নিউজটি শেয়ার করুন

মিলছে লকডাউনের সফলতা, কমছে করোনা সংক্রমণ

হাসপাতালে ফিরছে স্বাভাবিক পরিস্থিতি

সিপ্লাস প্রতিবেদক: গত বছরের করোনা সংক্রমণ অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসলেও চলতি বছরের মার্চের প্রথম দিক থেকে আবারও নতুন করে সংক্রমণ বাড়তে থাকে সারাদেশে। এপ্রিলে এসে সংক্রমণ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ফলে করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার।

প্রতিদিন করোনা রোগী ও মৃত্যুহার বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৪ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে সর্বাত্মক লকডাউনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। লকডাউনের প্রথম দিকে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার স্থির থাকলেও এখন সংক্রমণ ও মৃত্যু দুটোই কমেছে। ইতিমধ্যে করোনা সংক্রমণ অর্ধেকে নেমে এসেছে। চিকিৎসকরা বলছেন লকডাউনে সবাই বিধিনিষেধ মানলে সংক্রমণ আরো কমে আসবে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে দেখা যায়, আগের মতো করোনা রোগীদের ভিড় নেই। রোগীর চাপ কমেছে। আইসিইউ বেড ফাঁকা না থাকলেও সাধারণ বেড অনেক ফাঁকা রয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে নন কোভিড রোগীর সংখ্যা কিছুদিন যাবৎ কম হলেও নতুন করে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নগরীর পতেঙ্গা এলাকা থেকে ১১ দিনের শিশু সন্তানকে নিয়ে  হাসপাতালে আসেন বাবা রকিবুল হক। আসার আগে চিকিৎসা নিয়ে শঙ্কায় থাকলেও এসে ভালো সার্ভিস পেয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, আমার মেয়ের জন্মের পর থেকেই শরীর খারাপ যাচ্ছিল। স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে জন্ডিস হয়েছে বলে জানান পরে অনেক শঙ্কার মধ্যে এখানে নিয়ে এসেছি। এসে অনেক ভালো সার্ভিস পেয়েছি। ডাক্তার আমার মেয়েকে দেখেছেন। প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। বাইরে থেকে যে শঙ্কায় ছিলাম এখানে এসে আর সেটা পাইনি।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ভর্তি হওয়ার জন্য বৃদ্ধা বাবাকে নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন জহিরুল ইসলাম। স্ট্রোক করলে  রাঙ্গুনিয়া থেকে দ্রুত বাবাকে নিয়ে আসেন হাসপাতালে। জহিরুল ইসমালও কোন অসুবিধা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা বলেন, খুশির খবর হলো যে ধীরে ধীরে আমরা লকডাউনের সফলতা পাচ্ছি। আমাদের এখানে প্রতিদিন করোনা রোগীর সংখ্যা কমছে। এক সপ্তাহ আগে যে করোনা রোগীর চাপ ছিল সেটা আর এখন নেই।

নন কোভিড রোগী সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁরা আরও বলেন, আমাদের এখানে নন কোভিড রোগীদের জন্য কোন বাধা নেই। করোনার জন্য নন কোভিড রোগীদের সংখ্যা কমে গিয়েছে। আমাদের অনেক বেড খালি আছে অথচ রোগী আসছে না। সাধারণ রোগীরা করোনার ভয়ে হয়তো আসতে চাচ্ছেন না। তবে কিছুদিন ধরে সাধারণ রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে।

একইভাবে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালেও করোনা রোগীদেরও চাপ কমেছে। বিগত কয়েক দিনে রোগীর সংখ্যা অনেকটা কমে এসেছে। সাধারণ বেড খালি পড়ে আছে। তবে আইসিইউ বেডের সংকট আগের মতো রয়েছে।

করোনা মহামারিতে গোটা বিশ্ব বিপর্যস্ত। বাংলাদেশেও দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভাইরাসটি সংক্রমণ এবং মৃত্যু উদ্বেগজনক হারে বাড়ছিল। বর্তরানে মৃত্যুর হার ও করোনা সংক্রমণের হার হ্রাস পাচ্ছে।