নিউজটি শেয়ার করুন

গর্জনিয়ায় অপহৃত তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু

রামু প্রতিনিধি: রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের শাহ মোহাম্মদ পাড়া থেকে কথিত অপহৃত তরুণী সুমি আক্তার সূমির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার রাত ১০ টার দিকে জনপ্রতিনিধিদের মধ্যস্থতায় অপহরণকারী মোহাম্মদ নবীর বাড়ি থেকে বের করে গাড়িতে তোলার পরপরই সুমি ঢলে পড়ে স্বজনদের কোলে। পরে তাকে নাইক্ষ্যংছড়ি হাসপাতালের নিয়ে গেলে, কর্তব্যরত ডাক্তারর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সুমির মা খালেদা বেগম ও চাচা ছৈয়দ আলম জানান, সুমিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে, তার কাছে থাকা সম্পত্তি ও টাকার লোভো। তাই তারা ফাঁসির দাবী তুলেন অপহরণকারী মোহাম্মদ নবী ও মোহাম্মদ নবীর মা’র।

সূত্র আরো জানান, গত শুক্রবার গহীন রাতে সুমী আক্তার সুমিকে কৌশলে অপহরণ করে হাইস্কুল মুরায় নিয়ে যায় গর্জনিয়ার মটর বাইক ড্রাইভার ও দু’সন্তানের জনক মোহাম্মদ নবী নামের এক প্রতারক । সে জুয়াটেও ছিলো।

মো: নবীর বাড়িতে বর্তমানে ১ স্ত্রী ও ২ কন্যা শিশু রয়েছে।  পূর্বে আরো এক স্ত্রী ছিলো। তার নাম তাহমিনা। তাকে পরকিয়ার জের ধরে তালাক দেয় ওই মো: নবী। যা আরো ক’বছর আগে। তাকেও তুলে নিয়ে এনে বিয়ে করছিলো সে। আর দ্বিতীয় স্ত্রী হাসিনা।

মোহাম্মদ নবী স্ত্রী হাসিনা ও কন্যাদের বাড়িতে রেখেই প্রতিনিয়ত সুমিদের বাড়ির আশপাশে ঘুরে বেড়াতো ও জুয়া খেলতে যেতো ওই মো: নবী। সর্বশেষ করে সূমিকে অপহরণ। অপহরণকালে সুমির অনেক গুরুত্বপুূর্ণ কাগজ-পত্র নিয়ে যায় বলে দাবী করেন সুমির মা। সুমির পিতা ফারুখ আহমদ জানান, শুক্রবার রাতে সূমি প্রতিদিনকার ন্যায় তার বিছানা ঘুমিয়ে পড়ে। তারাও নিজ নিজ বিছানায়। ভোরে মেয়ে ঘুম থেকে উঠছে না ভেবে সুমির রুমে গিয়ে দেখে সুমি নেই-কোথাও নেই। তার পর একই দিন বিকেলে খোজঁপান সুমিকে বেঁধে রেখেছে অপহরণকারী মোহাম্মদ নবী। তারা প্রথমে মো নবীর কাছে, চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবুলকে ডেকে নিয়ে গিয়ে মো: নবীর কাছে ৩ শত টাকার স্টাম্প দিয়ে মেয়ে অপহৃতার হাত থেকে উদ্ধার করে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। সূমিকে মোহাম্মদ নবীর বাড়ী থেকে নিয়ে আসার পথে সুমি মারা যায়।

গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মোঃ ফরহাদ আলী বলেন, সূমি আক্তার কেন কীভাবে মারা গেছে তা জানা যাবে ময়নাতদন্তে রিপোর্টের পর, সূমির লাশ কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে সূমির পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, সূমির সন্ধান পাওয়ার পর গ্রাম পুলিশ বা কোন দায়িত্বশীল পক্ষ গর্জনিয়া ফাঁড়ি পুলিশকে খবর দিলে সূমি মারা যেতনা। তাদের সন্দেহ শুক্রবার রাতে সুমিকে তুলে নিয়ে গিয়ে একটি অন্ধকার কক্ষে মোহাম্মদ নবী ও সূমিকে কারা আবদ্ধ করে রেখেছিল, কেনইবা ঘন্টার পর ঘন্টা পুলিশকে খবর না দিয়ে নিজেরা সমধানের চেষ্টা করল প্রশ্ন? তাদের। তারা এ ঘটনায় বিভাগীয় তদন্তের দাবী জানায়।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযোক্ত মোহাম্মদ নবীর বক্তব্য নিতে, স্কুল মুরার বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, তারা ঘটনার পর থেকে বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন।