নিউজটি শেয়ার করুন

নাতি-নাতনিরা কোথায় জানেন না বাবুল আক্তারের শ্বশুর

সিপ্লাস ডেস্ক: সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার ও মাহমুদা আক্তার মিতুর দুই সন্তানকে কাছে পেতে চাচ্ছেন তাদের নানা মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেছেন, শিশু দুটির ‘নিরাপত্তার স্বার্থেই’ তাদের এখন নানা-নানির কাছে থাকা দরকার।

দুই নাতি-নাতনির সঙ্গে তিন বছর ধরে কোনো যোগাযোগ করতে পারেননি বলে জানান মোশাররফ। তারা এখন কোথায় আছে, তাও জানেন না।

মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছর পর বুধবার তার স্বামী সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারকে আসামি করে মামলা করেন শ্বশুর মোশাররফ।

তার ঠিক আগে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) স্ত্রী হত্যাকাণ্ডে বাবুলের জড়িত থাকার প্রমাণ মেলার কথা জানায়।

চট্টগ্রাম গিয়ে পাঁচলাইশ থানায় জামাতার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ ঢাকার মেরাদিয়ার হাজীপাড়ায় নিজের বাসায় চলে আসেন।

তিনি বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমার নাতি-নাতনির মা নেই, এখন বাবাও গ্রেপ্তার হয়ে পুলিশ হেফাজতে। তারা কেমন আছে, কোথায় আছে, কতটুকু নিরাপদে আছে? জানতে ইচ্ছা করছে।

বাবুলের পরিবারে নাতি-নাতনিদের দেখভালের কেউ নেই দাবি করে তিনি বলেন, বছর খানেক আগে তার (বাবুল) মা মারা গেছেন। তাদের মাতৃস্নেহ দিয়ে দেখার কেউ নেই।

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শিশু দুটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে মোশাররফ বলেন, সন্তান হত্যার বিচার চেয়ে মামলা করেছি। এখন নিরাপত্তার জন্য, ভবিষ্যতের জন্য নাতি- নাতনিদের আমাদের কাছেই থাকা প্রয়োজন।

বাবুল-মিতুর দুই সন্তানের মধ্যে বড় ছেলেটির বয়স এখন ১২ বছর, ছোট মেয়েটির বয়স ৮ বছর। মিতু তার বড় ছেলেটিকে স্কুলের বাসে তুলে দিতে বেরিয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তখন ৭ বছর বয়সী ছেলের সামনেই তাকে হত্যা করা হয়।

চোখের সামনে মায়ের খুন হওয়ার ঘটনাটি শিশুটিকে তাড়িয়ে বেড়াত জানিয়ে মোশাররফ বলেন, সবাইকে সকাল ৭টা-সাড়ে ৭টার দিকে বের হতে নিষেধ করত। এখন কোনো কাজে সকালে বের হলেই তার কথা মনে পড়ে।

২০১৬ সালের ৫ জুন চট্টগ্রামে সড়কে কুপিয়ে ও গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় মিতুকে। বাবুল চট্টগ্রাম নগর পুলিশে অতিরিক্ত উপকমিশনার ছিলেন বলে তারা ছিলেন চট্টগ্রামে। তবে খুন হওয়ার সময় তিনি ছিলেন ঢাকায়, পুলিশ সদর দপ্তরে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে।

স্ত্রী খুনের পর দুই সন্তানকে নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে উঠেছিলেন বাবুল। পুলিশের চাকরি ছাড়ার কয়েকমাস পর আলাদা বাড়িতে ওঠেন সন্তানদের নিয়ে।