নিউজটি শেয়ার করুন

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তামাকুন্ড লেইন ও রিয়াজউদ্দীন বাজার খোলা

সিপ্লাস প্রতিবেদক: মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের একটি ঈদুল ফিতর৷ দীর্ঘ একমাস রোজা রাখার পর আসে ঈদ৷ কিন্তু পৃথিবীর চিত্র ভিন্ন৷ গত বছরের শুরুতেই থাবা বিস্তার করতে থাকা কোভিড-১৯ এক সময় বৈশ্বিক মহামারির রূপ নেয়৷

মঙ্গলবার ( ২০ এপ্রিল ) দুপুর দেড়টার দিকে নগরীর ভিআপি টাওয়ার, নিউ মার্কেট, রিয়াজউদ্দীন বাজার, তামাকুন্ডি লেন, জলসা মার্কেট, জহুর হকার মার্কেট এবং শাহ আমানত মাকের্ট ঘুরে দেখা যায়, ভিআপি টাওয়ার, নিউ মার্কেট ও শাহ আমানত মাকের্ট ছাড়া আর সব গুলো মার্কেট অর্ধেক দোকান খোলে বসে আছে অধিকাংশ দোকানদার। কিন্তু খোলা এসব দোকানে হাতে গুনা কয়েকজন ক্রেতা ছাড়া আর কোন ক্রেতা চোখে পড়েনি।

এরপর সিপ্লাসের প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় ব্যবসায়ী শাহেদ, আমিন ও মাঈনউদ্দীনের।

তারা বলেন, কি করব ভাই? বাসায় বসে থাকলে বিভিন্ন চিন্তা আর পাওনাদাররা এসে বিরক্ত করে। তাই কঠোর লকডাউনের মধ্যেও একটু দোকান খোলে বসে আছি। দেখেন কোন ক্রেতা নেই? গাড়ি চলে না ক্রেতা আসবে কিভাবে? তারপরও গত বছর করোনার জন্য অনেক টাকা ক্ষতি হয়েছে। এবারও জায়গা জমি এবং স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে দোকানে মালামাল তুলেছি। গত বছরের কিছুটা লোকসান পোষে নেওয়ার জন্য আবারও দোকান খোলব এমন আশায় আছি। তার মধ্যে সরকার আবারও কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে। কি করব বুঝতে পারছি না? সরকার ও প্রশাসনের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি আমরা ব্যবসায়ীদের মারবেন না। অন্তত সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দোকান খোলার অনুমতি দিলে আমরা ব্যবসায়ীরা ধন্য হব।

একে একে লকডাউন হয়ে যায় বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ৷ বন্ধ হয়ে যায় স্কুল-কলেজ, অনুষ্ঠান-আয়োজন৷ জনসমাগম বন্ধ করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে একে একে অফিস-আদালত, গণপরিবহন, বাজার এবং প্রার্থনালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়৷

গত বছর ঈদ আনন্দ মলিন হলেও এবার তা কাটিয়ে উঠার আশা ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে। আবারও সে আশা মলিন হতে চলছে। কারণ আবারও প্রকট আকার ধারণ করেছে মহামারী করোনা। গত বছরের তুলনায় এবার বেশি করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ায় সরকার দুই ধাপে সাত দিন করে ১৪ দিনের কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে।

কিন্তু বাস্তবে দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া কাউকে ওই সব নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা করতে দেখা যায়নি৷ লোকজন দোকানে ভীড় করে পছন্দের পোশাক, উপহার ও খাদ্যসামগ্রী কেনা শুরু করে৷

তামাকুন্ডি লেন মোবাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও তামাকুন্ডি লেন বণিক সমিতির যুগ্ন সম্পাদক আরিফুর রহমান সিপ্লাসকে বলেন, দোকান খোলা থাকার কথা না। কারণ আমরা কঠোরভাবে প্রত্যেক দোকানদারকে বলে দিয়েছি দোকান খোলা যাবে না। এরপরও কয়েকজন দোকানদার তাদের মালামাল রাখতে হয়তো খোলেছে। এ লকডাউনে সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে শুধুমাত্র ব্যবসায়ীরা। ধার দেনা করে আর কতদিন চলা যায়। গত বছর প্রায় ৩/৪ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। এবার তা দ্বিগুন হবে। তাই সরকার ও প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন স্বাস্থ্য বিধি মেনে দোকান পাট খোলে দেয়ার অনুরোধ করছি। অন্তত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দোকান খোলার অনুমতি দিলে উপকৃত হবে ব্যবসায়ীরা।

রিয়াজ উদ্দীন বাজার বনিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মো: মাহাবুল আলম সিপ্লাসকে বলেন, আমি এখন একটা মিটিংয়ে আছি। এ বিষয়ে আমি আপনার সাথে পরে কথা বলছি।

সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রিয়াজউদ্দীন বাজার,তামাকুন্ডি লেন,জলসা মার্কেট,জহুর হকার মার্কেটে অধিকাংশ দোকান খোলা আছে?

এ বিষয়ে জানতে চালে চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী সিপ্লাসকে বলেন, আগামীকাল আমি এ বিষয়টা দেখছি।