নিউজটি শেয়ার করুন

ফটিকছড়িতে আরও দুই ইটভাটা গুড়িয়ে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি:আনোয়ার হোসেন ফরিদ চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে তৃতীয় ধাপে আরো দুটি ইটভাটা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

৩ মার্চ সকাল ১০ টায় ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের টেকনিক্যাল কলেজের উত্তর পাশে এই অভিযান পরিচালনা করেন জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া ইয়াসমিন। এই অভিযানে সেকান্দার মিয়ার এসএনবি ব্রিক্স, বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিন শাহিনের একতা বিক্স চিমনি ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম নাজিরহাট পৌরসভায় ভেঙে দেওয়া হালদা বিক্সে বাংলা চিমটি বসিয়ে ইট পোড়ানোর খবর পেয়ে আবারোও অভিযান পরিচালনা করে ইট ভাটা ভেঙ্গে দেন। এই অভিযানে ভ্রাম্যমান আদালতকে সার্বিক সহযোগিতা করেন বিজিবি ও পুলিশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ইটভাটা মালিক সমিতির আহ্বায়ক, ফটিকছড়ি পৌরসভার মেয়র মোঃ ইসমাইল হোসেন বলেন গত ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টের নির্দেশনার আলোকে সমগ্র চট্টগ্রামের ইটভাটা উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তারই আলোকে ফটিকছড়ি তথা চট্টগ্রামে উচ্ছেদ অভিযান করা হচ্ছে। এখানে যে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যনি হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেছেন তিনি চট্টগ্রামের বাইরের একজন মানুষ। পরিবেশ রক্ষার অজুহাতে উনি শুধুমাত্র চট্টগ্রামের ইটভাটার বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেছেন। সে আলোকে মহামান্য হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন চট্টগ্রামের উচ্ছেদের বিষয়ে।

সুদীর্ঘ সময় ধরে চট্টগ্রামের ইটভাটা পরিবেশ ধ্বংস করে। বাংলাদেশের অন্য জায়গায় ইটভাটা পরিবেশ ধ্বংস করে না ? এখানে বুঝতে হবে যিনি রিট পিটিশন করেছেন তিনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে চট্টগ্রাম উন্নয়ন এর বিরোধিতা করার জন রিট পিটিশন দায়ের করেছেন বলে চট্টগ্রামের ইট ভাটা মালিকরা মনে করে। পরিশেষে সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানাব যে আমরা ইটভাটা ব্যবসার সাথে দীর্ঘদিন জড়িত আমাদের নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হোক। সে সময়ের মধ্যে আমরা ব্যবসার কার্যক্রম শেষ করবো এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে বৈধভাবে করতে পারলে করব না হলে করবো না।

তিনি আরো বলেন, আমাদের জন্ম বৈধভাবেই হয়েছে। সময়ের পরিবর্তনে ইটভাটা আইন হয়েছে। শুরুতে ড্রাম চিমনির ইটের ভাটায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দিয়েছে। পরবর্তীতে বলা হলো চিমনি ১২০ ফুট করতে হবে। তাও করা হলো। এরপর বলা হলো জিগজাগ ইটের ভাটা করতে হবে। তাও করা হলো। হঠাৎ করে আইনের সংস্কারে ২০১৬ সাল থেকে আমাদের ছাড়পত্র মিলছে না। সারাদেশে একই অবস্থা। কিন্তু শুধুমাত্র চট্টগ্রামের ইটের ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে চট্টগ্রামের ১৬ উপজেলায় যে পরিমাণ উন্নয়নমূলক কাজ চলছে তাতে ৩০ কোটির বেশি ইট লাগবে। প্রতিবছর একেকজন ইট ভাটার মালিক ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা রাজস্ব দিয়ে থাকেন। কিন্তু আইনি প্রতিবন্ধকতার কারণে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি।