নিউজটি শেয়ার করুন

রাঙ্গুনিয়ায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: রাঙ্গুনিয়ায় এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের গুনগুনিয়া বেতাগী ছড়ারকুল নিয়াজ পাড়া এলাকায় এই ঘটনায় ঘটে।

তার নাম জান্নাতুল তসলিমা বৃষ্টি (২০)। সে ওই এলাকার কাতার প্রবাসী জাহাঙ্গীর আহমদ সিরাজের স্ত্রী। নিহতের শ্বশুড় বাড়ির লোকজনের দাবী সে সবার অজান্তে ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে।

অন্যদিকে তাকে পরিকল্পীতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবী করছেন তার বাপের বাড়ির লোকজন।

এই ঘটনায় এলাকায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে এটি হত্যা না আত্মহত্যা সেই ব্যাপারে জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত গৃহবধূর ভাই মো. কুতুব উদ্দিন বখতিয়ার জানায়, নিহত গৃহবধূ তসলিমা বৃষ্টি উপজেলার স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ড শান্তিনিকেতন এলাকার আমির হোসেনের মেয়ে। সোমবার সকাল ১০টা ৪৪ মিনিটের দিকে তাদের ফোন করে শ্বাশুড়ি এবং তার বড় ঝাঁ নিহত তসলিমার গুরুতর অসুখ হয়েছে বলে খবর দেয়।

অসুস্থতার খবরে দ্রুত তসলিমার শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে দেখেন তসলিমার নিথর দেহ তার নিজ কক্ষের বিছায় শুয়ানো রয়েছে। উপরে ফ্যানের সাথে শাড়ির অর্ধেক ছেড়া অংশ ঝুলে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গত ৩ বছর আগে তার বোনের বিয়ে হয়। বিয়ের ২১ দিনের মধ্যে স্বামী প্রবাসে চলে গেলেও দীর্ঘ ৩ বছরেও সে আর দেশে আসেনি।

অন্যদিকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার উপর নানা মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে। একসময় তাকে মেরে ফাঁসিতে ঝুলানোরও হুমকি দিয়েছিল তার শ্বাশুড়ি। এই হুমকিরই বাস্তবায়ন ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাকে পরিকল্পীতভাবে হত্যা করে ফ্যানের সাথে ঝুলানোর নাটক করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নিহত গৃহবধূ তসলিমার শ্বশুর ফরিদ হোসেন জানান, গৃহবধূ তসলিমা সুন্দর করেই সংসার করে আসছিল। তাদের পারিবারিক কোন বিরোধ নেই। সোমবার সকালে দীর্ঘক্ষণ রুমের দরজা না খুললে তারা অনেক ডাকাডাকি করেন। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে দেখেন সে ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। সে বেঁচে আছে ভেবে চিকিৎসা দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতিবেশির সহায়তায় নিচে নামিয়ে দেখেন ততক্ষণে তসলিমার মৃত্যু হয়েছে। তবে কেন এবং কি কারণে আত্মহত্যা করতে পারে এমন প্রশ্নে তিনি এই ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে জানান।

জানতে চাইলে রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মাহবুব মিল্কি জানান, “আলামত দেখে বুঝা যাচ্ছে গৃহবধূ ফাঁসিতে ঝুলেই মারা গেছেন। তবে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই এটি হত্যা না আত্মহত্যা সেই ব্যাপারে জানা যাবে।”