নিউজটি শেয়ার করুন

জরিমানা শোধ না করায় মুক্তি মেলেনি চট্টগ্রাম কারাগারের ৭ জনের

সিপ্লাস প্রতিবেদক: করোনাভাইরাসের কারণে দেশের কারাগারগুলোতে চাপ কমাতে বন্দীদের মুক্তি দেওয়া শুরু করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে গত দুদিনে দুই দফায় ৭ জন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আদেশ এলেও জরিমানা শোধ না করায় মুক্তি মেলেনি অন্য ৭ জনের। তবে বিচারাধীন মামলার কোনো আসামিকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার মো. সাইমুর উদ্দিন বলেন, তিন ধাপে বন্দী মুক্তি দেওয়া হবে। অনুর্ধ্ব এক বছর সাজাপ্রাপ্তদের মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে ২ জন ও দ্বিতীয় ধাপে ৫ জনকে ইতোমধ্যে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ১০৬ জন কয়েদি আসামিকে বিশেষ বিবেচনায় মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠানো হয়েছিল। তৃতীয় ধাপের অনুমোদন এখনো আসেনি।

তিনি জানান, প্রথম ধাপে ৮ জনের মুক্তির আদেশ এসেছে। শনিবার দুজনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ৬ জনের জরিমানা থাকায় মুক্তি দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে দ্বিতীয় ধাপে ৬ জনের মুক্তির আদেশ এসেছে। তাদের মধ্যে গতকাল ৫ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আরেকজনের জরিমানা থাকায় মুক্তি দেওয়া যায়নি। তারা জরিমানার সাজা ভোগ করেই মুক্তি পাবেন। কারণ মন্ত্রণালয়ের আদেশে উল্লেখ করা আছে, জরিমানা থাকলে আদায় সাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া যাবে।

জানা যায়, গত ২ মে থেকে সারা দেশের কারাগারগুলো থেকে অনুর্ধ্ব এক বছর সাজাপ্রাপ্ত অর্থাৎ লঘুদণ্ডে দণ্ডিত কয়েদিদের মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। দেশের ৬৮টি কারাগার থেকে কয়েক ধাপে মোট ২ হাজার ৮৮৪ জনকে মুক্তি দেওয়া হবে। সর্বোচ্চ এক বছর যাদের সাজা, তারাই এই তালিকায় রয়েছেন। তালিকা করা বন্দীদের ছয় মাস থেকে এক বছর, তিন মাস থেকে ছয় মাস এবং শূন্য থেকে তিন মাস-এই তিনটি ভাগে ভাগ করে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ৫ জন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মো. মুমিন একটি মাদক মামলায় ৬ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন। বাঁশখালীর মবিন ইভটিজিংয়ের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারে ৬ মাস সাজা ভোগ করছিলেন। একটি মাদক মামলায় হাটহাজারীর মহিউদ্দিনের ৬ মাসের কারাদণ্ড হয়েছিল। মারামারির মামলায় আনোয়ারা উপজেলার আবুল হোসেন ৬ মাসের সাজা কাটছিলেন। অন্যদিকে সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ চেষ্টার অভিযোগে এক বছরের সাজা ভোগ করছিলেন আলাউদ্দিন।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে সিনিয়র জেল সুপার মো. কামাল হোসেন বলেন, করোনার এই পরিস্থিতিতে কারাগারে বন্দীর চাপ কমাতে সরকারের নির্দেশেই মুক্তির এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে দুদিনে ৭ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র লঘুদণ্ডে দণ্ডিত আসামিদের মধ্য থেকেই মুক্তির নির্দেশনা এসেছে। তবে বিচারাধীন কোনো মামলার আসামিকে মুক্তির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসেনি।