নিউজটি শেয়ার করুন

বাগদাদির ডেরায় অভিযানের প্রথম ভিডিও প্রকাশ

বুধবার প্রকাশ করা ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মার্কিন ‘স্পেশাল ফোর্সের’ সদস্যরা হেলিকপ্টার নিয়ে বাগদাদির আস্তানার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় নিচে আইএস সদস্যদের দিকে গুলি ছুড়ছে।

ওই অভিযানের মধ্যে একটি টানেলের ভেতরে সুইসাইড ভেস্টে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বাগদাদি নিজেকে উড়িয়ে দেন বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ভাষ্য।

বিবিসি লিখেছে, গত শনিবার মার্কিন ‘স্পেশাল ফোর্সের’ ওই অভিযান শেষে বাগদাদির আস্তানা বোমায় উড়িয়ে দেওয়া হয়।

মার্কিন বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান জেনারেল কেনেথ ম্যাকেঞ্জি জানিয়েছেন, বাগদাদির তিন সন্তান তার সঙ্গেই নিহত হয়েছে বলে আগে জানানো হলেও আসলে মারা গেছে তার দুই শিশু।

স্পেশাল ফোর্সের কুকুরের তাড়ায় বাগদাদি সুড়ঙ্গের ভেতরে পালানোর পথ না পেয়ে চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে আত্মঘাতী হন বলে যেস চিত্রিত বর্ণনা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দিয়েছেন, তার সত্যতাও নিশ্চিত করতে পারেননি  জেনারেল ম্যাকেঞ্জি।

“দুটি ছোট শিশুসহ সে হামাগুড়ি দিয়ে একটি গর্তের ভিতর ঢোকে আর নিজেকে উড়িয়ে দেয়, এ সময় তার লোকজন সেখানে দাঁড়িয়েছিল। এই কার্যক্রম থেকে আপনারা ধারণা করে নিতে পারেন কী ধরনের ব্যক্তি ছিল সে,” এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন তিনি।

“সে কী করেছে সে বিষয়ে এটিই আমার গবেষণামূলক পর্যবেক্ষণ। তার শেষ মুহুর্ত সম্পর্কে আর কিছু নিশ্চিত করতে পারবো না আমি।”

ম্যাকেঞ্জি জানান, ওই বাড়িতে আত্মঘাতী ভেস্ট পরা চার নারী ও এক পুরুষ নিহত হয়েছেন।

মার্কিন হেলিকপ্টারগুলো লক্ষ্য করে গুলি করার পর অজ্ঞাত সংখ্যক আইএস যোদ্ধাও নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “আমি এটি পরিষ্কার করতে চাই যে, অভিযানটি হাই-প্রোফাইল ও অত্যন্ত চাপের হওয়া সত্ত্বেও বেসামরিক হতাহত এড়ানো ও শিশুদের রক্ষার সব চেষ্টাই করা হয়েছে, এরা সেখানে থাকবে বলে ধরে নিয়েছিলাম আমরা।”

তার ডিএনএ-র মাধ্যমেই আইএস নেতাকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেনারেল ম্যাকেঞ্জি। ২০০৪ সালে ইরাকের কারাগারে থাকার সময় বাগদাদির ডিএনএ স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে বাগদাদির দেহাবশেষ হেলিকপ্টারে করে একটি ঘাঁটিতে নিয়ে গিয়ে শনাক্তকরণের কাজটি করা হয় এবং সাগরে সমাধি দেওয়া হয় ‘সশস্ত্র সংঘাতের আইন মেনে’ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে।