নিউজটি শেয়ার করুন

নবজাতক নিয়ে কাড়াকাড়ি, থানায় জিডি: ‘পাগলিটা মা হলেন, বাবা হলো না কেউ’

নবজাতক নিয়ে কাড়াকাড়ি, থানায় জিডি: ‘পাগলিটা মা হলেন

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি : রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের গোচরা এলাকার মানসিক ভারসাম্যহীন এক পাগলি পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছে। এখন এ সন্তান কে নেবে তা নিয়ে এক রকম কাড়াকাড়ি শুরু হয়ে গেছে, এমনকি থানা পর্যন্ত গড়িয়েছে বিষয়টি।

বোনের বাচ্চা ফেরত চেয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বড় ভাই বাদশা আলমের স্ত্রী হাছিনা বেগম। অন্যদিকে বাচ্চাটিকে নিতে মরিয়া একাধিক ব্যক্তি।

তবে বাচ্চার ভবিষ্যত গন্তব্য কোথায় হবে তা এখনও নির্ধারণ হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোরবানির দিন ২১ জুলাই সকালে উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের হুজুরের টিলা এলাকার মৃত আবদুর রহমানের ছেলে সাইফুল ইসলামের বসতঘরের সামনে সন্তান প্রসব করে একই এলাকার রিক্সা চালক বাদশা আলমের মানসিক ভারসাম্যহীন ছোট বোন জুনু আক্তার (২৫)।

মানসিক ভারসাম্যহীন এই নারী ঘরে থাকতো না এবং বেঁধেও রাখা যেতো না বলে জানান স্বজনরা। সে পোমরা ইউনিয়নের গোচরা বাজার এলাকার বিভিন্নস্থানে ঘোরাফেরা করতে দেখা যেত বলে জানান স্থানীয়রা।

সম্প্রতি পুত্র সন্তানের জন্ম দিলে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং বাচ্চটিকে দত্তক নিতে একাধিক মানুষ একপ্রকার কাড়াকাড়ি শুরু করে।

এই বিষয়ে পাগলী জুনু আক্তারের ভাই নুরুল আলম বলেন, আমার বোনকে ঘরে রাখতে পারি না। সে দীর্ঘদিন ধরে বাইরে বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কোরবানির দিন সকালে সাইফুল ইসলামের বসতঘরের সামনে একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেয় সে। সাইফুল ইসলামের স্ত্রী শামীমা আক্তার (৩০) বাচ্চাটিকে নিজের কাছে রাখে। বিষয়টি আমরা জানতে পেরে বাচ্চাটিকে ফিরিয়ে আনতে গেলে তারা একপ্রকার আমাদের তাড়িয়ে দেয়। এই বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও এখনও বাচ্চাটিকে ফেরত পায়নি। আমাদের হেফাজতে বোনের কাছে বাচ্চাটিকে দিলে হয়ত তার মানসিক সুস্থতা ফিরে আসতে পারে, সে আশায় আমি বাচ্চাটিকে ফেরত চাচ্ছি।

সাইফুল ইসলামের স্ত্রী শামীমা আক্তার (৩০) বলেন, পাগলিটি যখন প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছিল তখন আমরা এগিয়ে গিয়ে বাচ্চাটিকে প্রসব করায়, পাগলিকে সুস্থ করে তুলি এবং ডাক্তারও দেখিয়েছি। এখনও বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানো থেকে শুরু করে পরিচর্যা করে যাচ্ছি। পাগলিটাও ঘুরেফিরে আমাদের এখানেই আসা যাওয়া করছে এবং আমরাও তাকে খাবার দেয়। আমাদের বাচ্চার প্রতি কোন লোভ নেই। কারণ আমাদেরও এক ছেলে ও মেয়ে সন্তান রয়েছে। কিন্তু এখানে কিছু লোক বাচ্চাটিকে টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দিতে চায়। তাই আমরা বাচ্চাটির যাতে সুন্দর একটি ভবিষ্যত হয়, সেটাই চাই। তারা যখন থানা-পুলিশ করেছে, তখন আমরা নিজেরাই গিয়ে পুলিশকে বাচ্চাটিকে দিতে চেয়েছিলাম। এখনও প্রশাসন যদি চাই আমরা বাচ্চাটিকে আইনগতভাবে যেভাবে দিতে বলে সেখানেই হস্তান্তর করবো।

জানা যায়, মানসিক ভারসাম্যহীন জুনু আক্তারের ইতিপূর্বে কক্সবাজারের জনৈক ব্যক্তির সাথে বিয়ে হয়েছিল। সেই সংসারে তার ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে সন্তান রয়েছে। কিন্তু স্বামী অন্যত্র বিয়ে করে জুনুকে বের করে দিলে তখন থেকেই সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে বলে স্বজনদের সূত্রে জানা যায়। এদিকে থানায় ইতিমধ্যে অনেকেই বাচ্চাটিকে দত্তক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

এ ব্যাপারে রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুব মিল্কী জানান, “বাচ্চাটিকে নেওয়ার আগ্রহ অনেকেরই। তবে ওই নবজাতককের বিষয়ে আমরা দুই পক্ষের সাথে বসে একটি সিদ্ধান্ত নেবো।”

এদিকে জানা যায়, পোমরা ইউনিয়নের গোচরা এলাকায় ইতিপূর্বেও আরও দুই মানসিক ভারসাম্যহীন নারী গর্ভবতী হয়েছিল। সিসি ক্যামরার আওতায় থাকা এই বাজারে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা বারবার হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।