নিউজটি শেয়ার করুন

টিকার ‘সুরক্ষা’ অ্যাপসে নেই ‘পদুয়া’ ইউনিয়নের নাম, অসত্য তথ্য দিয়ে করতে হচ্ছে নিবন্ধন

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: করোনাভাইরাসের টিকার নিবন্ধন করার সময় রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দাদের ঝামেলার মুখে পড়তে হচ্ছে। নিবন্ধন করার সময় ‘সুরক্ষা’ ওয়েবসাইট কিংবা অ্যাপসে রাঙ্গুনিয়ার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার নাম থাকার কথা থাকলেও রয়েছে ১৪ ইউনিয়নের নাম।

যেখানে বাদ পড়ে গেছে ‘পদুয়া’ ইউনিয়নের নাম। ফলে ওই ইউনিয়নের বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে ইউনিয়নের নামের স্থলে অন্য ইউনিয়নের নাম দিয়ে নিবন্ধন করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানা যায়।

এই নিয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন সদত্তর দিতে পারেননি, তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশোধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

জানা যায়, করোনাভাইরাসের নিবন্ধনের সময় নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক নিবন্ধনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিলে ঠিকানার স্থলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন অপশন চলে আসে। এসব অপশন থেকে প্রত্যেকে নিজের ঠিকানা অনুযায়ী সঠিক নামটি সিলেক্ট করেন। কিন্তু পদুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা বিভাগ, জেলা, উপজেলার অপশনে সঠিক নামটি দিতে পারলেও ইউনিয়ন সিলেক্ট করতে গিয়ে পড়ে যান বিপত্তিতে। কারণ ইউনিয়ন অপশনে রাঙ্গুনিয়ার ১৪টি ইউনিয়নের নাম দেখা গেলেও ‘পদুয়া’ ইউনিয়নের নাম ওই অপশনগুলোতে দেওয়া নেই।

শুক্রবার (৯ জুলাই) বিকালে সুরক্ষা অ্যাপস এবং ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে এর সত্যতা পাওয়া যায়।

এদিকে ‘সুরক্ষা’ ওয়েবসাইট কিংবা অ্যাপসে নিজ ইউনিয়নের নাম না থাকায় বাধ্য হয়ে অসত্য তথ্য দিয়ে আশেপাশের ইউনিয়নের নাম সিলেক্ট করে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বাধ্য হচ্ছেন ওই এলাকার বাসিন্দাদের।

এই বিষয়ে টিকার নিবন্ধন করা আলী আজগর জানান, ‘আমি গত ৬ মাস আগে নিবন্ধন করার সময়েও পদুয়া ইউনিয়নের নাম মূল অপশনে পায়নি। বাধ্য হয়ে পাশের ইউনিয়ন “শিলক” সিলেক্ট করে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। তবে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকা গ্রহণের সময়েও বিষয়টি আমি উনাদের জানিয়েছিলাম।’ একইভাবে ‘শিলক’ ইউনিয়নের নাম ব্যবহার করে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলেন পদুয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সেলিমও।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শুরু থেকেই প্রথমে ওয়েবসাইটে এবং পরবর্তীতে অ্যাপসেও রাঙ্গুনিয়ার সব ইউনিয়নের নাম থাকলেও ‘পদুয়া’র নাম নেই। বিষয়টি দীর্ঘদিনেও কারও নজরে না পড়াটা দুঃখজনক বলে তিনি উল্লেখ করেন।’

মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন নামে পদুয়া ইউনিয়নের এক ওমান প্রবাসী বলেন, ‘আমি আজ (শুক্রবার) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিবন্ধন করতে গিয়ে দেখি মূল অপশনে আমার (পদুয়া) ইউনিয়নের নাম নেই। পরে বিষয়টি ইউনিয়নের ডিজিটাল তথ্যকেন্দ্রে জানালে তারা বলছেন পদুয়া ইউনিয়নের নাম না থাকলেও সমস্যা হবে না। অন্য ইউনিয়নের নাম ব্যাবহার করেও নিবন্ধন করা যাবে। তাই বাধ্য হয়ে ভুল তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করতে হয়েছে।’

এদিকে বিষয়টি জানতে চাইলে পদুয়া ইউনিয়নের ইউডিসি উদ্যোক্তা মো. নুরুল আজিম জানান, এটি একটি স্বাস্থ্য বিভাগের ওয়েবসাইট। তথ্য সংযোজনের কাজটি স্বাস্থ্য বিভাগ করেছেন। তবে পদুয়া’র নাম অপশনে না থাকার বিষয়টি আমাদের নজরে এলে আমরা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করি। এছাড়া জনগণের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে আমরা অন্য ইউনিয়নের নাম ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন করে দিয়েছি। তবে পদুয়া ইউনিয়নের একাধিক বাসিন্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা গ্রহণের সময়েও বিষয়টি উনাদের জানিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেব প্রসাদ চক্রবর্তী বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা বিষয়ক পরিসংখ্যানবিদের সাথে আলোচনা করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিষয়টি জানানো হবে বলে তিনি জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘পদুয়া ইউনিয়নের নাম বাদ পড়ার বিষয়টি কেউ আমাকে জানাইনি, আজকেই জেনেছি। বিষয়টি নিয়ে আমি ইতিমধ্যেই চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। আশাকরি খুব দ্রুত এটি সমাধান হয়ে যাবে।’