নিউজটি শেয়ার করুন

রাঙ্গামাটিতে কাটছে পাহাড়, রাস্তা সংস্কারে বালির পরিবর্তে ব্যবহার করছে পাহাড়ের মাটি

জিয়াউল হক ইমন, রাঙ্গামাটি থেকে ফিরে: রাঙ্গামাটি-কাপ্তাই সংযোগ সড়কটির অনেকটায় আঁকা-বাঁকা আর উচুঁ-নিচু পাহাড়ি পথ।সবুজ পাহাড়ের সারি আর অন্যদিকে স্বচ্ছ নীল জলের হ্রদের কারণে পর্যটকদের জন্য এটি আর্কষনীয় । আর এই সড়ক প্রশস্ত করনে ৩০ কোটি টাকার সড়ক উন্নয়নের প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে রাঙ্গামাটি সদরের আসাম বস্তি-কাপ্তাই সড়কের দু’পাশে দেদারছে পাহাড় কেটে চলেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রাঙ্গামাটি ট্রেডার্স ।

পরিবেশ আইনের তোয়াক্কা না করে অপরিকল্পিতভাবে এই ধরনের পাহাড় কেটে রাস্তা নির্মাণের ফলে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি সামনের বর্ষা মৌসুমে ভূমি ধ্বসের আশঙ্কা করছে স্থানীয় জনসাধারণ।

এদিকে শনিবার(২ জানুয়ারি) দুপুরে রাঙ্গামাটি-কাপ্তাই সংযোগ সড়কে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে ৩০কোটি টাকার বাস্তবায়নাধীন এই সড়ক মেরামতের কাজে বালির বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে পাহাড় কাটা মাটি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিআরডি কর্তৃক আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়কটিকে টেকসই সড়ক হিসেবে গড়ে তুলতে উক্ত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাঙ্গামাটি ট্রেডার্সকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি সড়ক প্রসস্থকরণের নামে কোনো প্রকার পূর্বানুমতি ছাড়াই ড্রেজার দিয়ে একের পর পাহাড় কেটে সাবাড় করছে। এই কাজে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র নেয়নি প্রতিষ্ঠানটি।

কিন্তু রাস্তা সংস্কারের নামে পাহাড় কাটার পাশাপাশি বনায়ন ধ্বংস করা হচ্ছে। রাস্তা সংস্কারে বালির বদলে মাটি ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া পাহাড় কাটছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

গাড়ির চালক ও ঐ পথে চলাচলকারীরাও এই অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার।

তারা বলেন,  বালির পরিবর্তে পাহাড় কাটা মাটি দিলে সড়কটি খুব কম সময়ে চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়বে। এছাড়া পাহাড় ধ্বসে সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে।

রাস্তার প্রশস্তকরন কাজ চলমান থাকায় আমরা খুঁজতে থাকি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরদের,মূল ঠিকাদার না পেলেও ১১৫ নং মগবন মোরঘোনা এলাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগী কাশেম নামের একজন এসব অনিয়ম অস্বীকার করেন।

বিষয়টি জানতে চাইলে, বালি পরিমাপে না টিকলে, গ্রহণ করবেননা বলে জানিয়েছেন, রাঙ্গামাটি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আবু তালেব চৌধুরী।

রাস্তা প্রশস্ত করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বালির পরিবর্তে মাটি ব্যবহারে সুপারভাইজে থাকা প্রকৌশলী দায় এড়াতে পারেনা বলে মনে করছেন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সম্মানী সম্পাদক প্রকৌশলী এস এম শহীদুল আলম।

অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসাইন।

প্রসঙ্গতঃ গত ২০ অক্টোবর রাঙ্গামাটি উপজেলার সদর কাপ্তাই আর এন্ড এইচ থেকে বড়াদাম রোড প্রশস্তকরন কাজের উদ্বোধন করেন দীপংকর তালুকদার এমপি।

বিস্তারিত দেখতে ভিডিও লিঙ্কে ক্লিক করুন: