নিউজটি শেয়ার করুন

চসিক নির্বাচন: এক নজরে রেজাউল করিমের ৩৭ প্রতিশ্রুতি

সিপ্লাস প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা এম রেজাউল করিম চৌধুরী ৩৭টি প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষনা করেছেন।

ইশতেহারে এম. রেজাউল করিম চৌধুরীর ৩৭ টি প্রতিশ্রুতি পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হলো:

১. জলবদ্ধতা নিরসন মহাপ্রকল্প হাতে নিয়ে ঠিকভাবে বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ মনোযোগ।

২. ১০০ দিনের মধ্যে সব ত্রুটি ও প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে তা নির্মূলে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

৩. যানযট সমস্যা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সাথে বসে যত দ্রুত সম্ভব এই জটিল সমস্যা দূরীকরণে সর্বোচ্চ মনোযোগ ।

৪. সড়ক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য ডিজিটাল ট্রাফিক সিস্টেম ও মনিটরিং চালু এবং ব্যস্ততম পয়েন্টগুলোতে নিরাপদ পথচারি পারাপারে আন্ডারপাস চালুর উদ্যোগ ।

৫. অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে সব নালা, নর্দমা, খাল, নদী উদ্ধার করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা ।

৬. বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বর্জ্য রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট গড়ে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তৈরি করা হবে এবং অপচনশীল পলিথিন ও প্লাষ্টিক বর্জ্যের আলাদা ডাম্পিং ইয়ার্ড করে রিসাইক্লিং প্ল্যান্টে রপ্তানি উপযোগী গৃহস্থালী সামগ্রি তৈরির উদ্যোগ নেয়া ।

৭. দেশি বিদেশি বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে পর্যটন খাত ও সৈকত পর্যটনে আধুনিক সুবিধা যোগ করে এই খাত থেকে নগর উন্নয়নে বাড়তি আয়ের উপর জোর দেয়া।

৮. ডিজিটাল গৃহশুমারি করে বাড়িওয়ালা – ভাড়াটিয়া যাতে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হন, ওভাবে যৌক্তিক হারে গৃহকর নির্ধারন করা হবে। কর বিভাগে সর্বোচ্চ নজরদারি ও স্বচ্ছতা-দক্ষতা ফিরিয়ে আনা ।

উপরের খাতগুলো অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে , বাকিগুলো হলো:

৯. সরকারের চলমান প্রকল্প ও মেগাপ্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে জোরদার ভূমিকা ও সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবো। ১০. বন্ধ হয়ে যাওয়া নাগরিক পরিসেবা কার্যক্রম পুনরায় চালু করা।

১১. চট্টগ্রামের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে প্রাকৃতিক বৈচিত্র ও পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ ও ভূ প্রকৃতির ক্ষতি না করে উন্নয়ন কার্যক্রম চালু করা ।

১২. ব্লু ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতিতে চট্টগ্রামের উদ্যোক্তারা যাতে এই খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন এবং চট্টগ্রামের মানুষের যাতে কর্মসংস্থান হয়, তার পরিবেশ সৃষ্টিতে উদ্যোগ ।

১৩. পাহাড়, হ্রদ, বনানী সংরক্ষন , সবুজায়ন, বেড়িবাঁধ ও সবুজ বেষ্টনী গড়ে উপকূলসহ সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস-প্লাবন থেকে নগর সুরক্ষায় গুরুত্ব দেয়া হবে।

১৪. কর্নফুলী ও হালদা নদী দখল ও দুষণ মুক্ত করে নাব্যতা ফিরিয়ে এনে নৌরুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ-স্টিমার সেবা চালু করে নগর পরিবহনের বাড়তি চাপ কমানো হবে।

১৫. মশকমুক্ত নগর গড়তে কার্যকর ও পরিবেশ উপযোগী কীটনাশক প্রয়োগ ও বদ্ধ ডোবা, জলাশয় নিয়মিত পরিষ্কার রাখা হবে।

১৬. অপরিকল্পিত স্থাপনা তৈরি, সড়ক ও ফুটপাত দখলে নিরুৎসাহিত করা হবে কঠোরভাবে।

১৭. নগরীর ব্যস্ততম সবকেন্দ্রে আধুনিক পাবলিক টয়লেট ও মহিলাদের জন্য নিরাপদ টয়লেট তৈরি করা হবে।

১৮. সব সড়ক ও গলি উপগলিতে পর্যাপ্ত এলইডি সড়ক বাতি ও সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে।

১৯. স্বল্প খরচে শিক্ষার মানসম্মত বিকাশে আমার সর্বোচ্চ মনোযোগ থাকবে।

২০. সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরীতে পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও ৫০০ বেডের হাসপাতাল গড়েতোলা হবে। এতে করোনা ও ক্যান্সার চিকিৎসায় আলাদা ইউনিট থাকবে। নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। ভ্রাম্যমান স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট গঠন করা হবে।

২১. রাজস্বসহ সব সেবাখাতের নিজস্ব পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরি করে সব সেবাকে ওয়ানস্টপ ডিজিটাল সার্ভারের আওতায় আনা হবে।

২২. সংশ্লিষ্ট সব সেবা সংস্থার সাথে সমন্বয় করে নগরীর সব উন্নয়ন ও সেবাখাত এক ছাতা নিচে আনার ব্যবস্থা করা।

২৩. প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরের নেতৃত্বে বিশিষ্ট নাগরিক সমন্বয়ে অপরাধ নির্মূল কমিটি গঠন করা হবে। ২৪. সাইবার দুষন ও আসক্তি নির্মূলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খেলার মাঠ রাখার উপর জোর দেয়া হবে।

২৫. কিশোরীদের আত্নরক্ষার প্রশিক্ষন বাধ্যতামূলক করা হবে। নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি করে প্রতি ওয়ার্ডে মহিলাদের কর্মসংস্থানেরব্যবস্থা করা।

২৬. মেয়েদের জন্য আলাদা পরিবহন সেবা চালুকরা হবে।

২৭. বিশেষ চাহিদার নাগরিক ও শিশুদের বাড়তি যত্ন ও সেবার পাশাপাশি তাদের মেধাবিকাশে নজর দেয়া হবে।

২৮. প্রতি ওয়ার্ডে কারিগরি প্রশিক্ষন ও ইন্টারনেট শিক্ষাকেন্দ্র চালুর উদ্যোগ।

২৯. নগরীর উন্মুক্ত ও সরকারি জমি লিজ নিয়ে সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা ।

৩০. রাস্তায় অবৈধ পার্কিং ও ফুটপাত দখল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রন ও শব্দ দুষন বন্ধ করার উদ্যোগ।

৩১. ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড ও বইপড়ার কর্মসূচী প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতা মূলক করা হবে। ৩২. ডিজিটাল পাঠাগার কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে।

৩৩. পাহাড় কাটা বন্ধ, জলাধারা, পুকুর দিঘি ভরাট কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রন করা হবে।

৩৪. মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ, বধ্যভূমি চিহ্নিতকরণ ও সুরক্ষা করা হবে। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধ লাঞ্চিত মা বোনদের তালিকা করা।

৩৫. কিশোর অপরাধের কারণ ও কিশোর অপরাধী গ্যাং, মাদক ও অপরাধের আখড়া গুঁড়িয়ে দিয়ে নাগরিক স্বস্তি নিশ্চিত করা।

৩৬. নাগরিক তথ্যসেবাসহ সব সেবা কেন্দ্রীয় সার্ভার নেটওয়ার্কের আওতায় থাকবে।

৩৭. ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে সমষ্টিগত স্বার্থের প্রতি গুরুত্ব।প্রতি ওয়ার্ডে নাগরিক উদ্ভুদ্ধকরণ পর্ষদ গঠন করা হবে।

শনিবার(২৩ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে তিনি এ ইশতেহার ঘোষণা করেন।