নিউজটি শেয়ার করুন

কার বাসায় চসিকের আইসোলেশনের জন্য কেনা টিভি-ফ্রিজসহ বিভিন্ন সামগ্রী??

সিপ্লাস প্রতিবেদক: গত বছর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আইসোলেশন সেন্টারের রোগীদের বিনোদনের জন্য কেনা ২০টি টেলিভিশন, ইন্টারনেট সংযোজন সরঞ্জামাদিসহ, সাউন্ড সিস্টেম, খেলার ক্যারাম বোর্ডসহ বেশ কিছু বিনোদন সামগ্রী কেনা হয়েছিলো। বিনোদনের এইসবের জন্য ব্যয় করা হয়েছিলো ৭ লাখ ২২ হাজার ৩০০ টাকা। নতুন মেয়রের আমলে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট করোনা আইসোলেশন সেন্টারে এইসবের আর দেখা মিলছেনা! রোগীদের ইনজেকশন, ঔষধ ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণের জন্য কেনা ২টি ফ্রিজও কার বাসায় চলে গেছে তারও হদিস মিলছে না। রোগীদের সুবিধার্থে কেনা এরকম অনেক প্রয়োজনীয় মালামাল এখন আর নেই চসিকের নতুন আইসোলেশনে ।

নতুন আইসোলেশন সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, এখন তেমন রোগী নেই। যা কয়েকজন আছেন তারাও স্বস্তিতে নেই। বিনোদনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় বন্দীদশা পার করছেন চসিক আইসোলেশনে আসা করোনা রোগীরা। অন্যদিকে প্রয়োজনীয় ইনজেকশন ও ঔষধ সংরক্ষন করার জন্য ফ্রিজ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছে রোগীর স্বজনরা।

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে নির্মিত ২৫০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার নির্মাণে কেনাকাটায় নয়-ছয় ও নানা অনিয়মের বিষয় নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় ছিলো গেলো বছর। এই বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটিও করেছে চসিক। কিন্তু তার আলোর মুখ এখনো দেখেনি কেউ।

গত বছরের আইসোলেশন সেন্টার পরিচালনায় ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয় নিয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মেরও অভিযোগ ওঠেছিলো।

রোগী না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত উদ্বোধনের দুই মাসের মাথায় গত বছরের ১৪ আগষ্ট আইসোলেশন সেন্টারটি বন্ধ করে দিয়েছিলো চসিক।

এবার কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় নগরীর লালদীঘির দক্ষিণ পাড়ে আবারো চসিকের লাইব্রেরি ভবনের দুটি ফ্লোর নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে করোনা রোগীর চিকিৎসায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) পরিচালিত ৫০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার।

এক সাক্ষাতকারে ৫০ শয্যার এই আইসোলেশন সেন্টার করতে চসিকের কোন খরচ হয়নি বলে সিপ্লাসকে জানিয়েছিলেন চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরি। তিনি বলেন, আমাদের ২৫০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টারের জন্য কেনা মালামাল দিয়েই আমরা এই ৫০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার সাজিয়েছি। আমাদের অবশিষ্ট মালামাল স্টোরে জমা আছে।

আইসোলেশন সেন্টারের কেনাকাটা ও পরিচালনায় ব্যয় নিয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মেরও অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে।

রোগীদের বিনোদনের জন্য কেনা টিভি, ক্যারাম বোর্ড ও সাউন্ড সিস্টেম এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ সংরক্ষনের জন্য কেনা ফ্রিজ কোথায়? এবং কেন ৫০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টারে নেই সে বিষয়ে জানতে সে সময় কন্ট্রোলার অব স্টোরের দায়িত্বে থাকা যান্ত্রিক শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ বসাকের সাথে মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরবর্তীতে প্রকৌশলী সুদীপ বসাকের মোবাইল সংযোগ বন্ধ পাওয়া গেছে।