নিউজটি শেয়ার করুন

দারিদ্রতাকে হার মানিয়ে মেডিকেলে ভর্তির স্বপ্ন পূরণ আনোয়ারার দুই মেয়ের

আনোয়ারা প্রতিনিধি : দারিদ্রতা ও নানান প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে আনোয়ারার দুই মেয়ে।

আনোয়ারা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিলপুর গ্রামের রুপেষ তালুকদারের মেয়ে পূজা তালুকদার ও বারখাইন ইউনিয়নের তৈলারদ্বীপ গ্রামের মাহবুব আলমের মেয়ে হামিদা সুলতানা মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পায়৷

২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় মেধাক্রমে ৩০২৯ তম হয়ে পূজা তালুকদার দিনাজপুর মোঃ আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজে এবং ৩৬৩৬ তম হয়ে হামিদা সুলতানা কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ভর্তির সুযোগ পায়।

ছোটবেলা থেকে পূজা তালুকদার ও হামিদা সুলতানা মেধাবী ছিলেন। পূজা তালুকদার বিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসিতে জিপিএ-৫, আনোয়ারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি ও এসএসসিতে জিপিএ-৫ এবং পটিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ এবং হামিদা সুলতানা তৈলারদ্বীপ বারখাইন মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসিতে জিপিএ -৫, তৈলারদ্বীপ এরশাদ আলী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসিতে জিপিএ-৫, এইএসএসিতে গোল্ডেন ও সিটি কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫৷

মেধার জোরে সব বাঁধা জয় করে মেডিকেলে পড়ার সুযোগ করে নিয়েছে পূজা ও হামিদা। মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় পূজা ও হামিদার পরিবারে চলছে খুশির বন্যা।

পূজা তালুকদারের পরিবারের সুত্রে জানা যায়, শিক্ষা জীবনজুড়েই আর্থিক দুশ্চিন্তা ছিল পূজা তালুকদারের নিত্যসঙ্গী। পূজা পরিবারের বড় সন্তান। তারা দুই ভাই বোন৷ পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি পূজার পিতা একজন মিষ্টির দোকানের কারিগর বর্তমান দারোয়ান।

তার বাবা শহরের একটি মিষ্টি দোকানে ৭ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করে সংসার চালাতে কষ্ট হয়ে যেত। এরমধ্যে লেখাপড়ার খরচ চালাতে দুশ্চিন্তা। মেধার জুরে স্কুল শিক্ষকদের সহযোগিতায় কোনো রকম এসএসসি শেষ করলে দুশ্চিন্তা বাড়ে ইন্টারে।

এলাকা থেকে দূরে পটিয়া সরকারি কলেজে ভর্তি হওয়ায় কিভাবে কলেজে যাবে, বই, খাতা ও প্রাইভেট খরচ কিভাবে চালাবে সব দুশ্চিন্তা যেন বন্ধী করে রেখেছে। শেষে লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার পথে।

এসময় মানুষ মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠন পূজার অবস্থার খবর পেয়ে লেখাপড়ার সহযোগিতার হাত বাড়ায়। ফাউন্ডেশনটির সহযোগিতায় ইন্টার শেষ করে। এর মধ্যে মহামারী করোনায় বাবার চাকরিটাও চলে যায়৷ নেমে আসে পরিবারে বিপর্যয়।

পূজা তালুকদারের মা আবেগ আপ্লূত হয়ে বলেন, ছোটবেলা থেকে অর্থের অভাবে লেখাপড়ার সমস্যা হলেও কষ্ট করে লেখাপড়া চালিয়ে গেছে আমার মেয়ে। কোনোরকম খেয়ে না খেয়ে মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করার চেষ্টা চালিয়ে গেছি। আজ আমাদের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে মেয়ে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। সবার কাছে মেয়ের জন্য দোয়া চাই, ডাক্তার হয়ে দেশ ও সমাজের সেবা করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, অর্থের অভাবে যখন মেয়ের লেখাপড়া বন্ধের পথে তখন মানুষ মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় লেখাপড়া চালিয়ে গেছে। ফাউন্ডেশন ও চন্দ্র নাথ স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানায়।

এদিকে হামিদা সুলতানা মা আবেগ আপ্লূত হয়ে বলেন, হামিদা সুলতানা আমাদের তৃতীয় সন্তান। তারা ৬ ভাই বোন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হামিদার পিতা৷ তার বাবা শহরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অল্প বেতনে চাকরি করে সংসার চালাতে কষ্ট হলেও মেয়ের লেখাপড়ার কোনো সমস্যা হতে দেইনি।

যেকোনো মূল্যে ছেলেমেয়েদেরকে লেখাপড়া করে ভাল মানুষ করার লক্ষ্য ছিল। আজ মেয়ে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। অনেক খুশি লাগতেছে। মহান আল্লাহ তা’য়ালার দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করি৷ সবার কাছে দোয়া চাই মেয়ে ভাল একজন ডাক্তার হয়৷

হামিদা সুলতানা আবেগ আপ্লূত হয়ে বলেন, ছোটবেলায় ইচ্ছে ছিল লেখাপড়া করে ভাল একজন মানুষ হব। আস্তে আস্তে যখন বড় হচ্ছি ইচ্ছে হল ডাক্তার হব৷ সে লক্ষ্যে লেখাপড়া চালিয়ে গেছি, মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছি৷ আল্লাহর রহমতে মা-বাবা সহ সবার দোয়ায় ভর্তির সুযোগ পেয়েছি। আজ অত্যন্ত আনন্দ লাগতেছে৷ সকল কষ্ট আজ দূর হল। এখন একমাত্র লক্ষ্য ভাল একজন ডাক্তার হব। সবার কাছে দোয়া চাই।

ভবিষ্যতে একজন মানবিক ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন। যেন গরীব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি এবং দেশ ও সমাজের সেবা করতে পারি।