নিউজটি শেয়ার করুন

রাঙ্গুনিয়ার ৭ উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বেহাল চিকিৎসেবা

জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া: রাঙ্গুনিয়ার ৭ উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বেহাল স্বাস্থ্যসেবায় চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা। এসব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে দেখাই মেলে না চিকিৎসকদের। সপ্তাহের অধিকাংশ দিন তালাবদ্ধ থাকে এসব উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র।

তবে জনবল সংকট বলছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘সপ্তাহের ৬ দিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো খোলা থাকার কথা রয়েছে।

নিয়ম অনুসারে একটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১ জন মেডিকেল অফিসার, ১ জন উপসহকারী মেডিকেল অফিসার, ১ জন ফার্মাসিস্ট এবং একজন এমএলএসএস দায়িত্বে থাকার কথা থাকলেও তাদের কেউই দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করেন না।

বুধবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় উপজেলার বেতাগী ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, এদিনও তালাবদ্ধ রয়েছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। এভাবেই সপ্তাহে ৬ দিনের মধ্যে ৪ দিনই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি তালাবদ্ধ থাকে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এছাড়া কোন এমবিবিএস চিকিৎসক ছাড়াই কয়েকবছর যাবৎ এভাবেই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে হাসপাতালটির সেবাকার্যক্রম। তবে মাঝেমধ্যে একজন স্বাস্থ্যকর্মী দিয়েই সারানো হয় এই কেন্দ্রের চিকিৎসা কার্যক্রম। এই নিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগের অন্ত নেই।

শুধু বেতাগী ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র নয়, উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ৬টিতেই মেডিকেল কর্মকর্তাদের পোষ্টিং থাকলেও তারা এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা দিতে যান না। এতে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা। সঠিক নজরদারীর অভাবে দিনের পর দিন এভাবেই সঠিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

মো. রিমন নামে হাসপাতালের পাশ্ববর্তী এলাকার একজন বাসিন্দা বলেন, “সপ্তাহের শনিবার এবং মঙ্গলবার এই দুইদিন একজন নারী এসে মানুষের কথা শুনে আন্দাজে ঔষধ বিতরণ করেন। এছাড়া বাকী দিনগুলোতে হাসপাতাল তালাবদ্ধ থাকে। লোকজন সেবা নিতে এসে ফিরে যান। বছরের পর বছর এভাবেই চলে আসছে বেতাগী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম।”

সরফভাটা ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশেই বাড়ি ওই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈলের। তিনি হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালে নিয়মিত কোন চিকিৎসক আসেননি। অধিকাংশ সময় হাসপাতালটি তালাবদ্ধ থাকে। তবে মাঝেমধ্যে উপসহকারী মেডিকেল অফিসার গিয়ে চিকিৎসার কাজ সারেন।

গত বুধবার সকাল ১১টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে দেখি, হাসপাতালটি তালাবদ্ধ ছিল। এসময় বেশ কয়েকজন রোগী চিকিৎসা নিতে গিয়ে হাসপাতাল বন্ধ দেখে ফিরে যাচ্ছিলেন। পরে হাসপাতালের কোয়ার্টার থেকে দায়িত্বরত চিকিৎসক হাসিনা বেগমকে ডেকে আনার পর তিনি বাইরে দাড়িয়েই কথা বলে রোগীদের বিদায় করে দেন। এসময় রোগীরা তার কাছে কিছু ঔষধ খুঁজলেও তিনি সাফ জানিয়ে দেন হাসপাতালে কোন প্রকার ঔষধ নেই।”

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র নিয়েও অভিযোগের অন্ত নেই। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটিতে আছে নানা সমস্যা। হাসপাতালে প্রতিনিয়তই থাকে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি, বহির্বিভাগে অবহেলা করে রোগী দেখা, নার্স-আয়াদের দুর্ব্যবহার ও অসহযোগিতা। এরবাইরেও কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকট, প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবসহ নানা সমস্যায় হাবুডুবু খাচ্ছে এই চিকিৎসা কমপ্লেক্সটি।

রোগীদের অভিযোগ, চিকিৎসক না আসায় সামান্য কিছু হলেই চট্টগ্রাম মেডিকেলে স্থানান্তর করে দেওয়া হয় রোগীদের।

এসব বিষয়ে কথা হয় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রায়হানুল ইসলামের সাথে। তিনি জানান, “কয়েকজন মেডিকেল কর্মকর্তা বদলি হয়েছেন। এরবাইরেও নানা জনবল সংকট রয়েছে হাসপাতালে। তবে এসব বিষয়ে উর্ধ্বতন মহলকে অবহিত করা হয়েছে। আশাকরি শীঘ্রই এসব সমস্যা নিরসন হবে।”