নিউজটি শেয়ার করুন

‘বৃষ্টির জন্য বিস্কুট খেয়ে ঈদ উদযাপন করেছি’

সিডিএকে দুষলেন চসিকের কাউন্সিলর

জিয়াউল হক ইমন: মাত্র দেড় ঘন্টার ভারী বৃষ্টিতে কোমর সমান পানিতে নিমজ্জিত নগরীর এক কিলোমিটার সহ ৬নং পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ডে প্রায় অর্ধেক এলাকা। রান্না ঘরের চুলায় পানি উঠাতে শুধু বিস্কুট খেয়ে ঈদ উদযাপনের কথা বলেছেন ৬ নং পূর্ব ষোল শহরের ওয়ার্ডের এক কিলোমিটার এলাকার তিতাস কলোনীতে থাকা এসএসসি পরীক্ষার্থী মো. মুজাহিদ (১৭)।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের বাসভবনের সামনেসহ ওয়ার্ডের ৫০ ভাগ এলাকা পানিতে ডুবে নগরবাসী দুর্ভোগের সীমা নেই বলে জানিয়েছেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর এম আশরাফুল আলম।

১৪ মে শুক্রবার ঈদের দিন দিবাগত রাত ১২ পর্যন্ত এক কিলোমিটার এলাকা, ইয়াছিন হাজীর বাড়ী, বাড়াইপাড়া সহ বেশ কয়েকটি এলাকার রাস্তাসহ বাসাবাড়িতে পানি জমে থাকতে দেখা যায়।

ভুক্তভোগী মুজাহিদ জানান, ‘ঈদের নামাজ শেষ করে বাসায় ফেরার পর আর ঘর হতে বের হতে পারেনি। ঘরে পানি ঢুকাতে রান্না-বান্নার কাজটি করতে না পারায় শুকনা খাবার হিসাবে বিস্কুট খেয়ে সারাদিন ঈদ উদযাপন করেছি। আমারমত অনেকেই জুমার নামাজও আদায় করতে পারিনি। আমরা পরিবার নিয়ে গ্রামের চলে যাব না হয়, সামনে বর্ষাতে অবস্থা আরো খারাপ হবে। 

ঐ এলাকায় ১৭ বছর ধরে বসবাসকারী চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক গ্রন্থাগার সম্পাদক সাংবাদিক মোঃ শহীদুল ইসলাম সিপ্লাসকে জানান, ‘অতীতে স্বল্প বৃষ্টিতে এমন দুর্ভোগ কেউ কখনো দেখেনি। সামনে পুরা বর্ষা মৌসুম এখনো বাকী। ভারি বৃষ্টি হলে কি হবে তা নিয়ে শঙ্কায় আছি’।

তিনি বলেন, ‘যতদুর জানি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জলাবদ্ধতা প্রকল্পের একটি নালাতে পানি সরতে না পারায় এই দুর্দশা। নগরীর দুঃখ জলাবদ্ধতা। সিডিএ ও কর্পোরেশনের ঠেলাঠেলিতে দুর্ভোগ পোহায় আমরা’।

শহীদুল বলেন, ‘আগে সারাদিন বৃষ্টি হলে এমন দৃশ্য দেখতাম। এমনকি আজ ময়লা পানি খাবারের পানিতে মিশে যাওয়ায় খাবার পানিরও চরম সঙ্কটে ছিলেন তিতাস কলোনীর ২৬ টি পরিবারসহ এলাকায় বসবাসরতরা’।

জানতে চাইলে ঐ এলাকার কাউন্সিলর আশরাফুল আলম চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)কে দায়ী করে বলেন, ‘তিন বছর মেয়াদী ৬ হাজার কোটি টাকার জলাবদ্ধতা প্রকল্পের বাঁধ গুলোর জন্য এই দুর্ভোগ। ফান্ড আছে তবুও এই চলমান প্রকল্পের মেয়াদের অর্ধেকেরও বেশী সময় পার হলে এখনো ২০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করতে পারিনি সিডিএ’।

আক্ষেপ করে কাউন্সলির বলেন, ‘ আজ(শুক্রবার) ঈদের দিন দুপুরে মেয়রের বাড়ীতেও পানি ছিল। অথচ মেয়র মহোদয় সিডিএকে বর্ষার আগে জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল-নালাগুলোতে পানি নিষ্কাশন দ্রুত সম্পন্ন করার বার বার তাগিদ দিলেও সিডিএ’র পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি’।

তিনি বলেন, ‘আমার শুধু এক কিলোমিটার এলাকার তিতাস কলোনী নয়, বাড়াইপাড়া, ঘাসিয়ার পাড়া, খরম পাড়া, ইয়াছিন হাজির বাড়ী, হাবিলদার বাড়িসহ আমার ওয়ার্ডের অধিকাংশ এলাকায় দেড় ঘন্টা বৃষ্টিতে হাটু পানি আবার কোথাও কোথাও কোমর পানিতে নিমজ্জিত ছিল’।

ঈদের দিন এমন দুর্ভোগের জন্য এলাকাবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন এই কাউন্সিলর।

এছাড়াও শুক্রবার সকালের বৃষ্টি নগরীর চকবাজার, মুরাদপুর, ওয়াসামোড়সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা রুপ নিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০১৭ সালে গ্রহণ করা হয় তিন বছর মেয়াদি একটি মেগা প্রকল্প। যার বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয় ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। ওই বছরের জুলাইয়ে শুরু হয়ে প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ধীরগতির কারণে তা হয়নি।

যথাসময়ে কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় সম্প্রতি প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। আর সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর।

প্রকল্পের অধীনে পাঁচটি খালে রেগুলেটর, খালের পাড়ে ১৭৬ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল, ৮৬ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ, ৪২টি সিল্ট ট্র্যাপ, দুটি পুকুর নির্মাণসহ নানা ধরনের কাজ রয়েছে। বর্তমানে এসব কাজ চলছে।

চউকের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এ প্রকল্পের ভৌত অবকাঠামোগত কাজ গত আগস্ট(২০২০) পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে প্রায় ৫২ শতাংশ।

বিষয়টি জানতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক আহমেদ মাঈনুদ্দিনকে শুক্রবার দিবাগত রাত ও শনিবার বিকাল পর্যন্ত বার বার মুঠোফোনে কল করেও কোন সাড়া মেলেনি।