নিউজটি শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে চাকরি দেওয়া ৪০ ভিক্ষুককে নিয়ে বিপাকে প্রশাসক

সিপ্লাস প্রতিবেদক: ভিক্ষাবৃত্তি ছাড়ার শর্তে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে (চসিক) চাকরি পাওয়া ৪০ ভিক্ষুককে গতকাল সোমবার চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ৯ বছর আগে তাদের চাকরি দেন বিএনপি সমর্থিত তৎকালীন মেয়র এম মনজুর আলম।

নগরীতে বিশ্বকাপ ক্রিকেট আয়োজন উপলক্ষে মূল সড়ক ভিক্ষুকমুক্ত রাখতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরে সাবেক মেয়র আ জ ম নাছিরের আমলে পরিচ্ছন্নতার কাজে নিযুক্ত করা হয় তাদেরকে। তবে এসব ভিক্ষুক শারীরিকভাবে পুরোপুরি সক্ষম না হওয়ায় কাজ করতে পারেন না অনেক ক্ষেত্রে। কাজে অনুপস্থিত থেকেও বছরের পর বছর বেতন পেয়ে যাচ্ছে তারা।

গতকাল সোমবার চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজনের অনুমোদনক্রমে কাজে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অফিস আদেশ জারি হয়। এতে স্বাক্ষর করেছেন চসিকের সচিব আবু শাহেদ।

এই বিষয়ে ভিক্ষুকরা জানায়, এপর্যন্ত আমাদের যা কাজ দেয়া হয়েছে আমরা তাই করেছি। ভিক্ষুক থেকে সুস্থ জীবনে ফিরেছি। ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা করাচ্ছি। এখন আবার ভিক্ষায় ফিরতে চাচ্ছি না।আমাদের যে কাজ দিবে আমরা সেই কাজই করবো। কাজে অনুপস্থিত থেকে বেতন নেওয়া ও ভিক্ষা করার বিষয়ে বলেন, আমরা নিয়মিত কাজ করছি এবং যদি কেউ বেতন নেওয়ার পরও ভিক্ষা করে তবে সিটি কর্পোরেশন থেকে তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।তাদের অপরাধে আমাদের ঢালওভাবে চাকরিচ্যুত কেনো করা হচ্ছে।

৯ বছর আগে নগরীকে ভিক্ষুকমুক্ত করার উদ্যোগ নেয় চসিক। তাই মূল সড়কের ২৫০ জন ভিক্ষুককে ৪ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। যাতে রাস্তায় ভিক্ষা না করে স্বাবলম্বী হতে পারেন তারা।

এছাড়াও আরো ৪৬ জন ভিক্ষুককে নিয়োগ দেওয়া হয় নগরীর মোড়গুলো ভিক্ষুকমুক্ত রাখতে। প্রথমে তাদের সিটি কর্পোরেশনের চতুর্থশ্রেণির কর্মচারী হিসেবে ৬ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হতো। ৯ বছরে চার দফায় সে বেতন বেড়ে হয়েছে ১০ হাজার ৭০০ টাকা। ২০১১ সালের ১৩ ফেব্রূয়ারি এসব ভিক্ষুকদের নিয়োগ দেন তৎকালীন বিএনপি সমর্থিত মেয়র এম মনজুর আলম। পরবর্তী সময়ে মেয়রের চেয়ারে রদবদল হয়ে দায়িত্বে আসেন আ জ ম নাছির উদ্দীন।

তিনি এসব ভিক্ষুকদের পরিচ্ছন্নতা বিভাগে কাজ দেন। ডোর টু ডোর কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত বর্জ্যের কন্টেইনার পাহারা দেওয়া তাদের কাজ ছিল। যাতে কেউ বর্জ্য ফেলতে আসলে ঠিকমত ডাস্টবিনের বাইরে না ফেলেন। কিন্তু ভিক্ষুক থেকে পরিচ্ছন্নকর্মীতে পরিণত হওয়া শ্রমিকরা ঠিকমত দায়িত্ব পালন করেননি বলে অভিযোগ আছে। ঠিকমতো কাজ না করলেও বেতন হয়েছে নিয়মিত। শুরুতে এসব শ্রমিকদের বেতন ছিল ৬ হাজার টাকা। পরে ১২শ টাকা বেড়ে হয় ৭ হাজার ২শ টাকা। তৃতীয় ও চতুর্থ দফা বেড়ে হয় ১০ হাজার ৭০০ টাকা।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন গতবছরের ডিসেম্বরের ২২ তারিখ বলেন, ভিক্ষুক নিরসনের জন্য উদ্যোগ নিয়ে কাজ দেওয়া হয়েছে।তারা কাজে অনুপস্থিত কিন্তু বেতন হচ্ছে নিয়মিত। আবার বেতনও নিচ্ছে ভিক্ষাও করছে।

তিনি আরও বলেন, জনগনের কষ্টার্জিত ট্যাক্সের টাকা আমি নয়-ছয় হতে দিবো না।বিগত ৭বছরে সাড়ে ৩ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে কিন্তু তাদের কাজে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোজাম্মেল হক সিপ্লাসকে বলেন, গত কয়েকবছর তাদের কোনও কাজেই দেখা যায়নি। এখন চাকরি চলে যাওয়ার পর তাদের দেখা যাচ্ছে। বসিয়ে বসিয়ে তাদের কোন টাকাই দেয়া হবে না চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে।