নিউজটি শেয়ার করুন

ফটিকছড়িতে শ্রমিকের প্রাণহানি: বালি চাপায় মৃত্যু, নাকি হত্যা করে বালি চাপা ?

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি: ফটিকছড়ি উপজেলার সুয়াবিল ইউনিয়নের বারমাসিয়া সিকদার পাড়া এলাকায় অবৈধভাবে হালদা নদীর পাড় কাঁটতে গিয়ে গত ৯ এপ্রিল শুক্রবার সাকিল নামে এক শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিহত সাকিল নাজিরহাট পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড পশ্চিম লালমাটি এলাকার হাজী আব্দুল করিম সওদাগর বাড়ির মৃত বেলালের পুত্র।

ঘটনার দিন স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাকিল পেশায় একজন দিনমজুর। সে মাটি শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো। প্রতিদিনের মত শুক্রবার সকালেও ঐ স্থান থেকে মাটি কেটে বেলচা দিয়ে একটি চাঁদের গাড়িতে তুলছিল সাকিল। পরে শুনতে পাই সে মাটি চাপায় মারা গেছে।

এদিকে ঘটনার দিন সাকিলের পরিবার তাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, পাশের বাড়ির জিপ ড্রাইভার একরামের অধীনে দৈনিক মজুর হিসেবে মাটি লোড-আনলোডের কাজ করতো সাকিল।

তারা আরো বলেন, সে সাধারণত ছুটির দিন হিসেবে শুক্রবারে কাজে যেত না। কিন্তু ঘটনার দিন ড্রাইভার একরাম কয়েক দফা ফোন করে সাকিলকে বাড়তি বেতন দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জোর করে কাজে নিয়ে যায়।

সাকিলের মা ও বোন কান্নাজড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের আরো বলেন- একরাম যদি সাকিলকে হত্যা না করে থাকে, তাহলে ঘটনার পর স্থান ত্যাগ করে সে পালিয়ে গেল কেন। এতেই স্পষ্ট যে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা মনে করি, সাকিলকে হত্যা করে মাটি চাপা দিয়ে পালিয়ে গেছে একরাম।

অপরদিকে, ঘটনার দিন পুলিশ মাটি চাপা থেকে সাকিলের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করার সময় তার বুকে ও হাতে একাধিক জখমের চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় বারমাসিয়া আব্দুল করিম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সুয়াবিল ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীনের উপস্থিতিতে ঐ সমাজের কতিপয় ব্যক্তি পুলিশকে ঘিরে ধরে। এ সময় ওইসব ব্যক্তি পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলতে শোনা যায়- গরীব মানুষ, পোস্টমর্টেম করে লাশ কাটা ছেড়া করে কী লাভ হবে ? একপর্যায়ে তারা নিহতের পরিবারকে ড্রাইভার একরাম থেকে কিছু আর্থিক সহায়তা নিয়ে দেবে এমন প্রস্তাব দিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দাফন করার কথা বললে পুলিশ তা নাকচ করে লাশ মর্গে প্রেরণ করে।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত একরাম ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। এরই মধ্যে এলাকার সমাজপতি ও ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতার মাধ্যমে একরাম ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য নানা তদবির চালিয়ে যাচ্ছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রগুলো জানায়, এর অংশ হিসেবে গত কয়েকদিন পূর্বে সমাজপতিদের মধ্যস্থতায় নিহত শ্রমিক সাকিলের পরিবারকে তিন লক্ষ টাকা প্রদানের কথাবার্তা এক প্রকার চূড়ান্ত হয়েছে।

এদিকে, সাকিলের মৃত্যু কিভাবে হয়েছে তা নিশ্চিত না হয়ে অভিযুক্ত ড্রাইভার একরাম থেকে নিহতের পরিবারকে সমাজপতিদের মধ্যস্থতায় আর্থিক সহায়তা পাইয়ে দেওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সাকিলের প্রাণহানির ব্যাপারে জানতে চাইলে ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবদুল্লাহ বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখনো পায়নি। রিপোর্ট পাওয়া সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।