নিউজটি শেয়ার করুন

মহেশখালীতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা, মাইকিংয়ে সাড়া দিচ্ছেনা কেউ

পাহাড়ী দ্বীপ মহেশখালী উপজেলা

এ.এম হোবাইব সজীব,মহেশখালী: দেশের এক মাত্র পাহাড়ী দ্বীপ মহেশখালী উপজেলাতে গত সপ্তাহ থেকে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

এরই মধ্যে রবিবার (৬ জুন) উপজেলার কালারমারছড়া ফকির জুম পাড়া গ্রামে পাহাড় ধসে জাইয়ান সুলতানা (৩) নামের এক শিশু কন্যার মৃত্যু হয়েছে।

পাহাড় ধসের পাশাপাশি ঘরবাড়িও বিলীন হয়েছে অনেকের। অনেক জায়গায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে সড়ক যোগাযোগও।

এরপরও বিভিন্ন পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাসকারী অন্তত ৫০ হাজার মানুষকে সরিয়ে আনা যাচ্ছে না। এতে যেকোনো মুহূর্তে পাহাড় ধসে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড় থেকে সরিয়ে আসতে মাইকিং করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

সোমবার (৭ জুন) বিকাল ৫ টার সময় উপজেলা নিবার্হী অফিসার মোহাম্মদ মাহাফুজুর রহমান বড় মহেশখালী,কালারমারছড়া,শাপলাপুর, ছোট মহেশখালী ও হোয়ানক ইউনিয়নে দিন-রাত মাইকিং করে যাচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরিয়ে আনতে। কিন্তু এতে কেউ সাড়া দিচ্ছে না।

পরিবেশ সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, মহেশখালীতে অন্তত ২০ টি পাহাড়ে বসবাস করছে ৫০ হাজার বেশি মানুষ। এর মধ্যে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে আছে অন্তত ২০ হাজার। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরেজমিনে, দেখা যায়, শাপলাপুরের মৌলভী কাটা, মৌরং ঘোনা, জেমঘাটা ডালা, সাইটমারা, মুকবেকি ও দিনেশপুর। ছোট মহেশখালীর উমবনিয়া, লম্বা শিরা। বড় মহেশখালীর পাহাড়তলী, হোয়ানক কাঠালতলী, বড় ছড়া শিয়া, কেরুনতলী নয়াপাড়া, পূর্ব কাটালকাটা, পূর্ব ছনখেলা পাড়া, পূর্ব কালাগাজী পাড়া ও পূর্ব হরিয়ার ছড়া, কালারমারছড়া পূর্ব মিজ্জির পাড়া, পূর্ব ছড়ার লামা, পূর্ব আর্ধার ঘোনা গোদার পাড়া পাহাড় তলী, অফিস ও পাড়া ফকির জুম পাড়া পাহাড় তলী, নয়া পাড়া, সোনা পাড়া, চিকনি পাড়া, ঝাপুয়া পাহাড়তলী ও চালিয়াতলী চিতাখুলা সংযোগ পাহাড়ে দেখা গেছে, পাহাড়ের খাদে অসংখ্য ঝুঁকিপূর্ণ বসতি।

এসব পাহাড়ে বসবাস করছে মানুষ। সূত্র জানায়, উপজেলার অভ্যন্তরে ১২টির বেশি পাহাড়ে ভূমিধসের ঝুঁকিতে আছে অন্তত ১৫ হাজার মানুষ। এসব পাহাড়ে ১২ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি তৈরি করে বসতি করছে ২০ হাজার বেশি মানুষ।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) মহেশখালীর সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, ‘মাইকিং কিংবা প্রচার-প্রচারণায় পুরোপুরি পাহাড় ধস ঠেকানো যাবে না। পাহাড়ের নিচে অবৈধ বসবাসকারীদের অনতিবিলম্বে মহেশখালীর বৃহৎ স্বার্থে সরিয়ে নিতে হবে। উচ্ছেদ করতে হবে অবৈধ স্থাপনা। নতুন করে পাহাড়ের নিচে যাতে কেউ অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলতে না পারে তা প্রশাসনের নজরদারিতে রাখতে হবে।’

মহেশখালী উপজেলা নিবার্হী মোহাম্মদ মাহাফুজুর রহমান বলেন, ভারী বর্ষণে ভূমিধসে প্রাণহানি ঘটতে পারে, তাই লোকজনকে পাহাড় ছাড়তে অনুরোধ জানিয়ে এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। স্বেচ্ছায় তারা সরে না এলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে।