নিউজটি শেয়ার করুন

রাঙ্গুনিয়ায় কিশোরকে ধরে নিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার পায়তারা

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি : রাঙ্গুনিয়ায় জমির উদ্দিন মানিক (১৭) নামে দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোরকে ধরে নিয়ে অষ্টম শ্রেণীর এক কিশোরীর সাথে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার পায়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলার শিলক ইউনিয়নে ৪নম্বর ওয়ার্ড বহদ্দারপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে কিশোর ছেলেটিকে ধরে অজ্ঞাতস্থানে লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।

নিখোঁজ জমির উদ্দিন মানিক ওই ওয়ার্ডের গুয়াজপাড়া এলাকার মো. নাজিমের ছেলে।

শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) এই ঘটনায় তার মা মিনুয়ারা বেগম বাদী হয়ে রাঙ্গুনিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কিশোর-কিশোরী দু’জনেই বেদৌরা আলম চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে জানা যায়। এমন ঘটনায় এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মানিকের মোবাইলে ফোন আসলে সে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে। রাত ৮টার দিকে খবর আসে একই ওয়ার্ডের বহদ্দারপাড়া এলাকার এক কিশোরী মেয়ের বাড়িতে তাকে আটকে রেখে মারধর করা হচ্ছে। আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার মানুষদের সাথে নিয়ে ছেলেটির বাবা-মা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন তাদের সন্তানকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। মারধরের কারণ জিজ্ঞেস করলে বলে তাদের মেয়ের সাথে মানিকের প্রেমের সম্পর্ক আছে। মানিককে তারা ওই মেয়ের সাথে বিয়ে দিতে চাই। তখন মানিকের পরিবার তার বয়স কম উল্লেখ করলে তারা উল্টো খেপে যায় এবং ইউসুফ নামে মানিকের এক আত্মিয়কেও মারধর করে।

বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানালে তিনি মিমাংসা করার আশ্বাস দেন। তবে শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরের দিকে মানিক ও ওই মেয়েটিকে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যায় তারা। অনেক খোঁজাখুজি করেও মানিকের আর কোন খবর পাওয়া যায় না। নিখোঁজ মানিকের মায়ের দাবী, ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে ফাসানোর পায়তারা করছে মেয়েটির পরিবার। সেজন্য তার সন্তানকে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে কৌশলে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখন মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তার ছেলেকে তুলে নিয়ে গিয়ে জোর করে বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এই ব্যাপারে শিলক ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “দু’জনেই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং স্কুল শিক্ষার্থী। সুতারাং জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ হবে।”

অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে শিলক তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মো. মুজিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।