নিউজটি শেয়ার করুন

বায়তুশ শরফের পীর মাওলানা কুতুব উদ্দীন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েই ইন্তেকাল করেছেন !

সিপ্লাস প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম বায়তুশ শরফ দরবার শরীফের পীর মাওলানা কুতুব উদ্দীন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েই ইন্তেকাল করেছেন((ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

হুজুরের করোনা পজিটিভের বিষয়টি সিপ্লাসকে নিশ্চিত করেছেন জেলা সিভিল সার্জন কর্মকর্তা ডা: শেখ ফজলে রাব্বি। বুধবার (২০ মে) বিকালে তিনি ঢাকার একটি বেসরকারী হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। গতকাল রাতে হুজুরের অবস্থা বেগতিক দেখে দ্রুত ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো।

ডা: শেখ ফজলে রাব্বি জানায়, বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ল্যাবে মাওলানা কুতুব উদ্দীনের নমুনা পরীক্ষায় তার শরীরে  করোনার জীবাণু শনাক্ত হয়েছে।

ফলে করোনাভাইরাস রোগীদের জন্য সরকার নির্ধারিত নিয়ম মেনেই তাকে দাফন-কাফন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে চট্টগ্রামের পুলিশ।

সিএমপির উপ-কমিশনার (সিটি এসবি) আবদুল ওয়ারিশ জানিয়েছেন, ‘পরিবার ও মাদ্রাসাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলাপ আলোচনা চলছে। তারা প্রশাসনকে সহযোগিতা করবেন জানিয়েছেন।’

উল্লেখ্য, মাওলানা কুতুব উদ্দীন মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরের পর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হন। সে সময় বলা হয়েছিল, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছেন তিনি। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকলে বুধবার রাতেই আইসিইউযুক্ত অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে মাওলানা কুতুব উদ্দীনকে রাজধানী ঢাকার আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছার পর বিকেল সাড়ে ৪টায় ঢাকার আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

মাওলানা কুতুব উদ্দীন দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন। কয়েকদিন আগে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন।

মাওলানা কুতুব উদ্দীন চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার আধুনগর ইউনিয়নের সূফী মিয়াজী পাড়া গ্রামের সন্তান। লেখাপড়া করেছেন চুনতী হাকিমিয়া আলিয়া মাদ্রাসা ও চট্টগ্রাম শহরের দারুল উলুম আলিয়া মাদ্রাসায়। তিনি ১৯৫৯ সালে স্বর্ণপদক সহ প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে কামিল পাস করেন।

তিনি  নগরীর  ধনিয়ালা পাড়ায় অবস্থিত বায়তুশ শরফের প্রতিষ্ঠাতা প্রখ্যাত সূফীসাধক মাওলানা মীর মুহাম্মদ আখতার (রহ) এবং বায়তুশ শরফের প্রধান রূপকার শাহ সূফী মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রহ) এর সান্নিধ্যে অবস্থান করে আধ্যাত্মিক সাধনায় নিমগ্ন হন। ১৯৯৮ সাল থেকে আমৃত্যু তিনি বায়তুশ শরফের পীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।