নিউজটি শেয়ার করুন

নগরীর ৫১ এলাকার নমুনায় ১৫টিতে এডিস, ৩৯টিতে এনোফিলিস মশার লার্ভা‘র অস্তিত্ব

চবির গবেষণায় বেরিয়ে আসলো চট্টগ্রামে ম্যালেরিয়া আর ডেঙ্গুর উদ্বেগজনক চিত্র

নগরীর ৫১ এলাকার নমুনায় ১৫টিতে এডিস, ৩৯টিতে এনোফিলিস মশার লার্ভা‘র অস্তিত্ব
জিয়াউল হক ইমন: চট্টগ্রাম নগর জুড়ে মশার জ্বালায় অতিষ্ঠ নগরবাসী। সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে কলেজ ছাত্রীসহ ২ জন মারা যায়।
এবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় নগরীর ৯৯ টি স্থান পরিদর্শন করে নগরীর ৫১টি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের ছয়টি স্থান থেকে মশার লার্ভা সংগ্রহ করে।
যার মধ্যে নগরীর ৫১ নমুনায় ১৫টিতে বেরিয়ে আসলো ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার লার্ভা ও ৩৯ টিতে ম্যালেরিয়ার জীবাণুবাহী এনোফিলিস লার্ভার উপস্থিতি।
যা নগরবাসীর জন্য উদ্বেগজনক মনে করছেন স্বাস্থ্য বিষেশজ্ঞরা।
তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী বুধবার থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সিটি মেয়র এম. রেজাউল করিম চৌধুরী।
৩ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুরে চসিকের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতারের উপস্থিতিতে চট্টগ্রামের মেয়র এম. রেজাউল করিম চৌধুরীর কাছে হস্তান্তর করা মশার ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) গবেষকদলের প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া যায়।
মেয়র এম. রেজাউল করিম চৌধুরী সিপ্লাসকে বলেন, গবেষণায় তারা যে এলাকায় মশার লার্ভা পেয়েছে তা মাথায় রেখে কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী মশক নিধনের কাজ চালিয়ে যাবো। ইতিমধ্যে ক্রাশ প্রোগ্রামের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আশাকরি এবার আমরা মশক নিধনে ফল পাবো।
মেয়র বলেন, গবেষণায় এসব লার্ভার উপস্থিতি মিলেছে বাড়ির ফুলের টব, পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের পাত্র, দোকানের ব্যাটারির সেল ও টায়ার এবং রাস্তার ধারে পাইপে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে। লেবু, পুদিনা, তুলসি, নিম ও তেজপাতার ঘ্রাণ মশা সহ্য করতে পারে না। তাই আইল্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থানে এসব গাছ লাগালে এর থেকে নগরবাসী পরিত্রাণ পাবে।
মেয়র জানান, গবেষণায় পরীক্ষার জন্য সিটি করপোরেশন চারটি এডাল্টিসাইড ও একটি লার্ভিসাইডের নমুনা দেয় টেকনিক্যাল কমিটিকে। যারমধ্যে একটি এডাল্টিসাইড-লাইট ডিজেল অয়েল (এলডিও) যা কালো তেল নামে পরিচিত এবং লার্ভিসাইডটি বর্তমানে সিটি করপোরেশন মশা নিধনে ব্যবহার করে।
অন্য তিনটি এডাল্টিসাইড পরীক্ষামূলক নমুনা হিসেবে টেকনিক্যাল কমিটিকে দেয় সিটি করপোরেশন। যার মধ্যে একটি ভেষজ কীটনাশক, যেটি এডাল্টিসাইড ও লার্ভিসাইড উভয় হিসেবে ব্যবহার করা যায়। বাকি দুটি রাসায়নিক কীটনাশক। লার্ভা খায় এমন মাছের চাষ, অণুজীব ব্যবহার ও উদ্ভিদের নির্যাস দিয়ে লার্ভা ধ্বংসের সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
বুধবার থেকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে মশক নিধনে চসিকের ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু হচ্ছে বলে জানান চসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর মোবারক আলী।
প্রসঙ্গত: গত ১৪ মার্চ ব্যবহৃত ওষুধ পরীক্ষা করতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীন আখতারকে অনুরোধ করে চসিক। এরপর ২৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়াকে আহ্বায়ক এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ওমর ফারুককে সদস্য সচিব করে ছয় সদস্যের এই টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments