নিউজটি শেয়ার করুন

দল ও সরকার পরিচালনার দ্বায়িত্ব পৃথক করার পথে আওয়ামী লীগ ; দলীয় পদ ছাড়লেন নওফেল

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা দল ও সরকার পরিচালনার দ্বায়িত্ব পৃথক করার পরিকল্পনার কথা অনেকবারই ব্যক্ত করেছিলেন৷ আজ শেষ হওয়া দলীয় সম্মেলনে পদ বন্টনের ক্ষেত্রেও এমন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ঘটেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা৷

তবে সেই পরিকল্পনা এখনই শতভাগ বাস্তবায়ন করা কৌশলগত কারণে সম্ভব না হলেও আগামীদিনে সরকার প্রধান ও দলীয় প্রধানের পদ পৃথক করার পথেই হাটছেন তিনি৷ সদ্য ঘোষিত আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিতে মন্ত্রিসভার ৫ সদস্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল থাকলেও দলীয় পদ থেকে ছিটকে পড়েছেন ৬ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী।

নতুন এ কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ হারিয়েছেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আইন বিষয়ক সম্পাদকের পদ হারিয়েছেন- গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদকের পদ হারিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা ও কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যপদ হারিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান।

আজ কমিটি ঘোষনার পর থেকে প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুশারীরা ব্যারিস্টার নওফেলকে অগ্রীম শুভেচ্ছা জানিয়ে যাচ্ছিলো৷ তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে ঘোষিত কমিটিতে তাঁর নাম না পেয়ে শুরু হয় নানান গুঞ্জন৷ অনেকে ধারণা করছিলেন তিনি স্বপদে বহাল থাকছেন৷ তবে আজ সন্ধ্যায় মুহিবুল হাসান চৌধুরী আজ তার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তার (ফেসবুক) আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক পদ ছাড়ার মধ্যদিয়ে জানান দিলেন তিনি তার সেই পদে নেই৷

এর আগে গতকাল নওফেল তার ভেরিফাইড পেইজে একটি স্ট্যাটাস শেয়ার করে সেখানে লিখেছিলেন-“আমি এবং আমরা সবাই বিদায় নিবো।নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে৷ এই বিশাল পরিবারের দায়িত্ব আবারো আরেকটি কমিটির হাতে পরবে।আগের কেউ থাকবেন, কেউ থাকবোনা, কিন্তু এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এই তিনটি বছর এই দলকে এবং এই আদর্শকে বঙ্গবন্ধু কন্যার দিকনির্দেশনা অনুযায়ী সেবা করতে পেরেছি এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া। আমার মরহুম পিতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী আমাকে বলেছিলেন এই দলের সেবা করতে পারা মানে দেশের সেবা করতে পারা, তাই এটি একটি পবিত্র দায়িত্ব। এই পবিত্র দায়িত্ব চেষ্টা করেছি যথাযথ ভাবে পালন করার। এই সুবিশাল পরিবারের কেন্দ্রীয় দায়িত্বে থাকি বা না থাকি, এই আদর্শকে, এই অনুভুতি কে, সবসময় লালন করবো, কারণ আওয়ামী লীগ থাকলে বাংলাদেশ থাকবে। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে, দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ, এগিয়ে দেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।”

নওফেলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র সিপ্লাসকে জানিয়েছেন, নওফেলের পদের বিষয়টি তিনি নেত্রীর স্বিদ্ধান্তের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন৷ নেত্রী যে দ্বায়িত্ব দেবে তিনি সেটাই পালন করবে বলে কিছুদিন আগে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন৷

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সূত্রে জানা গেছে সামনেই মন্ত্রী সভায় রদবদল করা হচ্ছে৷ সেখানে ব্যারিস্টার নওফেল পদোন্নতি পাওয়াতে দৌড়ে এগিয়ে আছেন৷ সেক্ষেত্রে সরকারের প্রতিমন্ত্রি পদে দেখা যেতে পারে ক্লিন ইমেজের অধিকারী মহিবুল হাসান চৌধুরীকে৷