নিউজটি শেয়ার করুন

পুলিশের সাঁজোয়া যানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া সেই হেফাজত কর্মী গ্রেপ্তার

সিপ্লাস ডেস্ক: হেফাজতে ইসলামের হরতাল চলাকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের সাঁজোয়া যানে (এপিসি) আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে এক হেফাজত কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)।

শনিবার (৮ মে) বিকেল চারটায় গাজীপুর সদরের ভূঁইয়াপাড়া জামে মসজিদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এটিইউ বলছে, গত ২৮ মার্চ হরতালের দিনে হেফাজত সমর্থকদের নাশকতার ফুটেজ দেখে তাকে শনাক্ত করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তির নাম জাকারিয়া আহমেদ ওরফে প্রীতম (২৭)। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের নোয়াগাঁওয়ের পশ্চিমপাড়ার। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। বাবা মারা যাওয়ার পারিবারিক ট্রাক্টর চালিয়ে তিনিই সংসার চালাতেন।

সরাইল এটিইউর অপারেশনস উইংয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাখাওয়াত হোসেন বলেন, গত ২৮ মার্চ হরতালের দিনে জাকারিয়া পুলিশের এপিসির ওপরে উঠে গ্যালনভর্তি পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর গুলিবিদ্ধ হলে সেখান থেকে পালিয়ে ঢাকার উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসা শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফিরে এক আত্মীয়ের বাসায় আত্মগোপন করেন। পুলিশের অব্যাহত অভিযানে ভয় পেয়ে জাকারিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে পালিয়ে মা এবং ছোট ভাইকে নিয়ে গাজীপুরে চলে আসেন।

শাখাওয়াত হোসেন জানান, গাজীপুরে সাড়ে চার হাজার টাকা দিয়ে একটি বাসা ভাড়া নেন জাকারিয়া। এখানেই আরও অন্তত দুই বছর তার থাকার পরিকল্পনা ছিল। এই সময়ের মধ্যে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে দেশের বাইরে চলে যাওয়ার চিন্তা ছিল তার। তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আসার প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালায়। এ সময় তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন, পৌরসভা কার্যালয়, সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন, এসিল্যান্ডের কার্যালয়সহ সরকারি, বেসরকারি অর্ধশতাধিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন থানায় এ পর্যন্ত ৫৬টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর মডেল থানায় ৪৯টি, আশুগঞ্জ থানায় ৪টি, সরাইল থানায় ২টি এবং আখাউড়া রেলওয়ে থানায় ১টি মামলা করা হয়। এসব মামলায় ৪১৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার লোককে আসামি করা হয়েছে। জাকারিয়াকে সরাইল থানার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।