।

এসময় লাঠিসোটা দিয়ে ইউনিয়ন আ.লীগ নেতা মো. মুহিবুল্লাহ, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আবদুল জব্বার, ও সাবেক সাধারন সম্পাদক দিলদার আজম লিটনকে বেধড়ক মারধর করা হয়।

আ.লীগ নেতা মুহিবুল্লাহ বর্তমানে নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা গুরুতর, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তার মাথা ও শরীরে কয়েক’শ আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

বাকি দুজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

সোমবার (৫ এপ্রিল) সকালে বিক্ষোভ মিছিলের নামে মারধর করে দাঙ্গা সৃষ্টি ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক মামলা রুজুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাহাবুব মিল্কি।

মারধর করে দাঙ্গা সৃষ্টির ঘটনায় দন্ডবিধি আইনে মামলাটির বাদি কোদালা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. আবদুল জব্বার ও ককটেল বিস্ফোরণের মামলার বাদি শিলক তদন্ত কেন্দ্রের এসআই খোরশেদ আলম।

মামলা দুটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন শিলক তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এস আই মজিবর রহমান।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত শনিবার (৩ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে হেফাজত ইসলামের যুগ্ন মহাসচিব মামুনুল হক নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে একটি রিসোর্টে নারীসহ অবরুদ্ধের খবর ছড়িয়ে পড়লে রাঙ্গুনিয়ার কোদালায় একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন বিএনপি-জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। মিছিলে হেফাজত ইসলামের একংশের কর্মীরাও যোগ দেন।

মিছিলের অগ্রভাগে নেতৃত্ব দেন বিএনপি নেতা ইউনুছ মনি।

মিছিলটি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড থেকে শুরু করে পূর্ব কোদালা ৬ নং ওয়ার্ড পর্যন্ত যান। পরে ৫নং ওয়ার্ড দক্ষিণ পাড়া জামে মসজিদের সামনে বিক্ষোভ মিছিল থেকে লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করা হয় যুবলীগ নেতা আবদুল জব্বার, দিলদার আজম লিটন ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মোহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ’র ওপর।

হামলার মামলার বাদি ও আহত যুবলীগ নেতা আবদুল জব্বার জানান, বিএনপি’র ইউনুছ মনি’র নেতৃত্বে মিছিল বের করে তারা। তখন রিক্সা নিয়ে আমরা বাড়ি যাচ্ছিলাম। এসময় অতর্কিত দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র হাতে আমাদের উপর হামলা করে তারা।

বিস্ফোরক মামলার বাদি শিলক তদন্ত কেন্দ্রের এসআই খোরশেদ আলম জানান, বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে লোকজনকে মারধর করছে এবং কোদালা বাজার ব্রীজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে এমন খবর পেয়ে সেদিন রাতে আমিসহ সিনিয়র অফিসাররা সেখানে যাই। এসময় তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ ও কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।

রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুব মিল্কি বলেন, দুটি মামলায় অভিযুক্ত এজাহার নামীয় ও অজ্ঞাতনামাদের ব্যাপারে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্ঠারতদের কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা।