নিউজটি শেয়ার করুন

ফটিকছড়িতে লাথিতে বৃদ্ধের মৃত্যু: ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষক মরিয়া

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি: ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভাধীন ৫নং ওয়ার্ডের দায়েম চৌধুরীর বাড়ীতে গত ২৩মে দুপুরে মসজিদের কাঁঠাল বিক্রিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনায় স্কুল শিক্ষক জাহেদের লাথিতে বৃদ্ধ আইয়ুব নিহত হন বলে জানান এলাকাবাসী।

এ ঘটনায় নিহত আইয়ুবের মেজ ছেলে তারেক হাসান বাদি হয়ে ফটিকছড়ি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্কুল শিক্ষক জাহেদকে প্রধান আসামী করে ৪জনকে সু- নির্দিষ্ট এবং ৪/৫জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। ঘটনার ৫দিন অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

মঙ্গলবার(২৬মে) ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকার বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাথে কথা বলে জানা যায়, মাষ্টার জাহেদ পেশায় একজন শিক্ষক হলেও দুষ্টু প্রকৃতির লোক। অতিতের তার অনেক কু-কীর্তি এলাকার মানুষ অবগত। সে পূর্বেও মসজিদের আর্থিক বিষয় নিয়ে নানা অনিয়ম করেছিল। বর্তমান মসজিদ পরিচালনা কমিটির কারনে সে কোন অনিয়ম করতে পারছিলনা। মাষ্টার জাহেদ মসজিদ কমিটির কোন দায়িত্বে না থেকেও সবসময় অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ করতে চাইতেন। এসবের প্রতিবাদ করতেন নিহত আইয়ুব ও তার ছেলেরা।

ঘটনার দিন মসজিদ কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়, মসজিদের সবগুলো গাছের কাঁঠাল একজনের কাছে একত্রে বিক্রি করা হবে। সর্ব সম্মত এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি জাহেদ। এর রেশ ধরে সে একটি ঘটনা ঘটনোর জন্য উঠে-পড়ে লাগেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

নিহত আইয়ুবের বড় ছেলে সম্রাট হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার দিন জোহরের নামাজের পর মসজিদে আমরা কয়েকজন তাবলীগের তা’লিমে বসেছিলাম। ওই সময় জাহেদ সেখানে উপস্থিত হয়ে কাঁঠাল বিক্রির বিষয় নিয়ে গালি-গালাজ করতে থাকেন। তখন সেখানে উপস্থিত আমরা সবাই এর প্রতিবাদ করলে মাষ্টার জাহেদ ও তার সাঙ্গ পাঙ্গরা আমাদের উপর অতর্কিতভাবে ঝাপিয়ে পড়ে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এ সময় জাহেদের ভাগিনা রাকিবুল হাসান মানিক লাঠি নিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। এক পর্যায়ে আমার বাবা মসজিদ থেকে বের হয়ে ঝগড়া না করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করেন। মাষ্টার জাহেদ তেড়ে গিয়ে আমার বাবাকে তুই কে বলে তার তল পেঠে সজোরে লাথি মারেন। তৎক্ষণাত আমার বাবা মাঠিতে লুঠে পড়েন। অবস্থা খারাপ দেখে উপস্থিত লোকজন তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। আমরা হাসপাতাল থেকে বাড়ীতে চলে এলে মাষ্টার জাহেদ হাসপাতাল থেকে সু- কৌশলে আমার বাবার মৃত্যু সনদ নিয়ে পালিয়ে যায়।

নিহতের ছোট ভাই মোহাম্মদ আলী বলেন,মামলার আসামীরা আমাদেরকে হুমকি-ধমকি প্রদান করে যাচ্ছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করছি। এদিকে, সেদিনের সংঘটিত ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে মামলার অভিযুক্ত প্রধান আসামী স্কুল শিক্ষক জাহেদ। সে মামলাকে দামা-চাপা দিতে রাজনৈতিক সহ বিভিন্ন মহলে লবিং চালিয়ে যাচ্ছে বলে এলাকাবাসী দাবী করেছে।

এ বিষয়ে মামালার প্রধান আসামি স্কুল শিক্ষক জাহেদের মন্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফটিকছড়ি থানার ওসি (তদন্ত) রবিউল হোসেন বলেন,মামলাটি পুলিশ তদন্ত করছে। আশাকরছি খুব দ্রুত অগ্রগতি হবে।