নিউজটি শেয়ার করুন

পেকুয়ায় ফুটবল খেলা শেষে বিজয়ী দলের ওপর হামলা : আহত-৬

কক্সবাজারের পেকুয়ায় স্কুল পর্যায়ে আন্তঃ স্কুল ফুটবল টুর্ণামেন্টে আয়োজিত ফাইনাল খেয়ায় বিজয়ীদলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় খেলোয়াড়সহ ৬ শিক্ষার্থী আহত হয়। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (১৩সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে শিক্ষার্থীরা খেলা শেষে বাড়ী ফেরার পথে পেকুয়া উপজেলা সদরের চৌমুহনী স্টেশনে পৌছলে এ হামলা চালানো হয়।

খেলায় পরাজিত পেকুয়া জিএমসি ইন্সটিটিউশনের শিক্ষার্থীরা, বিজয়ী রাজাখালী এয়ার আলী খান উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর এ হামলা চালায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

হামলায় আহতরা হলেন, রাজাখালী এয়ার আলী খান উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র মো. জিসান, ১০ম শ্রেণীর বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র সাকিবুল ইসলাম, ১০ম শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র নবীর হোসেন, ১০ম শ্রেণীর মানবিক বিভাগের ছাত্র কাইছার ও ৮ম শ্রেণী ছাত্র আজম উদ্দিন। তন্মধ্যে, মোঃ জিসান ও সাকিবুল ইসলামের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

আহত শিক্ষার্থী জিসান বলেন, খেলার মাঠেও তারা আমাদের সাথে অসৎ আচরণ করে। বারবার অভিযোগ করার পরেও শিক্ষা অফিসার এবং তাদের প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা ছিল রহস্য জনক।

রাজাখালী এয়ার আলী খান বলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার গ্রীষ্মকালীন আন্তঃ স্কুল ফুটবল টুর্ণামেন্টের উপজেলা পর্যায়ের ফাইনাল খেলার নির্ধারিত দিন ছিল। বিকেলে উপজেলা স্টেডিয়ামে এ খেলায় আমার স্কুলের ফুটবল টিমের সাথে পেকুয়া জিএমসি ইন্সটিটিউশনের ফুটবল টিম মুখোমুখি হয়। খেলায় দুইদল একটি করে গোল করে। পরে ট্রাইবেকারে দুটি গোল ঠেকিয়ে জয়ী হয় আমার স্কুলের শিক্ষার্থীরা। খেলা শেষে ফিরে যাবার সময় শিক্ষার্থীরা চৌমুহনী স্টেশনে পৌঁছালে অতর্কিত হামলা চালিয়ে শিক্ষার্থীদের আহত করা হয়।

রাজাখালী এয়ার আলী খান বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন, চৌমুহনী স্টেশনে শিক্ষার্থীদের জন্য গাড়ি রাখা ছিল। শিক্ষার্থীরা গাড়িতে ওঠতে যাবার পথে তাদের ধাওয়া দিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এসময় কিছু শিক্ষার্থী নিরাপদ আশ্রয়ে একটি বসতঘরে আশ্রয় নেয়। সেখানে অবরুদ্ধ করে তাদের বেধড়ক পিটানো হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে পেকুয়া জিএমসির প্রধান শিক্ষক জহিরুল ইসলাম বলেন ঘটনাটা আমি জানিনা এটা বহিরাগতরা হয়তো করতে পারে তারপরও আমি বিষয়টা দেখছি।

এব্যাপারে পেকুয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আ.ফ.ম হাসান বলেন, হামলার বিষয়টি আমি জানতাম না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আমি জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

পেকুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম । তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।