নিউজটি শেয়ার করুন

নাজিরহাট-কাজিরহাট সড়ক সংস্কারে ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ: জনমনে উচ্ছাস

অবশেষে পশ্চিম-উত্তর ফটিকছড়ির দুঃখ খ্যাত ‘নাজিরহাট-কাজিরহাট জিসি সড়ক’ সংস্কারে এলজিইডি থেকে দু’দফায় ৭ কোটি ৪৭ হাজার ১ শত ৬ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। স্থানীয় এমপি আলহাজ্ব সৈয়দ নজিব্লু বশর মাইজভান্ডারীর নিরলস প্রচেষ্টায় এ বরাদ্দ মিলল বলে এলজিইডি সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জানা গেছে, রামগড় সেকশন-১ নামীয় এ নাজিরহাট-কাজিরহাট সড়কটি পূর্বে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে ছিল। ২০০১-২০০৬ সরকার আমলে এটি উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়ক বিবেচিত হওয়ায় ‘সওজ’ থেকে ‘এলজিইডি’তে স্থানান্তরিত হয়। তৎকালীন চট্টগ্রাম জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ডিওলেটার নিয়ে সুয়াবিলের কৃতি সন্তান ও এফবিসিসিআই’র সাবেক পরিচালক এএসএম কামাল উদ্দীন তাঁর বন্ধু এলজিইডি’র তৎসময়ের প্রকল্প পরিচালক আব্দুল জলিল ঢালীকে তদ্বির করে জাপানী সংস্থা ‘জেবিআইসি’র অর্থায়নে এ নাজিরহাট-কাজিরহাট এবং কাজিরহাট-গাড়ীটানা সড়ক নির্মাণ করিয়েছিলেন। একই প্রকল্পের আওতায় নাজিরহাট ও বিবিরহাট বাজার সেড এবং দু’টি মহিলা মার্কেটও নির্মাণ করা হয়েছিল। অবশ্য তারপর থেকে নাজিরহাট-কাজিরহাট সড়কটির তেমন সংস্কার করা হয়নি। ফলে বেশ ক’বছর থেকে সড়কটি চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়ে। গেল বছরের বন্যায় এ সড়কটির বিভিন্ন পয়েন্টে ধ্বস এবং বিরাটাকার গর্ত তৈরী হয়। সে সময় ত্রাণ দিতে গিয়ে সরেজমিনে সড়কটির করুনাবস্থা দেখে ফটিকছড়ি সংসদীয় আসনের এমপি আলহাজ্ব সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী দ্রুত প্রাক্কলণ তৈরী করার জন্য ফটিকছড়ি উপজেলা প্রকৌশলীকে স্থানীয় সাংবাদিকদের সম্মূখে মৌখিক নির্দেশনা দেন। তারই আলোকে উপজেলা প্রকৌশলী ১৪/১০/২০১৯ইং তারিখে স্মারক নং- এলজিইডি/উঃপ্রঃ/ফটিক/চট্ট/২০১৯/৫৮৪; মূলে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ‘পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প’ এর আওতায় বরাদ্দ প্রদানের নিমিত্ত স্থানীয় সংসদ সদস্য’র সুপারিশ সমেত ২টি স্কীম প্রাক্কলণ প্রেরণ করে উপর মহলে। এরপর থেকে স্থানীয় সংবাদ কর্মীরা সড়কটির নানা করুন চিত্র তুলে ধরে সরকারকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে থাকে; একই ভাবে স্থানীয় এমপিও নিয়মিত চেষ্টা-তদ্বির অব্যাহত রাখেন। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে টাকা বরাদ্দে বিলম্ব হচ্ছে দেখে গেল নভেম্বর মাসে স্থানীয় এমপি তার অনুকূলে দেয়া বরাদ্দ থেকে ৩ কোটি ২২ লাখ ৭২ হাজার ৪ শ’ ৩৫ টাকা বরাদ্দ দিয়ে চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলীকে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশনা দেন। সে মতে টেন্ডারও হয়; কিন্তু টেন্ডারপ্রাপ্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত ইনোষ্টুমেন্ট ব্যবহারে অপারগতা প্রকাশ করায় পুনরায় টেন্ডার পাইপলাইনে রয়েছে বলে চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, শুরু থেকেই স্থানীয় এমপি সড়কটির সংস্কারে আমাদের এবং উপর মহলে প্রচেষ্টা রাখছিলেন। তারই আলোকে আমরা পরবর্তীতে পুরো বরাদ্দই অনুমোদন পেয়েছি। ‘নাজিরহাট-কাজিরহাট সড়ক’ সংস্কার কাজের জন্য প্রথম ধাপে ৩ কোটি ২২ লাখ ৭২ হাজার ৪ শ’ ৩৫ টাকা বরাদ্দ দিয়ে সড়কটির শূন্য থেকে ৫ কিলোমিটার এবং দ্বিতীয় ধাপে সদ্য বরাদ্দপ্রাপ্ত ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৭৪ হাজার ৬ শ’ ৭১ টাকা দিয়ে ৫+ কিলোমিটার থেকে ১০+২৪৫ কিলোমিটার সড়কটির শেষাংশ সংস্কার করা হবে। এ মাসেই টেন্ডার দেয়া হবে শেষাংশের। আগামী মাস নাগাদ সংস্কার কাজ শুরু হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। অবশেষে নাজিরহাট-কাজিরহাট জিসি সড়কের সংস্কারে ১ম ও ২য় ধাপে ৭ কোটি ৪৭ হাজার ১ শ’ ৬ টাকা বরাদ্দ মেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্থানীয় এমপি সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, দীর্ঘ ৩/৪ মাস লাগাতর প্রচেষ্টা চালিয়ে সড়কটির জন্য পূর্ণাঙ্গ বরাদ্দ আনতে সক্ষম হয়েছি। এতে আমি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি এক স্বপ্নীল ফটিকছড়ি গড়ার জন্য কাজ করছি; আশাকরি সফল হবো- ইনশাআল্লাহ।

এ দিকে ‘নাজিরহাট-কাজিরহাট সড়ক’ সংস্কারে বরাদ্দের খবর পেয়ে ব্যবহারকারী দু’লক্ষাধিক পথচারীদের কষ্টের দিন শেষ বলে উচ্ছাস প্রকাশ করেছে আম-জনতা। তারা বলেন, বেশ ক’বছর থেকে; বিশেষ করে- গেল বর্ষা মৌসুমে এ সড়ক দিয়ে আমাদের চলাচলে কষ্টের সীমা-পরিসীমা ছিল না। তারা প্রত্যাশা করে- সড়কের সংস্কার কাজ যেন ‘টেকসই’ হয়।