নিউজটি শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে আইনজীবীর বিরুদ্ধে চেক চুরির অভিযোগ তদন্ত করছে আইনজীবী সমিতি

ছবি: সংগৃহীত

আদালত প্রতিবেদক: চট্টগ্রামে আদালতে বিচারাধীন নথি থেকে ২৮ কোটি টাকার চেক চুরির অভিযোগ চট্টগ্রামের এক আইনজীবি বিরুদ্ধে আদালতের আদেশে তদন্ত শুরু। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির।

মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) উক্ত বিষয়ে তদন্তের আদেশের চিঠি পেয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম জিয়া উদ্দীন।

নথি থেকে ২৮ কোটি টাকার চেক চুরির অভিযোগে আইনজীবীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে আইনজীবী সমিতিকে চিঠি দিয়েছেন আদালত। অভিযুক্ত আইনজীবীর নাম জোবায়ের আহমদ আওরঙ্গজেব। পঞ্চম যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে গত সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান আইনজীবী সমিতি বরাবর এই চিঠি দেন।

এই ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম জিয়া উদ্দীন সিপ্লাসকে বলেন,আমরা আদালতের ইস্যুকৃত চিঠি পেয়েছি। বিষয়টির তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুলত: গত বৃহস্পতিবার বিকেলে পঞ্চম যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন চেক প্রত্যাখ্যানের একটি মামলার নথি দেখতে আসেন জোবায়ের আহমদ আওরঙ্গজেব নামে এক আইনজীবী । নথির সব কাগজপত্রসহ অফিস সহায়কেরা আইনজীবীকে নথি দেখতে দেন। আইনজীবী নথি দেখে ফেরত দেওয়ার পর অফিস সহায়কেরা দেখতে পান নথিতে থাকা চেকটি নেই। তৎক্ষণাৎ বিষয়টি চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতি ও চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজকে জানানো হয়। পরে আদালতের বেঞ্চ সহকারী ওই আইনজীবীর সঙ্গে নগরের আগ্রাবাদে গিয়ে দেখা করেন। বেঞ্চ সহকারীকে ওই দিন রাত ১০ টার দিকে নথি থেকে চুরি করা চেক ফেরতও দেন ঐ আইনজীবী জোবায়ের আহমদ।

আদালত সুত্রে জানা যায়, গত সোমবার ( ১৩ সেপ্টেম্বর) চেক চুরির বর্ণনা দিয়ে পঞ্চম যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ মো. জহির উদ্দিন চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। উক্ত লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত আইনজীবী সমিতি বরাবরে উক্ত বিষয় তদন্তের জন্য আদেশের চিঠি পাঠান।

প্রসঙ্গত: শিল্পগ্রুপ এসএ গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসএ রিফাইনারি লিমিটেডের চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দীন ও তাঁর স্ত্রী ইয়াসমিন আলমের বিরুদ্ধে চেক প্রত্যাখ্যান (ডিজঅনার) হওয়ায় নগরের আগ্রাবাদ ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে ২০১৩ সালে ২৪ নভেম্বর আদালতে মামলা হয়। ২৭ কোটি ৯৭ লাখ ৮৮ হাজার ৭২ টাকার চেক প্রত্যাখ্যানের মামলায় দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয় পঞ্চম যুগ্ম চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে।

নথি থেকে চেক চুরির বিষয়ে জোবায়ের আহমদ আজ বিকেলে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিষয়টি সুরাহা হয়ে গেছে। আমার ক্লার্কসহ নথি দেখতে গিয়েছিলাম।’

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments