নিউজটি শেয়ার করুন

পোশাকের ‘শিপমেন্ট’ বন্ধ: বিজিএমইএ

দেশের পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক বলেন, “করোনার কারণে কোনো কারখানা এখনও বন্ধ হয়নি। তবে মালের শিপমেন্ট সব বন্ধ হয়ে গেছে। ক্রেতারা বলছে, তারা মাল পরে নেবে। তবে কবে নেবে তার কোনো দিনক্ষণ জানি না। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কারও কোনো কাজ থাকবে না।”

কাজ না থাকা মানে কারখানা অনেকটাই বন্ধ হয়ে যাওয়া।

রুবানা বলেন, “এসব নিয়ে সরকারের সঙ্গে শিগগিরই বৈঠকে একটা সিদ্ধান্ত হবে। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে কারখানাগুলোয় কী করা যাবে আর করা যাবে না তার নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। গার্মেন্টস শিল্প অধ্যুষিত এলাকা নজরদারিতে রাখতে বিজিএমইএ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

“উত্তরা অফিসে হটলাইন স্থাপন করা হয়েছে। শ্রমিকদের সচেতনতা সৃষ্টিতে না কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। শনিবার বিকেলে পোশাক কারখানায় করোনা প্রভাবসসহ নানা বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর মন্নুজান সুফিয়ানসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এসব নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।”

জেলার শ্রীপুর উপজেলার ধলাদিয়া এলাকার ইপোক গার্মেন্টের মালিক আব্দুস সালাম মুর্শেদী জানান, বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ পোশাক যায় ইউরোপের বাজারে। করোনাভাইরাসের কারণে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে পণ্য পাঠানো যাচ্ছে না।

“মালের অর্ডার ক্যানসেল হয়ে গেছে। এতে আমরা নতুন করে কাপড় কাটতে পারছি না। ব্যাংক থেকেও আমাদের লোন ছাড় করছে না। কারখানাও বন্ধ রাখতে পারছি না। আমরা খুবই আতঙ্কের মধ্যে আছি। এখন আমরা ক্রেতা ও সরকারি সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছি। শ্রমিকদের কোত্থেকে বেতন-ভাতা পরিশোধ করব তা নিয়েও টেনশনে আছি।”

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সবাই মাস্ক ব্যবহার করছি। প্রয়োজন হলে শ্রমিকদের তামপাত্রা মেপে ভেতরে ঢোকানো হচ্ছে। ভিজিটর কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কর্মস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, কাজের টেবিল ও হাত জীবাণুমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় সাবান ও কেমিক্যাল সরবরাহ করছি।”

পোশাক কারখানাগুলো দুই সপ্তাহ বন্ধ রাখা উচিত বলে মনে করেন গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু।

তিনি বলেন, “গার্মেন্টস সেক্টরে পাশাপাশি অবস্থান করে এত বেশি জনগোষ্ঠী কাজ করছে যা অন্য কোনো সেক্টরে নেই। তাদের মধ্যে কেউ একজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে সহজেই পুরো কারখানায় ছড়িয়ে পড়বে। বৃহৎ জনগোষ্ঠী আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। এককথায় করোনা তখন সহজে দ্রুত মহামারী রূপ নেবে।

“এজন্য দুই সপ্তাহের জন্য পোশাক কারখানাগুলো মার্চের বেতন দিয়ে ছুটি দেওয়া উচিত। পরে অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ করছি। এ সেক্টরটিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর নানা পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।”