নিউজটি শেয়ার করুন

নতুন আরেক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা: টিকা কার্ডে সিনোফার্ম, সনদে অ্যাস্ট্রাজেনেকা

মো: মহিন উদ্দীন: করোনা সংক্রমন প্রতিরোধে দেশজুড়ে পরিচালিত হচ্ছে গণটিকাদান কর্মসূচি।

তারই ধারাবাহিকতায় সরকারি নির্দেশমতে মহানগরে দেয়া হচ্ছে মডার্নার টিকা। আর উপজেলা পর্যায়ে দেয়া হচ্ছে সিনোফার্মের টিকা।

কিন্তু সম্প্রতি চট্টগ্রাম মহানগরে টিকা নেয়া কারো কারো কার্ডে সিনোফার্ম লেখা। কিন্তু কার্ডে সিনোফার্ম লেখা কোন কোন ব্যক্তির সাময়িক সনদে (প্রথম ডোজ নেয়ার পর) উল্লেখ করা হয়েছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা।

এমনই এক চিত্র দেখা গেছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল কেন্দ্রে টিকা নেয়া এক ব্যক্তির ক্ষেত্রে। তিনি টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেন চলতি জুলাই মাসের ৭ তারিখ। তার কার্ডে টিকার নাম উল্লেখ করা হয়েছে সিনোফার্ম। অথচ সুরক্ষা অ্যাপস থেকে ডাউনলোড করা সাময়িক সনদে টিকার নাম উল্লেখ করা হয় অ্যাস্ট্রাজেনেকা।

তিনি সিপ্লাসকে বলেন, ‘বর্তমানে মহানগর পর্যায়ে দেয়া হচ্ছে মডার্নার টিকা। কিন্তু কার্ডে কেন সিনোফার্ম লিখা হলো আমার বোধগম্য নয়। আমার জানা মতে বর্তমানে দেশের কোথাও অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নেই। অথচ আমার সাময়িক সনদে অ্যাস্ট্রাজেনেকা উল্লেখ করা হয়েছে।

তাছাড়া সিনোফার্মার টিকার দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করতে হয় এক মাসের ব্যবধানে। আর অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করতে হয় দুই মাসের ব্যবধানে। সিনোফার্ম লেখা আমার কার্ডে দ্বিতীয় ডোজ টিকার তারিখ দেয়া হয়েছে এক মাস পর। যদি আমাকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিয়ে থাকে, তাহলে এক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয় ডোজ নেয়া মারাত্মক ঝুঁকি।

টিকার সনদে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের তারিখ ও টিকার নাম উল্লেখ করা থাকে। তাই সিনোফার্মের টিকা গ্রহণের পর সনদে এক মাসের ব্যবধানে আবার অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা ‍উল্লেখ করা হয় সেক্ষেত্রে বিদেশে যাওয়া আসাসহ নানা ক্ষেত্রে জটিলতার আশঙ্কা থেকে যায়। এসব বিষয় নিয়ে আমার মধ্যে বিরাজ করছে চরম উদ্বেগ-উৎকন্ঠা।’

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা: সেখ ফজলে রাব্বী সিপ্লাসকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগরীতে আগে থেকেই দেয়া হচ্ছে সিনোফার্মের টিকা। পরবর্তীতে এসে যোগ হয়েছে মডার্না। বর্তমানে মহানগর পর্যায়ে মডার্না ও সিনোফার্ম দুইটিই প্রয়োগ করা হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে দেয়া হচ্ছে শুধু সিনোফার্মের টিকা। কার্ডে যে নাম (সিনোফার্ম) উল্লেখ করা হয়েছে তা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করার কিছু নেই।

তবে সনদে টিকার নাম ভুল থা্কলে তা নিয়ে অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা আশঙ্কা রয়েছে। যার ক্ষেত্রে এমন হয়েছে তিনি হয়তো টিকার জন্য অনেক আগে নিবন্ধন করা। যখন দেশে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেয়া হচ্ছিল। কিন্তু মাঝখানে স্বল্পতার কারণে নিবন্ধন করেও অনেকে টিকা গ্রহণ করতে পারেননি।

বর্তমানে চালু হওয়ার পর সফটওয়্যারের ত্রুটির কারণে সিনোফার্মের টিকা গ্রহণ করার পরও তাদের কারো কারো সনদে উল্লেখ করা হচ্ছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট টিকাদান কেন্দ্রে যোগাযোগ করে বিষয়টি সংশোধন করে নেয়া উচিত।’