নিউজটি শেয়ার করুন

চন্দনাইশ হাশিমপুরে সীমানা বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত-২০

চন্দনাইশ প্রতিনিধিঃ উপজেলার দক্ষিণ হাশিমপুর বড়পাড়া এলাকায় সীমানা বিরোধকে কেন্দ্র করে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে সংঘর্ষে ৩ পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের ২০ জনের অধিক আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়নন্ত্রে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। ঘটনাস্থল থেকে ১৬ জনকে আটক করে।

আহতদের মধ্যে ৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। গত ১৮ মে ইফতারের পূর্ব মুহুর্ত থেকে উপজেলার দক্ষিণ হাশিমপুর বড়পাড়া এলাকায় সীমানা বিরোধকে কেন্দ্র করে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, নরুল আমিন ও সেকান্দর আলীদের মধ্যে সীমানা বিরোধকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষ গাছের লাঠি,ইট,দা,কিরিচ নিয়ে ইফতারের সময় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এ সময় পক্ষদ্বয়ের মধ্যে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলির আওয়াজ শোনা যায়। দীর্ঘ ২ ঘন্টাকাল ব্যাপী এ সংঘর্ষ চলাকালে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ধমকা-ধমকা যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। থানা পুলিশ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়নন্ত্রে আনতে ৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে।

এ সময় সংঘর্ষে আবদুল খালেকের স্ত্রী নুর বেগম (৩৫), আবুল কাশেমের স্ত্রী হোসনে আরা (৪০), আবদুল মালেকের মেয়ে রিয়া আকতার (১৪), আবদুর রহমানের স্ত্রী বেগমা খাতুন (৪০), আবুল হোসেনের স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৩৭), আলী আকবরে স্ত্রী সিরাজ বেগম (৩৮), মৃত-নজির আমহদের ছেলে মো. সিরাজ (৫৬), জান বকসুর ছেলে আবদুল মান্নান (৪৫), মো. ওসমান (৪২), মো. ফোরকান (৩৫), আবদুল মান্নানের ছেলে তাজুল ইসলাম (১৮), আবদুল খালেকের ছেলে সাহাব উদ্দিন (৩২), হাছি মিয়ার ছেলে আবদুল রহমান (৬০), আলা মিয়ার ছেলে মতিউর রহমান (৫৫), সিরাজুল ইসলামের ছেলে শফি আলম (২৪), নজির আহমদের ছেলে আবদুল খালেক (৫৭), মৃত-আবদুল হাকিমের ছেলে আলী আকবর (৫২) আহত হয়। আহতদেরকে চন্দনাইশ ও দোহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়। নুর বেগম, মো.সিরাজ, মো.ফোরকার, আবদুল খালেককে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এ সময় পক্ষদ্বয়ের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপে ৩ পুলিশ সদস্য এস আই মো.কাদের, কনস্টেবল সালাউদ্দিন ও মো.ইউনুছ আহত হয়। সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অপরাধে এস আই (নির:) আবদুল কাদের বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৫০/৬০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। সে মামলায় ঘটনাস্থল থেকে একই এলাকার মৃত-আদু মিয়ার ছেলে নুরুল ইসলাম (৪৩),মৃত-সিরাজুল হকের ছেলে মো.জসিম উদ্দিন (৪৭), মো.মিয়ার ছেলে মো.কাইছার (২২), মো. হোসেনের ছেলে মো. মোরশেদ (২০), সামশুল হুদার ছেলে ছমির উদ্দিন (৩২), আবুল কাশেমের ছেলে মো.শাকিল (২০), মৃত-তোফায়েল আমহদের ছেলে ফজল আহমদ (৩০), মৃত-মো.আলীর ছেলে সামশুল আলম (৫০), মৃত-দেলোয়ার হোসেনের ছেলে গিয়াস উদ্দিন (২৫), সামশুল আলমের ছেলে মো.জামাল উদ্দিন (৩২), মৃত-তুফান আলীর ছেলে রজযান আলী (২৮), সাহেব মিয়ার ছেলে মো.রজযান (২১), ইমাম হোসেনের ছেলে হুমায়ুন আমহদ (২৬), আবদুল খালেকের ছেলে সাহাব উদ্দিন (২০), মৃত-আলা মিয়ার ছেলে মতিউর রহমান (৬০), মৃত-হাছি মিয়ার ছেলে আবদুর রহমান (৫২) কে আটক দেখিয়ে গতকাল ১৯ মে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

থানা অফিসার ইনচার্জ কেশব চক্রবর্ত্তী বলেছেন, ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরিস্থিতি নিয়নন্ত্রনে আনতে ৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে। সংঘর্ষকারীদের পক্ষ থেকে গুলি ছুড়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। ঘটনাস্থল থেকে ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করার কারণে গ্রেফতার আতংকে পুরুষ শূণ্য হয়ে পড়েছে। এলাকায় তমতমে অবস্থা বিরাজ করছে। অপরদিকে চন্দনাইশে বিভিন্ন এলাকায় তু”ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে বৈলতলী দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী কাউছার আকতার (১৯), বরকলের সুকেন্দু বিকাশ ধরের ছেলে সন্দীপ ধর (৫৬), সাতবাড়িয়ার হাছি মিয়ার ছেলে সেলিম উদ্দিন (৪৪), মোস্তাক হোসেনর ছেলে নিয়াজুর রহমান (৬০), হারলার লাল মিয়ার ছেলে আবুল কালাম (৩৫), নাবাব আলীর স্ত্রী পারভিন আকতার (৩০), ছৈয়দাবাদের ফয়জুর রহমানের ছেলে জাগের হোসেন (৩৭) আহত হয়। আহতদেরকে চন্দনাইশ স্বাস্থ্য কপপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়।