নিউজটি শেয়ার করুন

পশ্চিমবঙ্গে হ্যাট্রিক জয়ের পথে মমতার তৃণমূল

সিপ্লাস ডেস্ক: আট দফায় ভোটগ্রহণের পর রোববার ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ চার রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত একটি অঞ্চলের নির্বাচনের ভোট গণনা ও ফল ঘোষণা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।

এনডিটিভির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২০৩ আসনে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ৮৬ আসনে। বামফ্রন্ট-কংগ্রেস-আইএসএফ জোট কোনো আসনেই এগিয়ে নেই।

রোববার (২ মে) ভারতীয় সময় সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে ভোটগণনা। বিধানসভার মোট আসন ২৯৪টি থাকলেও নির্বাচনের মধ্যে দুই প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় দুটি আসনের নির্বাচন স্থগিত হয়। ফলে সকাল থেকে ২৯২টি আসনের ভোট গণনা শুরু হয়েছে কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই।

দেখা যাচ্ছে, সময় যত বাড়ছে, ততই বিজেপির সঙ্গে ব্যবধান বাড়াচ্ছে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস।

এখন পর্যন্ত প্রথম রাউন্ডের গণনা শেষ হয়েছে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে। সেখানে তৃণমূল-বিজেপির প্রার্থীদের মধ্যে প্রচণ্ড লড়াইয়ের ইঙ্গিত স্পষ্ট। এখনই বলা যাচ্ছে না কোন দল ক্ষমতায় আসছে বা কোন দল জিততে চলেছে বা হারছে। কারণ, প্রতিটি কেন্দ্রে কয়েক রাউন্ড ভোট গণনা হয়।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত কেন্দ্র নন্দীগ্রামে পিছিয়ে পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এগিয়ে গেছেন তারই একসময়কার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র শুভেন্দু অধিকারী।

টালিগঞ্জের তারকা প্রার্থী হিসেবে বিজেপির হয়ে নির্বাচন করা রুদ্রনীল ঘোণ, যশ দাশগুপ্ত, তনুশ্রী চট্টোপাধ্যায়, পার্নো মিত্র, পায়েল সরকার, শ্রাবন্তী চট্টপাধ্যায় পিছিয়ে আছে। তবে হিরণ চট্টোপাধ্যায় এগিয়ে আছে।

সব ভোট গণনা শেষ হতে সন্ধ্যা পেরিয়ে যেতে পারে। ভারতের করোনা যে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, তাতে এটা উচ্ছ্বাস দেখানোর সময় নয় বলে জানিয়ে দিলেন রাজ্যের তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম। তার বক্তব্য, ‘এই জয়ে কোনো বিজয় মিছিল হবে না। এটা আনন্দ করার সময় নয়। রাজ্যে কত মানুষ মারা যাচ্ছেন। আমার নিজের অনেক আত্মীয় মারা গেছেন। এমনকি যাঁরা আমাকে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই নেই। এই অবস্থায় বিজয় মিছিল বা আনন্দ করার মতো মানসিক অবস্থা নেই আমার।’

নীলবাড়ির লড়াইয়ে ফিরহাদ নিজে কলকাতা বন্দর থেকে প্রার্থী হয়েছেন। সেখানে দুপুর পর্যন্ত বিজেপির প্রার্থীর সঙ্গে তার প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান ১৭ হাজার। তবে জিতবেন বলে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন বলে জানিয়েছেন ফিরহাদ। তার বক্তব্য, “কোনো দুশ্চিন্তা নেই আমার। টেনশন লেনে কা নেহি, দেনে কা হ্যায়। মানুষের জন্য কাজ করেছি। আমি নিজেকে ‘ফর দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, টু দ্য পিপল’ বলে মনে করি। মানুষ বিবেচনা করে মতামত দিয়েছেন।”

২৯২টি আসনে আট দফায় হয়েছে ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। গত ২৭ মার্চ থেকে শুরু হয়েছিল ভোট প্রক্রিয়া। যা গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শেষ হয়েছে। সামশেরগঞ্জ এবং জঙ্গিপুরের সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থীদের করোনাভাইরাসে মৃত্যু হওয়ায় সেই দুই আসনে নির্দিষ্ট দিনে ভোট হয়নি। আগামী ১৬ মে সেখানে ভোট হবে। ফলপ্রকাশ হবে আগামী ১৯ মে। অর্থাৎ সার্বিকভাবে ২৯৪ আসন-বিশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ১৪৮। এরই মধ্যে তৃণমূল সে ফিগার ধরে ফেলেছে বলে দেখা যাচ্ছে।

তিন দশকের বেশি সময়ের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে এক দশক আগে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় বসেছিল মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। তখন তৃণমূলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল মূলত বাম ও কংগ্রেস। এবারই সরাসরি বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা বলে আসছেন বিশ্লেষকেরা।

অথচ পাঁচ বছর আগে ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপি এই রাজ্যে মাত্র তিনটি আসনে জয় পেয়েছিল। কিন্তু ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে সেই বিজেপিই ১৮টি আসন দখল করে। এরপর থেকেই বাড়তে থাকে বিজেপির জনপ্রিয়তা। তৃণমূলের অনেক সংসদ সদস্য বিজেপিতে যোগ দেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিয়মিতই এ রাজ্যে সভা-সমাবেশ করে গেছেন।