নিউজটি শেয়ার করুন

চকরিয়ায় ৬ ঘন্টার ব্যবধানে দুই খুন, আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পৃথক স্থানে ৬ ঘন্টার ব্যবধানে দুই ব্যক্তি খুনের ঘটনায় পুরো উপজেলা জুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে আতংক ও শঙ্কা বিরাজ করছে। উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে এলাকার সাধারণ জনগন ও সচেতন মানুষ।

গত ৫ অক্টোবর সকালে কৈয়ারবিল ইউনিয়নের হাফেজ মাওলানা রুহুল আমিন কে প্রকাশ্যে কুপিয়ে খুন করেছে এবং ঠিক একই দিন বিকালে উপজেলার সদর ঘোনা এলাকায় কৃষক জাহেদুল ইসলাম(২৫)কে গলাটিপে হত্যা করে। ঘটে যাওয়া খুনের ঘটনায় আইনশৃংখলা ও জীবনের নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়ে চিন্তিত সাধারণ লোকজন।

জানা গেছে, গত শনিবার উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায় জমির বিরোধ নিয়ে প্রতিপেক্ষের লোকজন কুপিয়ে হাফেজ মাওলানা রুহুল আমিন নামের এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে খুন করে।

একইদিন সন্ধ্যায় চিরিঙ্গা ইউনিয়নের সওদাগর ঘোনা এলাকায় গলাটিপে জাহেদুল ইসলাম নামের এক কৃষককে হত্যার ঘটনা ঘটে। দুই খুনের ঘটনায় থানায় পৃথক দুইটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সচেতন মহলের ধারণা,পারস্পরিক সমস্যা নিয়ে এলাকায় স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধির কাছে সুবিচার না পাওয়া, মামলার দীর্ঘসূত্রিতা, থানায় সালিশ বাণিজ্য ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে।

উপজেলার মাসিক আইনশৃংখলা মিটিংয়ে অপরাধ দমন বিষয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও ধীরগতির কারণে তা বাস্তবায়ন হয়না।

নাম না প্রকাশে একজন ভুক্তভোগী বলেন, বিশেষ করে জমির বিরোধ ও দখল-বেদখল নিয়ে এলাকায় হামলা, মামলা ও খুনখারাবি ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছ। এসব কারণে এলাকার আইন শৃংখলার অবনতি হচ্ছে। ভয়ে থাকে সাধারণ লোকজন।

তিনি আরো বলেন, থানা পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সচেতন হলে আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে অপরাধ কমানো যাবে।

এদিকে গত ৫ মাসে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৫ জনকে খুনের ঘটনা ঘটেছে। এসব খুনের নেপথ্যে রয়েছে জমির বিরোধ, বিচার না পাওয়া, বিচারের দীর্ঘসুত্রিতা, স্থানীয় পর্যায়ে সুবিচার না পাওয়ার শঙ্কা, থানায় সালিশ বাণিজ্যসহ নানা বিষয়।

চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “আমি যোগদানের পর থেকে আইনশৃংখলা টিক রাখার চেষ্টা করছি। তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক অপরাধ দমনে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইতিপূর্বে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি প্রণয়নের কাজ চলছে।”