নিউজটি শেয়ার করুন

নগরীতে আলোচিত বাবুল ও রোহিত হত্যা মামলার ৩ আসামী আটক

সিপ্লাস প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম নগরীর আলোচিত ডবলমুরিং থানাধীন পাঠানটুলি এলাকায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আজগর আলী বাবুল (৫৫) নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার পলাতক আসামি দেলোয়ার রশিদকে (৪২) গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।  অপরদিকে চট্টগ্রামে ছাত্রলীগকর্মী রোহিত হত্যা মামলায় মো. মহিউদ্দিন (২৯) ও সাইফুল ইসলাম বাবু (২০) নামের দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে র‌্যাব ও মহানগর পুলিশের দক্ষিণ জোনের উপ-কমিশনার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।

গ্রেফতার দেলোয়ার রশিদ ডবলমুরিং থানাধীন মোগলটুলি ওসমান গণি কন্ট্রাক্টর বাড়ির মফিজুল হকের ছেলে। তিনি আজগর আলী বাবুল হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি। তিনি ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন।

র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. নূরুল আবছার বলেন, চকবাজার থানাধীন কাপাসগোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দেলোয়ার রশিদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আজগর আলী বাবুল হত্যা মামলার আসামি।

গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দেলোয়ার রশিদ আজগর আলী বাবুল হত্যার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে র‌্যাব।

১২ জানুয়ারি রাতে ২৮ নম্বর পাঠানটুলি ওয়ার্ডের মগপুকুর পাড় এলাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর ও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ও সদ্য সাবেক কাউন্সিলর মো. আবদুল কাদেরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ দুইজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে মো. আজগর আলী বাবুল (৫৫) নামে একজন মারা যান। নিহত বাবুল আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুরের সমর্থক।

১৩ জানুয়ারি ভোরে নিহত বাবুলের ছেলে সেজান মাহমুদ সেতু বাদি হয়ে ডবলমুরিং থানায় ‘বিদ্রোহী’ কাউন্সিলর প্রার্থী মো. আবদুল কাদেরকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনকে এজাহারনামীয় ও ৩০-৪০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর: ১০।

মামলার এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন- মো. আবদুল কাদের (৫০), হেলাল উদ্দিন প্রকাশ হেলাল (৪০), ওবাইদুল করিম মিন্টু (৪৫), আবদুল ওয়াদুদ রিপন (৪২), আবদুর রহিম রাজু (৪৫), আসাদ রায়হান (৩৫), আলাউদ্দিন আলো (৩৫), ইমরান হোসেন ডলার (২৪), দিদার উল্লাহ (৪৮), সালাউদ্দিন সরকার (৪৫), দেলোয়ার রশিদ (৪২), মো. আলমগীর (৪৫) ও আবদুন নবী (৪৭)।

ঘটনার পর আটক কাউন্সিলর প্রার্থী মো. আবদুল কাদেরসহ ১১ জনকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। তাদের ১০ দিন রিমান্ডের আবেদন করে। আদালত সবার ৩ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গ্রেফতার ১১ আসামি হলো- মো. আবদুল কাদের (৫০), হেলাল উদ্দিন প্রকাশ হেলাল (৪০), ওবাইদুল করিম মিন্টু (৪৫), আসাদ রায়হান (৩৫), ইমরান হোসেন ডলার (২৪), দিদার উল্লাহ (৪৮), মিনহাজ হোসেন ফরহাদ (২০), শহিদুল ইসলাম প্রকাশ সাহেদ (৩৭), জাহিদুল আলম জাহিদ (২৫), শহিদুল ইসলাম (৩৩), আবদুর রহমান (৪৪)।

এদের মধ্যে মিনহাজ হোসেন ফরহাদ, শহিদুল ইসলাম প্রকাশ সাহেদ, জাহিদুল আলম জাহিদ, শহিদুল ইসলাম, আবদুর রহমান এ মামলার সন্দিগ্ধ আসামি।

অপরদিকে একই দিন দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের দক্ষিণ জোনের উপ-কমিশনার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগকর্মী রোহিত হত্যা মামলায় মো. মহিউদ্দিন (২৯) ও সাইফুল ইসলাম বাবু (২০) নামের দুই যুবককে গ্রেপ্তার করার তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ৮ জানুয়ারি বিকালে দেওয়ানবাজার ভরাপুকুরপাড় সংলগ্ন কেডিএস গলি এলাকায় ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছিলেন ওমরগণি এমইএস কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র আশিকুর রহমান রোহিত (২০)। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ১৫ জানুয়ারি ভোরে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় রবিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে কদমতলী এলাকা থেকে সাইফুল ইসলাম বাবুকে ও মো. মহিউদ্দিনকে ঢাকার মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মো. মহিউদ্দিন ভারতে পালিয়ে যাওয়ার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছিলেন।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজাম উদ্দিন বলেন, ‘বাকলিয়া ডিসি রোড এলাকার চান মিয়া মুন্সি লেনের মা মনি ক্লাবের কার্যক্রম নিয়ে রোহিতদের সঙ্গে প্রতিপক্ষের ‘বিরোধ’ ছিল। মাদকবিরোধী পোস্টার লাগানো নিয়ে তাদের দ্বন্দ্ব ছিল। বিষয়টি নিয়ে ঘটনার কয়েকদিন আগে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরেই কয়েকজন দুর্বৃত্ত রোহিতকে ধাওয়া করে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে।’

ওই ঘটনার পরদিন রোহিতের বড় ভাই জাহিদুর রহমান বাদী হয়ে সাহাবু (২৬), সাইফুল ইসলাম বাবু (২০) ও মো. মহিউদ্দিন (২৯) নামে তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন বাকলিয়া থানায়।